<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537</id><updated>2012-01-29T14:52:04.308+04:00</updated><category term='অণুগল্প'/><category term='কবিতা'/><category term='অনুবাদ গল্প'/><category term='E-Book'/><title type='text'>কিছুই যাবে না ফেলা !</title><subtitle type='html'>© মোসতাকিম রাহী</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>21</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-6725292729558711188</id><published>2010-05-16T02:54:00.002+04:00</published><updated>2010-05-18T03:26:35.280+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>সুখী মানুষের ঢোল লাগে না</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;সুখী মানুষের ঢোল লাগে না&lt;br /&gt;পেটাতে হয় না জনারণ্যে:&lt;br /&gt;"আমি সুখী! আমি সুখী!"&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;সুখী মানুষের মুখে থাকে স্মিত হাসি&lt;br /&gt;দৃষ্টিতে অপার মমতা তাবৎ সৃষ্টির প্রতি!&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size: x-small;"&gt;&lt;u&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;আবুধাবি : ১৫ মে ২০১০&lt;/span&gt;&lt;/u&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-6725292729558711188?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/6725292729558711188/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=6725292729558711188&amp;isPopup=true' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/6725292729558711188'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/6725292729558711188'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/05/blog-post.html' title='সুখী মানুষের ঢোল লাগে না'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-1019262195873601677</id><published>2010-03-19T03:08:00.003+04:00</published><updated>2010-10-25T08:09:41.137+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>তুষার - পাউস্তোভস্কি</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://n-sladkov.ru/images/stories/paustovsky/paustovsky4.jpg" imageanchor="1" style="clear: left; float: left; margin-bottom: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="133" src="http://n-sladkov.ru/images/stories/paustovsky/paustovsky4.jpg" width="200" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;তুষার&lt;br /&gt;মূল: কনস্তান্তিন পাউস্তোভস্কি&lt;br /&gt;রূপান্তর: মোস্‌তাকিম রাহী&lt;br /&gt;-----&lt;br /&gt;দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের কথা। তরুণী তাতিয়ানা পেত্রোভনা এবং তার মেয়ে ভারভারা যুদ্ধের সহিংসতা থেকে বাঁচার জন্যে অন্য অনেক শরণার্থীদের সাথে মস্কো থেকে চলে আসে ছোট একটি প্রাদেশিক শহরে। আশ্রয় নেয় বুড়ো পোতাপভের বাড়িতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওরা আসার মাসখানেক পরেই মারা যান পোতাপভ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথম দিকে অনুন্নত এই শহরটি পছন্দ না হলেও ধীরে ধীরে তাতিয়ানার শহরটি ভালো লাগতে শুরু করে। বিশেষ করে পুরো শহর যখন ধবল তুষারে ঢেকে যায়, তখন তাতিয়ানার খুবই ভালো লাগে। অদ্ভুত কিছু জিনিসপত্রে ঠাসা বুড়ো পোতাপভের বাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে তাতিয়ানা। পোতাপভের একমাত্র ছেলে এখন কৃষ্ণসাগরে নৌবহরে কর্মরত। বাড়ির দেয়ালে টাঙানো ছেলেটার ছবির দিকে যখন চোখ পড়ে তাতিয়ানার, মনে হয় বহুদিন আগে এই ছেলেটার সাথে কোথাও তার দেখা হয়েছে; যখন তার অসুখী দাম্পত্যকাল শুরু হয় নি; কিন্তু সে মনে করতে পারে না ঠিক কোথায়, কোন জায়গায় দেখা হয়েছে এই যুবকের সাথে!&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চিঠি আসতে শুরু করে পোতাপভের নামে, সবগুলো খামের ঠিকানা একই হাতের লেখা। তাতিয়ানা চিঠিগুলো পোতাপভের টেবিলে সযত্নে ভাঁজ করে রাখে। একরাতে, যখন বাইরে তুষার পড়ছে অঝোরে, ঘুম আসছিলো না তাতিয়ানার। বারবার চোখ যাচ্ছিলো টেবিলে রাখা চিঠিগুলোর ওপর। কৌতুহল দমন করতে না পেরে শেষে একটা চিঠি খুলে ফেলে সে। চিঠিটা পোতাপভের ছেলে নিকোলাই এর লেখা। জানাচ্ছে, আহত হয়ে এখন সে হাসপাতালে আছে, সুস্থ হয়ে ছাড়া পেতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রি। এরপরই সোজা বাড়ি চলে আসবে বাবাকে দেখতে। ফিরে এসে ঘরের অবস্থা কেমন আশা করে সেটাও লিখেছে চিঠিতে। সে আশা করছে, তুমুল তুষারপাত হলেও তাদের বাড়ির সামনের বড় গাছতলা পর্যন্ত পথটা পরিষ্কার করা থাকবে! পুরনো পিয়ানোটা শেষমেষ ঝেড়েমুছে ঠিকঠাক করে রাখা হবে এবং সবসময়ের মতো তাতে চিকোভস্কির 'দ্য কুইন অভ স্পেইড্স্' বাজবে। বাতিদানে থাকবে জ্বলন্ত মোমবাতি । সে আরও বিস্মিত হবে তাদের দোরঘন্টি ঠিকঠাক কাজ করছে দেখে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাতিয়ানা বুঝতে পারলো,যে-কোনো দিন বুড়োর ছেলে ফিরে আসতে পারে। আর এসে যদি দেখে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিসগুলো একটাও জায়গা মতো নেই, তার ওপর অচেনা দুজন মানুষ দখল করে আছে তাদের বাড়ি, তখন সে খুবই কষ্ট পাবে। পরদিন সকালে, তাতিয়ানা আর ভারভারা মিলে বাড়ির সামনের পুরনো গাছতলা পর্যন্ত রাস্তাটা পরিষ্কার করে রাখলো। দোরঘন্টিটা মেরামত করে একজন লোক ডেকে নিয়ে আসলো পিয়ানোটা ঠিক করার জন্যে। মোমবাতি খুঁজে নিয়ে সে বাতিদানে বসিয়ে তৈরি করে রাখলো। ভারভারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো কেন সে অন্যের জিনিসপত্র এভাবে নাড়াচাড়া করছে, আর তাকে করতে না দিয়ে সে কেন করছে! তাতিয়ানা তাকে জানালো এসব ছোটদের কাজ নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিকোলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে রেলস্টেশন এসে পৌঁছুলো। মনে আশা, তার বাবাকে স্টেশনে দেখতে পাবে। কিন্তু স্টেশনমাস্টারের কাছে তার বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে খুবই ব্যথিত হলো সে। তার ছুটির মেয়াদ চব্বিশ ঘন্টাও নয়, তাই আর শূন্য বাড়িটাতে তার যেতে ইচ্ছে করলো না; ভাবলো বাইরে থেকে এক চক্কর বাড়িটা দেখে কাজে ফিরে যাবে। কিন্তু বাড়ির সামনে পৌঁছে যখন সে দেখতে পেল পুরনো গাছতলা অবধি তাদের রাস্তাটা কেউ পরিষ্কার করে রেখেছে, সে খুবই অবাক হলো। চিন্তিত মুখে সে দাঁড়িয়ে রইলো তুষারে পা ডুবিয়ে। এমন সময় কাঁধে কোমল একটা হাতের স্পর্শ পেয়ে পেছন ফিরে দেখলো তরুণী একটা মেয়ে তাকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাড়ির ভেতর আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো নিকোলাইয়ের জন্যে। দোরঘন্টি কাজ করছে, পিয়ানো, মোমবাতি সবকিছু তার চাহিদা মতো সাজিয়ে রাখা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাতমুখ ধুয়ে নিকোলাই চা খেলো তাতিয়ানাদের সাথে। বাবার ব্যাপারে জানতে চাইলো অনেক কিছু। গল্প করলো অনেক রাত পর্যন্ত। তাতিয়ানা নিকোলাইকে বললো, সে যেন কোথাও দেখেছে নিকোলাইকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাতিয়ানা আর ভারভারা মিলে ঝেড়েমুছে সোফা ঠিকঠাক করে দিলো নিকোলাইয়ের শোয়ার জন্যে। কিন্তু সে ঘুমোতে চাইলো না, জানালো, প্রতিটা মুহূর্ত বাবার হাতে গড়া এই বাড়িটার স্পর্শ নিয়ে কাটাতে চায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরদিন ভোরে স্টেশন অবধি নিকোলাইকে এগিয়ে দিলো তাতিয়ানা। ট্রেনে ওঠার আগমুহূর্তে তাতিয়ানা নিকোলাইকে চিঠি লেখার অনুরোধ জানালো, আরও বললো, এখন তারা অনেকটা আত্মীয়ের মতোই , চিঠি লিখলে সে খুব খুশি হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিছুদিন পর নিকোলাইয়ের চিঠি পেলো তাতিয়ানা। নিকোলাই জানাচ্ছে, সে এখন মনে করতে পারছে ঠিক কোথায় দেখা হয়েছিলো তাদের। এটা ১৯২৭ সালের কথা,ক্রিমিয়ার একটা পার্কে হাঁটছিলো নিকোলাই, একটা মেয়ে বই হাতে বসে ছিলো পার্কেরই একটা বেঞ্চে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটা উঠে দাঁড়ায় এবং তার পিছুপিছু হাঁটতে থাকে। একসময় নিকোলাই দাঁড়িয়ে মেয়েটার দিকে তাকায় এবং অনুভব করে এই সে মেয়ে, যে তার জীবনটা পাল্টে দিতে পারে। তার জীবনে বয়ে আনতে পারে অনাবিল সুখ। নিয়তিই এই মেয়েকে তার কাছে পাঠিয়েছে, কিন্তু সে-সময় মেয়েটাকে সে অনুসরণ করতে পারে নি। এখন আবার নিয়তিই মেয়েটাকে তার কাছে পাঠিয়েছে। মেয়েটা যদি চায়, নিকোলাই তার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত মেয়েটার জন্যে। বাবাকে লেখা চিঠিটা নিকোলাই দেখেছে টেবিলের ওপর পড়ে ছিলো খোলা অবস্থায়, সে তাতিয়ানাকে ধন্যবাদ জানালো বাবাকে করা সবগুলো অনুরোধ সে রক্ষা করেছে বলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চিঠিটা হাত থেকে নামিয়ে রাখলো তাতিয়ানা। আর মনেমনে ভাবতে লাগলো: আমি জীবনেও কোনোদিন ক্রিমিয়া শহরে যাইনি, কিন্তু তাতে কি কিছু আসে যায়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;********&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখক পরিচিত: রেলপথ সংখ্যাতত্ত্ববিদ পিতা এবং বুদ্ধিজীবী পোলিশ পরিবার থেকে আগত মায়ের সন্তান কনস্তান্তিন জর্জিয়েভিচ পাউস্তোভস্কি। জন্মেছিলেন ১৮৯২ সালের ৩১ মে অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহরে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিশ্বসাহিত্য পাঠকদের কাছে সুপরিচিত এই ভাষাশিল্পী অবদান রেখেছেন সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই; কবিতা-নাটক-গল্প-উপন্যাস থেকে শুরু করে সাহিত্যসংকলন সম্পাদনা, চলচ্চিত্রের জন্যে চিত্রনাট্য এমনকি রূপকথা পর্যন্ত লিখেছেন। রুশ,পোলিশ এবং ইউক্রেনীয়, এই তিনটি ভাষায় তাঁর ছিলো অসামান্য দখল। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্যে এই মহান লেখক নোবেল পুরস্কারের জন্যে মনোনীত হন ১৯৬৫ সালে; কিন্তু সোভিয়েত কর্তাদের অসন্তোষের কারণে তিনি বঞ্চিত হন পুরস্কারপ্রাপ্তি থেকে। তাঁর পরিবর্তে সেবছর নোবেল পুরস্কার দেওয়া মিখাইল শলোখভকে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৬৬ সালে পুনঃস্তালিনীকরণের বিরোধিতা করে কমিউনিস্ট পার্টির ২৩তম সম্মেলেনে বিজ্ঞান ও শিল্পকলা'র যে ১২৫ জনেরও বেশি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের স্বাক্ষল সম্বলিত চিঠি প্রেরণ করা হয়, পাউস্তোভস্কি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে স্টোরি অভ লাইফ, স্নো, ক্রসিং শিপ্‌স, দ্য ব্ল্যাক সি, সামার ডেইজ, দ্য রেইনি ডউন এবং স্টিল রিং উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৮ সালের চোদ্দ জুলাই মস্কো শহরে মৃত্যুবরণ করেন এই প্রতিভাবান ভাষাশিল্পী। তাঁর Snow গল্পটির বাংলা রূপান্তর এখানে পত্রস্থ করা হলো।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-1019262195873601677?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/1019262195873601677/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=1019262195873601677&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1019262195873601677'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1019262195873601677'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/03/blog-post_19.html' title='তুষার - পাউস্তোভস্কি'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-1375831807958298927</id><published>2010-03-06T04:08:00.008+04:00</published><updated>2010-03-16T02:51:38.341+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>সম্রাট মারা গেছেন!</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 16px;"&gt;শামসুর রাহমানের স্মৃতির উদ্দেশে&lt;br /&gt;----&lt;br /&gt;মুমূর্ষু সুন্দরীর মুখের মতো ফ্যাকাসে, বিবর্ণ আকাশটা হাঁ করে আছে মাথার ওপর, শত্রুতায়! এই বহুবিধ ফাঁদে ভরা জঙ্গলে পথ দেখানোর মতো একটিও নক্ষত্র নেই আকাশে; শুধু একাধিক চাঁদ আকাশ দখলের লড়াইয়ে মত্ত মাথার ওপরে। জ্যোৎস্নার বদলে তারা শুধু তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়! এইমাত্র দেহত্যাগ করলেন জ্যোৎস্নাভুক প্রাজ্ঞ সম্রাট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জঙ্গল পেরিয়ে সাগর, সাগরের ওপারে দুর্গম পাহাড়ি কোনো টানেলে চাপা পড়ে আছে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি! সে-পথ জানা ছিলো শুধু সম্রাটের! সম্রাট মারা গেছেন, এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস আর অগাধ জ্ঞানের বিশাল ভান্ডার আলেকজান্দ্রিয়া। এই শ্বাপদসঙ্কুল জঙ্গলে আমরা ঘুরে মরছি সম্রাটের শব কাঁধে: বেরোবার পথ জানা নেই!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(১৭ অগাস্ট,২০০৬: আবুধাবি)&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-1375831807958298927?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/1375831807958298927/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=1375831807958298927&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1375831807958298927'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1375831807958298927'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/03/blog-post.html' title='সম্রাট মারা গেছেন!'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-7029429156984241994</id><published>2010-02-28T03:53:00.005+04:00</published><updated>2010-03-12T02:49:33.311+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>মণিয়া -- অমৃতা প্রীতম</title><content type='html'>&lt;span style="font-family: inherit; font-size: small;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; font-family: inherit; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://farzana.files.wordpress.com/2008/09/poetess-amrita-pritam-2.jpg" imageanchor="1" style="clear: left; float: left; margin-bottom: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="200" src="http://farzana.files.wordpress.com/2008/09/poetess-amrita-pritam-2.jpg" width="140" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;b&gt;মূল: অমৃতা প্রীতম&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রূপান্তর: মোস্‌তাকিম রাহী&lt;br /&gt;------&lt;br /&gt;সন্ধ্যা নামছে। দোরঘন্টির আওয়াজ শুনে বিদ্যা বুঝতে পারলো তার স্বামী জয়দেব কাজ থেকে ফিরেছে। দরোজা খুলে অবাক হয়ে গেলো সে। জয়দেবের সাথে অচেনা, অদ্ভুতদর্শন এক লোক দাঁড়িয়ে আছে।  ময়লা উদোম শরীর, গলায় লম্বা একটা জামা পেঁচিয়ে বাঁধা। বিদ্যা কিছু না বলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার স্বামীর দিকে তাকালো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়দেব মুচকি হেসে বউকে কিছু না বলে, লোকটার উদ্দেশে বললো, ‘ইনি হলেন, এবাড়ির কর্ত্রী। খুব ভালো মহিলা। যদি তোমার কাজকর্ম দিয়ে তাকে খুশি করতে পারো, তাহলে তোমার কপাল খুলে যাবে!’&lt;br /&gt;ঘরের ভেতর ঢুকতে ঢুকতে বারান্দায় পড়ে থাকা একটা চাটাই দেখিয়ে জয়দেব লোকটাকে বললো, ‘ওটা বিছিয়ে বিশ্রাম করো, আর মুখহাত ধুয়ে নাও।’&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;শোবার ঘরের দিকে যেতে যেতে এবার বিদ্যাকে বলতে লাগলো,‘তুমি এতোদিন ধরে কাজের লোকের কথা বলছিলে, রান্নাবান্নার কাজ না জানলেও যেন সৎ হয়, এমন কেউ।’&lt;br /&gt;‘তাই বলে যে-কাউকে ধরে নিয়ে আসবে? কোথায় পেয়েছো এটাকে?’ বিদ্যার কন্ঠে অসন্তোষ।&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আস্তে বলো!’ জয়দেব খাটের ওপর বসতে বসতে বললো। ‘মনু কোথায়?&lt;br /&gt;‘খেলতে গেছে, এতোক্ষণে ফিরে আসছে বোধহয়। কিন্তু এই লোকটা...’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়দেব তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো,‘মনুকে কিছু কথা বলা দরকার। এই লোকটা খুব সহজ সরল, একটাই শুধু সমস্যা, বাচ্চাদের খুব ভয় পায়। আমাদের দপ্তরের শর্মাবাবুর ওখানে কাজ করতো। শর্মাবাবু একে খুব পছন্দ করতেন, কিন্তু তাঁর বাচ্চাগুলো খুবই দুরন্ত। মা-বাবার বশে থাকার পাত্র নয় একটাও। পাঁচ পাঁচটা ছেলেমেয়ে তার, একটার চেয়ে একটা শয়তান! খুব বেশি লম্বা বলে বাচ্চাগুলো তাকে তালগাছ বলে খেপাতো। আর শর্মাবাবুর স্ত্রীও ছিলেন বদমেজাজি। অনেকবার সে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে, কিন্তু যাবে কোথায়? তার যাওয়ার কোনো জায়গাই নেই, আবার তাকে সেখানেই ফিরে আসতে হতো।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কিন্তু তাই যদি হয়, লোকটা কি কোনো কাজ শিখতে পারবে?’ বিদ্যার সন্দেহভরা জিজ্ঞাসা।&lt;br /&gt;‘আপাতত ঘরের টুকটাক কাজগুলো করাও, সাফসাফাই-বাসনকোসন ধোওয়ার কাজে লাগাও। আর মনুকে ভালোমতে বুঝিয়ে দাও, সে যেন ওর সাথে কোনো দুষ্টুমি না করে। পরে দেখবো কী করা যায়! আমাকে এককাপ চা দাও, আর লোকটাকেও দাও এককাপ।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা জয়দেবের ধুয়ে রাখা পুরনো কাপড় থেকে একজোড়া ফতুয়া-পাজামা, একটা পুরনো তোয়ালে আর একটুকরো সাবান নিয়ে লোকটার কাছে গেলো। কাপড়গুলো দেওয়ার পর বিদ্যা তাকে জিজ্ঞেস করলো,‘কী নাম তোমার?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোনো জবাব নেই। বিদ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বললো,‘উঠোনের পাশে দেয়ালের সাথে পানির কল আছে, ওখানে গিয়ে সাবান ডলে ভালো মতো গোসল করে নাও,তারপর কাপড়গুলো পরো।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবারও কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না অন্যপক্ষের। মাথা নিচু করে বসেই রইলো লোকটা। ভয়ে ভয়ে একবার তাকালো বিদ্যার দিকে, তারপর আবার যে কে সেই! বিদ্যার হাত থেকে কাপড়ও নিলো না, বসা থেকেও উঠলো না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমন সময় জয়দেব এসে বললো,‘মণিয়া, ওঠো! বেগম সাহেবা যা বলছেন করো, কাপড় নাও আর ওখানে গিয়ে গোসল করে এসো।’&lt;br /&gt;পাশ থেকে হেসে উঠলো বিদ্যা,‘তোমার নাম তো খুব সুন্দর, মণিয়া!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো বসা থেকে। বিদ্যার হাত থেকে চুপচাপ কাপড়-তোয়ালে আর সাবান নিয়ে বিদ্যার নির্দেশিত কলতলার উদ্দেশে হাঁটা ধরলো।&lt;br /&gt;বিদ্যা রান্নাঘরে গিয়ে চা বানালো। বড়ো একটা গ্লাসে মণিয়ার জন্যে রেখে বাকি দু’কাপ চা নিয়ে শোবার ঘরের দিকে গেলো। আর মণিয়া যখন গোসল সেরে কাপড় পরে রান্নাঘরে এলো, বিদ্যা ওকে চায়ের কাপ দিতে দিতে অবাক হয়ে তাকালো। মুচকি হেসে চলে গেলো বড়োঘরে। জয়দেবকে গিয়ে বললো,‘ একটু এসে দেখে যাও তো মণিয়াকে, তুমি চিনতেই পারবে না! খুব সুন্দর লাগছে ওকে, আর বয়সও তো খুব বেশি না! আমি ভেবেছিলাম বুড়ো মানুষ বোধহয়!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কয়েকদিনের মধ্যে বিদ্যা সন্তুষ্টির সাথে জয়দেবকে বলতে লাগলো, ‘খুব সাদাসিধে লোক, কোনো কথার অবাধ্য হয় না! চুপচাপ থাকে ঠিকই, কিন্তু কাজও করে ভূতের মতো, সারাদিন ঘরের সাফসাফাইয়ে লেগে থাকে। মনুর সাথে একটু আধটু কথাও বলে আজকাল। মনু তাকে তার বইয়ের ছবিটবি দেখালে খুব খুশি হয়। কিন্তু একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি না, মণিয়া একা কোথাও বসলেই বিড়বিড় করে নিজের সাথে কথা বলতে শুরু করে। মনে হয় মাথায় একটু দোষ আছে...’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘরের সাথে লাগোয়া একটা নিমগাছ আছে। যখন মণিয়ার কোনো কাজ থাকে না, সে গাছটার নিচে গিয়ে বসে। আর তখন যদি কোনো লোক পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, দেখতে পায়, মণিয়া বিড়বিড় করে কার সাথে যেন কথা বলছে, তাও আবার রাগের সাথে! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা ধরতে পারছিলো না ব্যাপারটা। একদিন মোটা নিমগাছটার আড়ালে দাঁড়িয়ে বিদ্যা শুনতে পেলো, দুঃখ আর ক্ষোভের সাথে মণিয়া কাকে যেন বলছে, ‘সব কাজ নিজেই করে, আমাকে কিছু করতে দেয় না! কীভাবে শাক-সবজি পাকাতে হয় আমাকে কিছুই শেখায় না; আটা পর্যন্ত মাখতে দেয় না..’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা আর থাকতে পারলো না, শব্দ করে হেসে উঠে গাছের আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে এলো। মণিয়াকে বললো,‘মণিয়া, তুই রান্না করা শিখবি? আয় আমার সাথে, তোর যে শিখতে ইচ্ছে করে আমাকে বলিস নি কেন? কার কাছে নালিশ করছিস?’&lt;br /&gt;মণিয়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিমের ঝরাপাতা কুড়োতে লাগলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া শাক-সবজি রাঁধা শিখে গেলো, আর সেই সাথে হাটে গিয়ে বাজারও করতে শুরু করলো। একদিন ঢেঁড়স আনতে গিয়ে মণিয়া প্রায় একঘন্টা পার করে ফিরলো, হাতে ছোটো ছোটো তাজা ঢেঁড়স! এমন ভাবে সে দম ফেলছিলো, যেন অনেকদূর থেকে দৌড়ে এসেছে! এসেই হড়বড় করে বলতে শুরু করলো,‘দেখুন আম্মা, কতো সুন্দর তাজা ঢেঁড়স এনেছি। আামাদের বাজার থেকে না, ঐ দূরের বড়ো বাজার থেকে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা ঢেড়সগুলো ধুয়ে চালুনিতে শুকোতে দিলো। তারপর মণিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,‘ঢেড়সগুলো তো বেশ ভালো রে মণিয়া, কোত্থেকে নিয়ে এলি?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া বললো,‘এই বাজারের যে-লোকটার কাছ থেকে আপনারা সবজি কেনেন লোকটা খুব খারাপ। তার কাছে যে-ঢেঁড়সগুলো আছে তা মোটেও ভালো না, বাসি আর পোকায় খাওয়া। লোকটা সেখান থেকেই আমাকে গছাতে চাইছিলো, সাথে বিষও দিতে চাইছিলো!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘বিষ!’ বিদ্যা চমকে উঠলো! মণিয়ার দিকে চোখ বড়ো বড়ো করে চেয়ে রইলো। জানতে চাইলো,‘লোকটা তোকে বিষ দিতে চাইছিলো কেন?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া তাড়াতাড়ি বললো,‘যাতে আমি তার পঁচা ঢেঁড়সগুলো নিয়ে আসি। আরো বললো, যদি প্রতিদিন তার ওখান থেকে সবজি কিনি, তাহলে আমাকে কুড়ি পয়সা করে দেবে। এধরণের পয়সা বিষই হয়...’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা হাঁ করে মণিয়ার দিকে চেয়ে রইলো। বললো, ‘কে বলেছে তোকে যে, এধরণের পয়সা বিষের মতো?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া খুশি খুশি গলায় বললো,‘মা বলেছিলো, যখন আমি ছোটো ছিলাম। একবার একটা লোক আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বলেছিলো আরেকজনের বাগান থেকে আম চুরি করে আনতে। আমিও চুরি করে এনেছিলাম; লোকটা আমাকে আট আনা দিয়েছিলো। আর আমি যখন মাকে গিয়ে সেই পয়সা দিলাম, মা বললো, ‘এই বিষ খাওয়ার দরকার নেই, যার পয়সা তাকে দিয়ে আয়। আর কখনো অন্যের কথা ধরে চুরি করবি না!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা মমতাভরা চোখে মণিয়ার দিকে চেয়ে রইলো। জিজ্ঞেস করলো, ‘তোর মা এখন কোথায়? তাকে ছেড়ে তুই শহরে এলি কেন?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা’র কথা শুনে মণিয়া চুপ হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বললো,‘আমার মা নেই, মরে গেছে! গ্রামে আমার কেউ নেই!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিন যেতে লাগলো। বিদ্যার মনে হলো এ বাড়িতে মণিয়ার মন বসে গেছে, ওদের ছেড়ে মণিয়া কোথাও যাবে না। বিশেষ করে মনুর জন্যে তার খুব টান। সুযোগ পেলেই মনুকে কাছে বসিয়ে সে গল্প শোনায়। একবার রাগ করে মনু কী কারণে যেন রুটি খেলো না, বিদ্যা লক্ষ্য করলো মণিয়াও সেদিন আর কিছু মুখে দেয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক সন্ধ্যায় বিদ্যা আলমারি খুলে একটা সবুজ কামিজ বের করলো পরদিন সকালে সেটা পরে তাকে এক জায়গায় যেতে হবে বলে। বের করার পর সে দেখতে পেলো জামাটা কুঁচকে আছে। তাড়াতাড়ি মণিয়াকে ডেকে বললো,‘জলদি গিয়ে এটা ইস্তিরি করে নিয়ে আয়, বিন্দিয়াকে বলবি এক্ষুনি করে দিতে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া গেলো ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ফিরে এলো; মুখভার! কামিজটা খাটের ওপর রেখে দিলো চুপচাপ।&lt;br /&gt;বিদ্যা জিজ্ঞেস করলো,‘কী ব্যাপার, ফিরে এলি কেন?’&lt;br /&gt;‘ও করে দেয়নি,’ এটুকু বলে মণিয়া তাড়াতাড়ি রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। থালা-বাসন নিয়ে ধুতে লাগলো।&lt;br /&gt;বিদ্যা বললো, ‘দিলো না কেন? তুই বলিস নি জরুরি দরকার? যা গিয়ে বিন্দিয়াকে ডেকে নিয়ে আয়।’&lt;br /&gt;মণিয়া কিছু না বলে চুপচাপ নিজের কাজ করে যেতে লাগলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা আবার বলতে গেলে মণিয়া বলে উঠলো,‘সাহেব আসার সময় হয়েছে, আমাকে আটা মাখতে হবে। চাল-ডাল কিছুই এখনো রান্না হয় নি। মনু ভাইজানের জন্যে হালুয়াও বানাতে হবে। আর...’&lt;br /&gt;বিদ্যা হাঁ করে মণিয়ার দিকে চেয়ে রইলো। আজ হয়েছে কী মণিয়ার! আজ পর্যন্ত সে কোনো কাজ করতে কখনো অনীহা প্রকাশ করে নি। বিদ্যা এবার কড়া গলায় বললো,‘রান্নার কাজ আমি দেখছি, তুই যা, বিন্দিয়াকে ডেকে নিয়ে আয়।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া বাসনগুলো এলোমেলো ফেলে রেখে উঠলো যাওয়ার জন্যে। গিয়ে ফিরেও এলো খুব দ্রুত। বললো,‘আসছে না সে, আমি বলেছি!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাথা নিচু করে আবার চুপচাপ বাসন মাজতে লাগলো।&lt;br /&gt;বিদ্যা কিছু বুঝতে পারছিলো না। হলো কী আজ বিন্দিয়ার! সে তো এরকম কখনো ছিলো না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমন সময় দরোজার দিক থেকে নূপুরের আওয়াজ শোনা গেলো। একটু পর বিন্দিয়া হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকে বললো,‘বড়ো মা,আপনি আমাকে কামিজটা দিন, এখুনি ইস্তিরি করে নিয়ে আসছি!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কিন্তু হয়েছেটা কী?’ বিদ্যা জিজ্ঞেস করলো বিন্দিয়াকে।&lt;br /&gt;‘মণিয়াকে জিজ্ঞেস করুন!’ বিন্দিয়া হাসতে হাসতে উত্তর দিলো।&lt;br /&gt;‘সে তো কিছুই বলছে না!’ &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা কামিজ নিয়ে বিন্দিয়াকে দিলো। তারপর মণিয়ার দিকে ফিরে বললো,‘কী রে মণিয়া, তুইতো বলছিলি বিন্দিয়া ইস্তিরি করতে চায় নি, আর এখন দেখ্, সে নিজেই কাপড় নিতে এসেছে!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জবাবে কিছুই বললো না মণিয়া, ফিরেও চাইলো না। এদিকে বিন্দিয়া হেসে লুটিয়ে পড়ছে, হাসতে হাসতে এবার বললো,‘আমি বলছি, বড়ো মা, তেমন কিছুই হয় নি। মণিয়া যখনই কাপড় নিয়ে আসতো দুষ্টুমি করে আমি তাকে বলতাম, দেখ্, অনেক কাপড় পড়ে আছে, তোর গুলো পরে করে দেবো। আর যদি এখনই করাতে চাস তাহলে তোকে একটু নেচে দেখাতে হবে!’ আর ও সানন্দে রাজি হয়ে যেতো। আর আমি অন্য কাজ বাদ দিয়ে আপনার কাপড় ইস্তিরি করে দিতাম। আজ কী হয়েছে কে জানে, যখন আমি ওকে নাচতে বললাম,ও দৌড়ে চলে এলো। আমি আসলে ওকে নাচানোর জন্যে বলেছিলাম যে, কাপড় ইস্তিরি করবো না।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা চুপচাপ শুনছিলো আর হাসছিলো একটু একটু। বললো,‘তারপর?’&lt;br /&gt;‘তারপর আর কী, আজ মা ওকে একটা লাড্ডুও দিয়েছিলো খেতে, কিন্তু সেটাও ফেলে এসেছে সে ওখানে।’&lt;br /&gt;‘কিসের লাড্ডু দিয়েছিলো তোর মা ওকে?’&lt;br /&gt;এপ্রশ্নে কিছুটা লজ্জা পেয়েছে মনে হলো বিন্দিয়াকে। লাজুক হেসে বললো,‘আজ আমার বিয়ের কথা হয়েছে, সেই লাড্ডু ওকে খেতে দিয়েছিলো মা।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাপড় নিয়ে চলে গেলো বিন্দিয়া। কিছুক্ষণ পর ইস্তিরি করে নিয়েও এলো। তারপর যাওয়ার সময় মণিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,‘কী রে মণিয়া, কী হয়েছে তোর আজ? রাগ করেছিস কেন?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া কোনো জবাব দিলো না, চুপচাপ অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাতে সবার খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর মনু প্রতিদিনের মতো মণিয়াকে ডেকে তার বই থেকে ছবি দেখাতে লাগলো। কিন্তু মণিয়া এমনভাবে সবার দিকে তাকাচ্ছিলো যেন সে কাউকে ঠিকমতো চিনতে পারছে না!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকালের চা মণিয়াই সবার ঘরে পৌঁছে দেয়,সূর্য ওঠার আগেই! কিন্তু আজ খিড়কি গলে সূর্যের আলো ঘরে ঢোকার পরও মণিয়ার দেখা নেই! বিদ্যা অবাক হয়ে তড়িঘড়ি উঠে বসলো। রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো ওখানে মণিয়া নেই। জয়দেবও বিদ্যার পিছু পিছু উঠে আসলো, কিছুটা চিন্তিত মুখে এদিকওদিক খুঁজতে লাগলো। বিদ্যা জয়দেবকে বললো,‘তুমি চিন্তা কোরো না,নিশ্চয়ই নিমগাছের তলায় গিয়ে বসে আছে, আমি দেখছি!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আগেরবার যেভাবে চুপিচুপি নিমগাছের আড়ােেল গিয়ে বিদ্যা মণিয়াকে দেখেছিলো, আজও সেভাবে নিমগাছের আড়ালে গিয়ে দাঁড়ালো! দেখলো সত্যি সত্যি ওখানে মণিয়া বসে আছে, মন খারাপ করে, কাঁদো কাঁদো গলায় দূরে কোথাও তাকিয়ে বলছে,‘যাও, চলে যাও! তুমিও আলসির মতো,যাও...চলে যাও!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা আস্তে করে মণিয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। মাথায় আলতো করে হাত রেখে তাকে জিজ্ঞেস করলো,‘আলসি কে, মণিয়া?কোথায় চলে গেছে সে?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মণিয়া বোবাদৃষ্টিতে দূরের দিকে তাকিয়ে আছে, তার পাশে যে বিদ্যা দাঁড়িয়ে আছে, সে ব্যাপারে তার কোনো হুঁশ নেই। বিদ্যা আবার জিজ্ঞেস করলে সে বিড়বিড় করে বলতে শুরু করলো,‘ও আমার খেলার সাথি ছিলো, আমরা দু’জন নদীর পারে একসাথে খেলা করতাম। মাঝেমাঝে ও আমাকে বলতো নদীর ওপারের বরইগাছ থেকে বরই পেড়ে আনতে। আমি সাঁতরে গিয়ে বরই নিয়ে আসতাম...’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কোথায় গেছে সে?’ বিদ্যার আওয়াজ ধমকা হাওয়ার মতো তার কানে যেতেই সে বলতে শুরু করলো:&lt;br /&gt;‘আলসির বিয়ে হয়ে গেছে, ও আমাকে ফেলে চলে গেছে!’&lt;br /&gt;বিদ্যা মণিয়ার কাঁধে হাত রেখে বললো,‘আচ্ছা, এখন ওঠ্!’ মণিয়া কিছু না বলে আবার আগের মতো দূরে তাকিয়ে রইলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা আবার জিজ্ঞেস করলো,‘আলসি যাওয়ার সময় তোকে কিছু বলে যায় নি?’&lt;br /&gt;মণিয়া গায়ের ওপর ঝরে পড়া নিমের পাতা মুঠোয় নিতে নিতে বললো,‘এসেছিলো,বিয়ের লাড্ডু দিতে,’ মুঠোয় পিষে ফেলা নিমের পাতাগুলো মাটিতে ছড়িয়ে দিতে দিতে আবার বললো,‘আমাকে খুব লাড্ডু খাওয়াতো!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদ্যা তার মাথায় ঝরে পড়া নিমের পাতা সরাতে সরাতে বললো,‘আচ্ছা ঠিক আছে, এখন ওঠ্। ঘরে গিয়ে চা বানা আমাদের জন্যে।’&lt;br /&gt;মণিয়া একান্ত অনুগতের মতো উঠে দাঁড়ালো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছুটির দিন হিসাবে জয়দেব-বিদ্যার কোথায় যেন যাওয়ার কথা। সকালের নাশতা সেরে দু’জন বেরিয়ে গেলো মনুকে মণিয়ার কাছে রেখে। দুপুর পার করে দু’জন যখন বাড়ি ফিরে এলো,দেখলো মনু একাএকা খেলছে,কোথাও মণিয়ার ছায়া পর্যন্ত নেই। মনুকে জিজ্ঞেস করতেই সে জানালো, দুপুরে তাকে খাইয়ে কোথায় যেন গেছে মণিয়া, এখনো ফেরে নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়দেব মণিয়ার খোঁজে বেরোচ্ছিলো,বিদ্যা বললো,‘কোথাও খুঁজে লাভ নেই, পাবে না তুমি তাকে! চলে গেছে মণিয়া!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়দেব বিদ্যার দিকে অবাক হয়ে তাকালো, জিজ্ঞেস করলো,‘কিন্তু কেন?’&lt;br /&gt;বিদ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,‘এখন যে আরো এক আলসির বিয়ে হতে যাচ্ছে!’&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt; &amp;lt;&amp;gt;&amp;lt;&amp;gt;&amp;lt;&amp;gt;&amp;lt;&amp;gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;    লেখক পরিচিতিঃ কবি-কথাশিল্পী অমৃতা প্রিতম জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৯ সালের ৩১ অগাস্ট অখন্ড ভারতের পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায়, যা এখন পাকিস্তানের অংশ। সমকালীন ভারতীয় সাহিত্যের পাঠকদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্কুলশিক্ষক পিতার একমাত্র সন্তান অমৃতা বাবার দেখাদেখি লেখা শুরু করেন ছোটোবেলা থেকে। বাবা নিজেও ছিলেন কবি। অমৃতার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় মাত্র ষোলোবছর বয়সে।&lt;br /&gt;’৪৭ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দারুণভাবে দোলা দেয় অমৃতাকে। দেশভাগের সময় চলে আসেন নয়াদিল্লি। সেখানে আসার পর লেখালেখি শুরু করেন হিন্দিতে। জন্ম দেন কিছু অসাধারণ উপন্যাসের । তাঁর রচিত উপন্যাস ‘পিঞ্জর’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে হিন্দি চলচ্চিত্র। ইংরেজি সহ আরো বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তার সাহিত্যকর্ম।&lt;br /&gt;আন্তর্জাতিক পুরস্কার সহ পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্যপুরস্কার ‘জ্ঞানপিঠ’, রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ ও ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার’।&lt;br /&gt;প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য-‘পিঞ্জর’,‘কোরে কাগজ’,‘আদালত’,‘উঞ্চাস দিন’,‘সাগর অউর সিপিয়াঁ’,‘নাগমণি’,‘রসিদি টিকেট’,‘কাহানিওঁ কে আঙ্গন মেঁ’।&lt;br /&gt;দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন এই প্রতিভাবান সাহিত্যিক। ‘মণিয়া’ গল্পটি এখানে  হিন্দি থেকে রূপান্তর করা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-7029429156984241994?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/7029429156984241994/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=7029429156984241994&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7029429156984241994'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7029429156984241994'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/02/blog-post_28.html' title='মণিয়া -- অমৃতা প্রীতম'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-8016573501201389296</id><published>2010-02-24T03:35:00.012+04:00</published><updated>2010-03-08T07:53:41.281+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>অবহেলা</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 16px;"&gt;পার অবধি উপচে উঠছে কর্ণফুলির জল &lt;br /&gt;ঢেউয়ের ধাক্কায় আরো একটু ক্ষয়ে গেলো&lt;br /&gt;ঘাটের পাথরগুলো!&lt;br /&gt;এখন সন্ধ্যা -জোয়ারের সময়,&lt;br /&gt;আজ তুমি ঢেউ গুনতে আসো নি!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত একঘন্টায় চারজন যাত্রীকে &lt;br /&gt;না করেছে মনুমাঝি&lt;br /&gt;আজ সে ওপারে যাবে না! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবহেলায় কবির কিছু যায় আসে না, &lt;br /&gt;কবি অভ্যস্ত&lt;br /&gt;তার কোনো ক্ষতি নেই;&lt;br /&gt;ক্ষতি শুধু মনুদাশের:&lt;br /&gt;আজ তার বউ রুষ্ট হবে!&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-8016573501201389296?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/8016573501201389296/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=8016573501201389296&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8016573501201389296'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8016573501201389296'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/02/blog-post_24.html' title='অবহেলা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-8416997375385479015</id><published>2010-02-16T04:49:00.018+04:00</published><updated>2010-03-09T03:17:18.471+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অণুগল্প'/><title type='text'>মান্টো'র অণুগল্প: কামেল</title><content type='html'>&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_XL5MGzuI3Pw/SLr9n0qpA0I/AAAAAAAAADQ/S_vnvh1WcUs/s1600/Manto.jpg" imageanchor="1" style="clear: left; float: left; margin-bottom: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="200" src="http://1.bp.blogspot.com/_XL5MGzuI3Pw/SLr9n0qpA0I/AAAAAAAAADQ/S_vnvh1WcUs/s200/Manto.jpg" width="148" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;মূল: সা'দত হাসান মান্টো&lt;br /&gt;রূপান্তর: মোসতাকিম রাহী&lt;br /&gt;........&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লুটের মাল উদ্ধারের জন্যে অভিযান শুরু করেছে পুলিস। একের পর এক তল্লাশি চালাচ্ছে ঘরে ঘরে গিয়ে। লুটেরা লোকজন ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি রাতের আঁধারে লোকচক্ষুর আড়ালে লুটের মাল বাইরে ফেলে আসতে শুরু করলো। কেউ কেউ সাথে নিজের ঘরের জিনিসও ফেলে দিয়ে আসলো পুলিসের হাত থেকে বাঁচার জন্যে; পাছে পুলিস সেগুলোও লুটের মাল বলে তাদের ধরে নিয়ে যায়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক লুটেরা বড় শঙ্কিত তার দুই বস্তা চিনি নিয়ে। বস্তাগুলো সে মহল্লারই মুদির দোকান থেকে লুট করেছিলো। পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্যে সে করলো কী, খোলা জায়গায় না ফেলে মহল্লার একমাত্র কুয়োটাতে সাবধানে গিয়ে একটা বস্তা ফেলে আসলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় বস্তাটি ফেলার সময় পা ফসকে সেও পড়ে গেল গভীর কুয়োটির ভেতর। চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে এলো। তাড়াতাড়ি কুয়োর ভেতর রশি ফেলে এক যুবক নেমে পড়লো লোকটাকে উদ্ধার করতে। কুয়ো গভীর হওয়ায় লোকটাকে তুলে আনতে সময় লাগলো বেশ। উপরে তোলার পর দেখা গেল পানি গিলে ডোল হয়ে আছে তার পেট। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো গেল না। পরদিন মহল্লার লোক কুয়ো থেকে পানি উঠিয়ে অবাক হয়ে গেল। কুয়োর পানি বেশ মিষ্টি!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সে-রাত থেকেই লুটেরা মৃতের কবরে দেখা গেল মোমবাতি আর আগরবাতি জ্বলছে।&lt;br /&gt;.......&lt;br /&gt;(দেবনাগরী লিপিতে প্রকাশিত মূল উর্দু থেকে রূপান্তরিত)&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-8416997375385479015?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/8416997375385479015/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=8416997375385479015&amp;isPopup=true' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8416997375385479015'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8416997375385479015'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/02/blog-post_16.html' title='মান্টো&apos;র অণুগল্প: কামেল'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_XL5MGzuI3Pw/SLr9n0qpA0I/AAAAAAAAADQ/S_vnvh1WcUs/s72-c/Manto.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-2277103528937413655</id><published>2008-06-22T14:02:00.011+04:00</published><updated>2010-09-14T10:25:48.491+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অণুগল্প'/><title type='text'>অণুগল্প: ক্ষুধা</title><content type='html'>&lt;div style="vertical-align: middle;"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;রাস্তার পাশের একটা ছাপড়া হোটেলের সামনে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে চারটি ক্ষুধার্ত কুকুর। হোটেলের ভেতর থেকে কেউ রুটি কিংবা বিস্কুটের টুকরো ছুঁড়ে দেবে এই আশায় ওরা অপেক্ষা করছে সকাল থেকে । কিন্তু ভাগ্যদেবি বোধহয় আজ ওদের প্রতি খুব একটা সদয় নয়। দুপুর হতে চললো কিন্তু ওদের ভাগ্যে এখনো জোটেনি কিছুই। তারপরও তাদের ধৈর্যে কমতি নেই, 'সবুরে মেওয়া ফলে' নীতিতে বিশ্বাসী ওরা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেওয়া উড়ে এলো একেবারে হঠাৎ করে। হাওয়ায় ভর করে ফ্লাইং সসারের মতো একটা রুটি উড়ে এসে পড়লো ওদের মাঝখানে। মুহূর্তের মধ্যে রাগবি খেলোয়াড়দের মতো গোল হয়ে দাঁড়ালো ওরা রুটিটাকে ঘিরে। একে অপরকে মাপছে শঙ্কিত দৃষ্টিতে। চারজনেরই লক্ষ একমাত্র রুটিটার উপর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সহসা একটা কুকুর সাহসের পরিচয় দিলো। বাকি তিন কুকুরের অস্তিত্ত্ব পুরোপুরি উপেক্ষা করে ঝাঁপ দিলো রুটি লক্ষ করে। কিন্তু ততোক্ষণে অন্য কুকুরদের মধ্যে একতা চলে এসেছে : তিন কুকুর একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়লো হানাদার কুকুরটার উপর। এই যৌথ আক্রমণ সহ্য করতে পরলো না কুকুরটা। কুঁইকুঁই করে নিজেকে প্রতিযোগিতা থেকে প্রত্যাহার করে নিলো সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন লড়াই তিন কুকুরের মধ্যে। একটা কালো,দ্বিতীয়টা লাল এবং তৃতীয়টা সাদাকালোর মিশেল। তিন কুকুরই লোভী দৃষ্টিতে চেয়ে আছে রুটিটার দিকে। কিছুক্ষণ আগের সেই একতাভাব এখন উদাও। পেটে ক্ষুধা,চোখের সামনে খাবার; ধৈর্যের লাগাম বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পরলো না কালো কুকুরটা। আস্তেআস্তে অগ্রসর হতে শুরু করলো সে রুটির দিকে। কিন্তু বাকি দুই কুকুর টের পেয়ে গেছে তার মতলব। দু’জনের মধ্যে আবারো সঞ্চারিত হলো মৈত্রীভাবঃ ফলাফল - কেলে আউট ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন প্রতিযোগী মাত্র দুজন। এই দু’জনের যে-কোনো একজনের ভাগ্যে জুটবে রুটিটা । গরর-গরর আওয়াজ করছে দুটোই। একে অপরের শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছে লাফ দেওয়ার আগে। এবার সাদাকালো কুকুরটিই লাফ দিলো সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে। লড়াই চললো বেশ কিছুক্ষণ। কামড়াকামড়িতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে শেষ পর্যন্ত ধরাশায়ী হলো লাল কুকুরটা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খুশিতে আকাশের দিকে মুখ তুলে বিকট এক চিৎকার দিলো সাদাকালো। তারপর রাজকীয় ভঙ্গিতে হেলেদুলে এগিয়ে গেলো রুটির দিকে। মুখ নামিয়ে রুটিটা তুলে নিতে যাবে,এমন সময় কোথা থেকে সাঁই করে উড়ে এলো একটা কাক। সাদাকালো কুকুরটা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুটিটা ঠোঁটে তুলে উড়াল দিলো কাকটা। কিংকর্তব্যবিমূঢ় যুদ্ধজয়ী কুকুরটা অসহায় দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো উড়ে যাওয়া কাকটির গমনপথের দিকে।&lt;br /&gt;...................&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-2277103528937413655?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/2277103528937413655/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=2277103528937413655&amp;isPopup=true' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/2277103528937413655'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/2277103528937413655'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2008/06/blog-post_22.html' title='অণুগল্প: ক্ষুধা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-4589064533523085343</id><published>2008-06-19T16:17:00.012+04:00</published><updated>2010-03-12T02:50:29.811+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>রামসিংহের ট্রেনিং</title><content type='html'>&lt;div style="font-family: inherit;"&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_MmC5otPbDv8/SDbIYiQ4d5I/AAAAAAAABMs/gAqqt5_S5pE/s1600/hari+shankar+parsai.jpg" imageanchor="1" style="clear: left; float: left; margin-bottom: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="200" src="http://3.bp.blogspot.com/_MmC5otPbDv8/SDbIYiQ4d5I/AAAAAAAABMs/gAqqt5_S5pE/s200/hari+shankar+parsai.jpg" width="152" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;b style="color: black;"&gt;মূল: হরিশংকর পরসাঈ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রূপান্তর: মোসতাকিম রাহী&lt;br /&gt;.................&lt;br /&gt;হিন্দি সাহিত্যের জনপ্রিয় রম্যলেখক 'হরিশংকর পরসাঈ' এর 'রামসিং কি ট্রেনিং' গল্পটি মূল হিন্দি থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছিলাম 'রামসিংহের ট্রেনিং' নামে। প্রকাশিত হয়েছিলো দৈনিক সমকালের সাহিত্যসাময়িকী 'কালের খেয়া'তে।&lt;br /&gt;.................&lt;br /&gt;প্রতিদিন সন্ধ্যায় রামসিংহ আমার কাছে আসে। মুখোমুখি বসে ঘন্টাখানেক গালিগালাজ করে ফিরে যায়।&lt;br /&gt;পড়শিরা হতবাক ওর এই কান্ডে। আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘ লোকটা কি পাগল হয়ে গেল নাকি?’&lt;br /&gt;‘না,’ উত্তর দেই আমি।&lt;br /&gt;তখন তারা আমাকে পরামর্শ দেয় রামসিংহকে ধরে কষে একটা ধোলাই দেওয়ার জন্যে, আর তাতে যদি আমার আপত্তি থাকে, তাহলে ব্যাপারটা যেন তাদের ওপর ছেড়ে দেই --প্রতিবেশীর দায়িত্ত্ব হিসেবে এই মহৎ কাজটি তারা সানন্দেই করবে।&lt;br /&gt;কোনো জবাব না দিয়ে আমি হাসি।&lt;br /&gt;তখন তারা মনে মনে আমাকে পাগল না কি কাপুরুষ ভাববে সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে।&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রামসিংহ শুধু গালাগালি করেই ক্ষান্ত হয় না। একরাতে সে আমার বাড়িতে গাঁজার কয়েকটা পোটলা রেখে যায়। পরদিন সকালে এসে সে আমাকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে। হাতকড়ার বদলে রুমাল দিয়ে আমার হাতজোড়া বাঁধে।&lt;br /&gt;রামসিংহকে আমি ছোটো ভাইয়ের মতোই আদর করি। নিজেকে যোগ্য করে তোলার তার এই প্রচেষ্টা দেখে আমি খুশি না হয়ে পারি না। খুব দ্রুত রামসিংহ কাজ শিখে নিচ্ছে, বোঝা যায় অতি অল্প সময়ের মধ্যে সে উন্নতি করতে পারবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আট-দশ দিন আগের কথা। রামসিংহের বড়ো ভাই হনুমান সিংহ বিষম হতাশ আর মনমরা হয়ে আমার কাছে আসে। বলে, ‘তুমি জানো, হরিশংকর, আমার ছোটো ভাই রামসিংহ ছুটিতে এসেছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর হওয়ার পর থেকে মনে হচ্ছে সে পাগল হয়ে গেছে। পুরো বাড়িটাকে সে মাথায় তুলে রেখেছে। ঘরের দরোজা বন্ধ করে সে নিজে নিজে চিৎকার-চেঁচামেচি আর খিস্তি -খেউর করে। একদিন খিড়কির ফুটো দিয়ে আমি দেখলাম, আমাদের পূর্বপুরুষ আর রাজনীতিবিদদের যে-ছবিগুলো দেয়ালে টাঙানো আছে, সেগুলোর দিকে তাকিয়ে সে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করছে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘একদিন আমি আমার ছেলে মুন্নাকে পড়াতে রামসিংহকে বলে বাইরে চলে যাই। যখন বাড়ি ফিরে এলাম, তখন আমার বড়ো মেয়ে আমাকে বললো, ‘বাবা, রামসিংহ কাকার কি মাথাটাথা খারাপ হয়ে গেলো নাকি? তুমি বাইরে চলে যাওয়ার পর মুন্না পড়া ছেড়ে উঠে বাইরে খেলতে চলে যায়। যখন সে ফিরে এলো তখন কাকা মুন্নাকে বললেন, ‘এই মুন্না, জলদি একআনা দে, নয়তো দাদাকে বলে তোকে মার খাওয়াবো।’&lt;br /&gt;আমরা হাসাহাসি করতে করতে মুন্নাকে একআনা দিয়ে বললাম কাকাকে দিয়ে আসার জন্যে। হা ভগবান, উনি ঐ একআনা নিয়ে পকেটে রেখে দিলেন!’&lt;br /&gt;‘রামসিংহ আজকাল উদ্ভট সব কান্ড করে বেড়াচ্ছে। ছোটো বাচ্চাদের পানি আনার জন্যে হুকুম দেয়, আর একটু দেরি হলেই চিল্লাতে শুরু করে: ‘জলদি পানি নিয়ে আয়, ভেবেছিস কী, অ্যাঁ? সাত বছরের জন্যে চোদ্দশিকের ভেতর ঢুকিয়ে দেবো।’&lt;br /&gt;দোস্ত, আমি এখন কী করি, বলোতো? ওকে কিছু জিজ্ঞেস করলেই সে হেসে বলে, ‘আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে, দাদা, অতো দুশ্চিন্তা কোরো না।’ ভাই, আমার মনে হয়, তার মাথা পুরোটাই খারাপ হয়ে গেছে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রামসিংহকে আমি ছোটোবেলা থেকেই চিনি। খুবই সৎ, ভদ্র এবং বিনয়ী ছেলে সে। আর একারণে ব্যাপারটা মেলাতে পারছিলাম না।&lt;br /&gt;পরদিন রাস্তায় তার সাথে দেখা। জিজ্ঞেস করলাম, ‘ব্যাপার কী, রামসিংহ, এসব কী শুনছি?’&lt;br /&gt;সে বললো, ‘বুঝতে পারছি, হরিদা, দাদা আপনার কাছে এসে অভিযোগ করেছে। আসলে কেউ আমাকে বুঝতে চেষ্টা করছে না। আমি সবাইকে বলছি, একটা মাস আমাকে সময় দাও। আমার মাথা পুরোপুরি ঠিক আছে, আমি পাগল হই নি।’&lt;br /&gt;আমি বললাম, ‘তো তুই এসব উদ্ভট কাজ কেন করে বেড়াচ্ছিস?’&lt;br /&gt;উত্তরে সে যে-গল্পটা আমাকে শোনালো, সেটা হুবহু তার ভাষাতেই এখানে উদ্ধৃত করছি:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘হরিদা, আমি তখন সবে পুলিশে জয়েন করেছি। নতুন ইন্সপেক্টর। মনে তখন সততা, ন্যায়পরায়ণতা আর মানুষের সেবা করার চিন্তা। একজন সৎ, আদর্শ পুলিশ অফিসার হওয়ার জন্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একদিন সকালে পাশের গ্রামের একটা ছেলে এসে রিপোর্ট করলো, রাতের বেলা তাদের বাড়িতে চুরি হয়েছে। আমি খোঁজখবর করার জন্যে তাড়াতাড়ি সেখানে গেলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ওদের বাড়ির উঠোনে একটা বুড়ো লোক মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলো। আমাকে দেখে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে, ভীতস্বরে বললো, ‘দারোগা সাহেব, আপনি!’&lt;br /&gt;উঠোনে একটা ছোটো খাট রাখা ছিলো, আমি গিয়ে সেটাতে বসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলাম।&lt;br /&gt;‘বাবা, আপনার ঘরেই কি চুরি হয়েছে?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘কিছু না বলে লোকটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাবা, চুরি কি আপনার এখানে হয়েছে?’&lt;br /&gt;সে বললো, ‘আমাকে বলছেন, হুজুর?’&lt;br /&gt;আমি বললাম, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন বুড়ো বললো, ‘কিন্তু দারোগা সাহেব, আমার নাম তো ‘অ্যাই শালা বুড়ো’, ‘বাবা’ তো আমার নাম নয়।’&lt;br /&gt;আমি বুড়োর কথা কিছুই বুঝতে পারলাম না। আমি আবারো জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, চুরি কবে হয়েছে?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুড়ো উত্তর না দিয়ে চুপ মেরে রইলো। আমি আবার জিজ্ঞেস করতেই বুড়ো হাত জোড় করে বললো, ‘ভুল হয়ে গেছে, হুজুর। ছেলেটা অবুঝ। আমি একটু বাইরে গিয়েছিলাম, এই ফাঁকে ছেলেটা রিপোর্ট করতে চলে গেছে। আমি থাকলে কিছুতেই রিপোর্ট করতাম না, আর আপনাকেও কষ্ট করে এখানে আসতে হতো না। ছেলেটার বয়স কম, না বুঝে রিপোর্ট করেছে, ওকে মাফ করে দিন, হুজুর।’&lt;br /&gt;‘আমি ফাঁপরে পড়ে গেলাম। এই লোক বলছেটা কী? তাকে বললাম, ‘আপনি তো বড়ো আজব কথা বলছেন। চুরি হলেতো রিপোর্ট অবশ্যই করতে হবে। আমরা পুলিশেরা আছি কী জন্যে? আমাদের দায়িত্বই তো চোরদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া, আর আপনাদের চুরি যাওয়া মাল উদ্ধার করা। এবার বলুন, কখন চুরি হয়েছে, আর কী কী জিনিস খোয়া গেছে!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুড়ো আবারও চুপ মেরে গেল। অসহায় দৃষ্টিতে সমবেত লোকজনের দিকে তাকাতে লাগলো। বুড়োর ছেলে একটা গেলাসে করে দুধ এনে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরলো। আমি নিতে না চাইলে বুড়ো বললো, ‘নিন হুজুর, আমার পোষা গাইয়ের দুধ।’&lt;br /&gt;আমি বললাম, ‘না না, এখন আমি ডিউটিতে আছি। আপনার কাছ থেকে কিছুই আমি খেতে পারবো না, এমনকি এক টুকরো সুপারিও না।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি দেখলাম সমবেত লোকজন খুবই অবাক হয়ে গেলো আমার কথায়। বড়ো বড়ো চোখ করে তারা আমাকে দেখতে লাগলো। আমার প্রতিটি কথায় ওরা চমকে উঠছিলো, আর ফিসফাস করে কী সব বলছিলো একে অপরকে।&lt;br /&gt;আমি বুড়োকে বললাম, ‘বাবা, আপনিও খাটে এসে বসুন আমার পাশে। মুরুব্বি মানুষ, দাঁড়িয়ে থাকবেন কেন?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘এইকথা শুনে বুড়ো ভয় পেয়ে দু’পা পিছিয়ে গেলো। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোকে কানে কানে কী যেন বললো। আমি খুব হতাশ হয়ে পড়লাম। ওরা এতো ভয় পাচ্ছে কেন? আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে ওরা কানাকানি করেই চলেছে। একটু পর বুড়ো জেব থেকে কিছু টাকা বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো, ‘হুজুর, আমি মানছি আমাদের ভুল হয়ে গেছে। ছেলেটার বয়স কম, না বুঝে রিপোর্ট করেছে। আমি হলে জীবনেও রিপোর্ট করতাম না। আমি জানি, আপনার অনেক কষ্ট হয়েছে, অনেক জরুরি কাজ ফেলে আপনি ছুটে এসেছেন। আপনার সময়ের মূল্য আছে, এই পঞ্চাশটা টাকা রাখুন। ছেলেটাকে মাফ করে দিন, ভবিষ্যতে এরকম ভুল আর কোনোদিন হবে না।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম ওর কথা শুনে। কিছুক্ষণ গুম মেরে রইলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর বললাম, ‘দেখুন, আপনার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হয় আপনি একটা পাগল, নয়তো আমি স্বপ্ন দেখছি। আমি কেন টাকা নেবো? সরকার আমাকে বেতন দিচ্ছে আমার কাজের জন্যে। এর বাইরে কারো কাছ থেকে একটা পয়সা নেওয়াও আমার জন্যে হারাম।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুড়োর প্রতিক্রিয়া হলো দেখার মতন। দেখলাম ভয়ের ছায়া সরে গিয়ে তার চেহারায় কঠোর একটা ভাব ফুটে উঠছে। উপস্থিত গাঁয়ের লোকজনদের দিকে তাকিয়ে সে বললো, ‘ কী, এখনো তোমাদের সন্দেহ আছে?’&lt;br /&gt;সমস্বরে লোকজন জবাব দিলো, ‘না!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন বুড়ো সবাইকে হুকুম করলো, ‘তবে আর হাঁ করে দেখছো কী, বাঁধো শালাকে!’&lt;br /&gt;আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকজন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। হাত-পা বেঁধে ফেললো দড়ি দিয়ে। এরপর বুড়ো একটা লোকের দিকে ফিরে বললো,‘যা, থানায় গিয়ে ইন্সপেক্টর সাহেবকে বল, এক জোচ্চোর-ডাকাত পুলিশের উর্দি পরে ধোঁকা দিতে এসেছিলো আমাদের। বুঝতে পেরে আমরা তাকে বন্দি করেছি।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘মেজাজ খারাপ হয়ে গেল আমার। চিৎকার করে বললাম, ‘আমি ঠগবাজ নই। আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর।’&lt;br /&gt;‘তুই মোটেও পুলিশ ইন্সপেক্টর নস। এই পোশাক তুই চুরি করেছিস, আর পুলিশ সেজে এসেছিস আমাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্যে। কিন্তু বাছা, আমাকে ধোঁকা দেওয়া এতো সহজ নয়। তুই কি ভেবেছিস আমি কোনোদিন পুলিশ দেখি নি, অ্যাঁ? পুলিশের লোক দেখতে দেখতে বুড়ো হয়ে গেলাম। পুলিশ কখনো তোর মতো সুন্দর ব্যবহার করে না। তুই একটা ঠগবাজ।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘আমি জানতে চাইলাম, ‘কেন তোমার সন্দেহ হলো যে, আমি পুলিশ নই?’&lt;br /&gt;বুড়ো উত্তর দিলো, ‘তোর মধ্যে সাচ্চা পুলিশ অফিসারের কোনো লক্ষণই নেই। পুলিশ অফিসার দেখতে দেখতে আমি চুল পাকিয়ে ফেললাম। কেউ আমাকে ‘অ্যাই শালা বুড়ো’ ছাড়া কোনোদিন সম্বোধন করে নি। আমার তো তখনই সন্দেহ হয়েছে, যখন তুই আমাকে আদর করে ‘বাবা’ বললি। এরপর আমার ছেলে যখন দুধ নিয়ে এলো, তুই খেলি না। আমার দেওয়া টাকাও নিতে চাইলি না। কোনো পুলিশ অফিসার এরকম করবে না। আমরাতো কখনো চুরির রিপোর্টই করি না, পুলিশ আসবে এই ভয়ে। পুলিশ আসলেই বিরক্ত করে মারবে, টাকা চাইবে, মারধোর করবে। আর তুই বলছিস কি না এক পয়সাও নিবি না, উল্টো চোর খুঁজে বের করে শাস্তি দিবি! এরকম পুলিশ অফিসার তো আমি আমার বাপের জন্মেও দেখি নি। তুই অবশ্যই একটা জোচ্চোর-ধোঁকাবাজ। কিন্তু বাছা, কম্মো কাবার করতে পারলি না, তার আগেই ধরা পড়ে গেলি এই বুড়োর চোখে। এবার আসল পুলিশ অফিসার আসছে থানা থেকে। পাঁচ-দশ বছরের সাজাভোগ করার জন্যে তৈরি হয়ে যা।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘বুঝলেন, হরিদা, এরপর বিকেল পর্যন্ত আমি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওখানে পড়ে রইলাম। সন্ধে হওয়ার আগেই আমার এক সহকর্মী ইন্সপেক্টর এলো থানা থেকে। এসেই সে বুড়োর চোদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে শুরু করলো। বুড়োকে বললো, ‘কিরে শালা বুড়োর বাচ্চা, ওঁকে বেঁধে রেখেছিস কেন?’&lt;br /&gt;গালি শুনে বুড়োর চেহারায় স্বস্তির ভাব ফুটে উঠলো। বললো, ‘এ কথাটাই আমি এই ঠগবাজ লোকটাকে বলছিলাম।’&lt;br /&gt;এরপর আমার দিকে ফিরে বললো, ‘দেখেছিস, পুলিশ অফিসার এরকমই হয়, হুজুরের মতো। আর তুই কিনা ‘বাবা বাবা’ করছিলি!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দীর্ঘশ্বাস ফেলে রামসিংহ তার গল্প শেষ করলো। বললো, ‘এই দুরবস্থার পর আমি বুঝতে পারলাম, হরিদা, আমার ট্রেনিঙ অপূর্ণ রয়ে গেছে। পুলিশের উর্দি পরা অবস্থাতেও সাধারণ লোকজন আমাকে পুলিশ মানতে নারাজ। সবাই মনে করে আমি ঠগবাজ। তাই একমাসের ছুটি নিয়ে আমি বাড়ি চলে এসেছি, আমার ট্রেনিঙ পুরো করার জন্যে।’&lt;br /&gt;আমি তাকে বললাম, ‘রামসিংহ, আমাদের বড়োই দুর্ভাগ্য যে, তোর-আমার দু’জনেরই পিতা এই ভবসংসার ছেড়ে চলে গেছেন। নইলে তাদের ওপর তুই প্র্যাকটিস করে দু-চারদিনের মধ্যে তোর অসমাপ্ত ট্রেনিঙ শেষ করতে পারতি। যাক, তা যখন হওয়ার নয়, এখন আমি আছি, তুই আমার ওপর প্র্যাকটিস চালিয়ে যা। তোর উপকারে আসতে পারলে আমি খুশিই হবো।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর থেকে রামসিংহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে এসে আমাকে গালাগালি করে, আর আমি হাসিমুখে তা হজম করি।&lt;br /&gt;....................&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-4589064533523085343?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/4589064533523085343/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=4589064533523085343&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/4589064533523085343'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/4589064533523085343'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2008/06/blog-post_19.html' title='রামসিংহের ট্রেনিং'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_MmC5otPbDv8/SDbIYiQ4d5I/AAAAAAAABMs/gAqqt5_S5pE/s72-c/hari+shankar+parsai.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-5695636338134621345</id><published>2008-06-18T05:09:00.005+04:00</published><updated>2010-03-09T03:40:32.565+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>কিছুই যাবে না ফেলা</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi; font-size: 15.5px;"&gt;কিছুই যাবে না ফেলা!&lt;br /&gt;স্বল্প আদর-অল্প উষ্ণতা-একটু অবহেলা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘোমটা ঢাকা একফালি চাঁদ&lt;br /&gt;ভালোবাসার এই রঙিন ফাঁদ&lt;br /&gt;গোলাপ-বেলির মালা&lt;br /&gt;যাবে না কিছুই ফেলা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতি অবুঝ দু'টি পাগল&lt;br /&gt;ভাঙতে চায় যে সব অর্গল&lt;br /&gt;ভেজা-উষ্ণ-লবণ-ঘামে&lt;br /&gt;সোনার তনু সোনার দামে&lt;br /&gt;কেনা হবে আজকে রাতে, নয়কো হেলাফেলা!&lt;br /&gt;যাবে না কিছুই ফেলা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দু'জন কাঙাল প্রেমের সাধে&lt;br /&gt;খুব নীরবে খুব যে কাঁদে&lt;br /&gt;লোনা জলে একপলকে নদী কীর্তনখোলা!&lt;br /&gt;কিছুই যাবে না ফেলা!&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-5695636338134621345?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/5695636338134621345/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=5695636338134621345&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/5695636338134621345'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/5695636338134621345'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/09/blog-post_13.html' title='কিছুই যাবে না ফেলা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-5839454665126198570</id><published>2008-06-16T15:34:00.005+04:00</published><updated>2010-03-15T03:37:29.523+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>বিষণ্ণতায় কাটে সারাবেলা</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;মন খুব খারাপ ছিলো গতকাল, তাই দাঁড়াই নি সম্মুখে তোমার; পাছে তোমারও মনটা খারাপ হয়ে যায়--এই ভেবে। জমানো একবুক কথা ছিলো গতকাল,তবুও ফিরে এসেছি তোমার দরোজা থেকে, যদি গিয়ে দেখি, গাঢ় রূপমাখা মুখটি ভারী হয়ে আছে প্রচন্ড অভিমানে, সেই ভয়ে।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;কারো কাছে যাই নি গতকাল, এমনকি তাদের কাছেও না--বৈকালিক আড্ডায় যারা সুখ আর দুঃখ ভাগাভাগি করে আমার সাথে, সেইসব বন্ধুদের কাছেও। নিঃসঙ্গ থেকেছি পুরোটা বিকেল: একা-একা হেঁটেছি নদীর ধারে, নির্লিপ্ত হয়ে দেখেছি কাকের উৎসব: কতো আনন্দে জলে ভেসে যাওয়া মড়া ঠুকরে খাচ্ছে ওরা; এঞ্জিনের অভাবে প্রাণান্তকর শ্রমে দাঁড় টেনে যাচ্ছে এক বৃদ্ধ মাঝি। বড়ো স্টিমার যখন তার পাশ দিয়ে যায় ঢেউয়ের দোলায় জলের ছিটে এসে লাগে তার মুখে--এসব দেখেছি।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;তারপর, সন্ধ্যার আঁধার যখন একসময় ঘন হয়ে এলো, একবার ইচ্ছে হলো ফিরে যাই তোমার কাছে, গিয়ে বলি, ‘হাত দিয়ে দেখো এই বুকে, কতোটা কষ্ট লুকিয়ে আছে কাঙালের হৃদয়ে, কতোটা কষ্ট জমতে জমতে আমি আজ আপাদমস্তক কবি।’ কিন্তু ফেরা হয় না, আমার সংকীর্ণতার কারণে: কোনো এককালে এক মায়াবতী এসে ঘর বেঁধেছিলো এই কবির পুরো অস্তিত্ত্ব জুড়ে, সবটুক ভালোবাসা দিয়ে তার জড়িয়ে নিয়েছিলো এই যুবককে। তারপর, সহসা কার ভুলে,আজও হলো না জানা, এই ব্যর্থ কবির সমগ্র চেতনা জুড়ে থাকা সেই প্রণোদিনী সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে মুখ ফেরালো চিরতরে! এখন আসা যাওয়ার পথে দৈবাৎ কখনো দেখা হয়ে গেলে, তার নির্লিপ্ত মুখ দেখে আমি হয়েযাই ‘আজনবি’!&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;সেই থেকে সেই ভয়ে আর কোনো মায়াবতীর দিকে আমি হাত বাড়াইনি আজ পর্যন্ত। তাই সরল বিশ্বাসে এগিয়ে আসা তোমার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখি সর্বদা: একজনের হিমেল অনলে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া এই আমি নিজেই যদি তোমাকে পোড়াতে শুরু করি! ভালোবাসা খেয়েছে আমার সবটুকু , পাছে সেই প্রতিশোধস্পৃহায় আমিও যদি তোমাকে লুপ্ত করে ফেলি! কবিরা ভালোবাসার কথা বলে, কিন্তু ভালোবাসতে জানে না! কবিরা আজীবন ঠকতে ঠকতে--আজনম কষ্ট পেতে পেতে, সর্বস্ব খুইয়ে তারপর কবি হয়! ভালোবাসতে জানে না বলেই কবিরা সব হারায়! মন খুব খারাপ থাকে আজকাল, বিষণ্ণতায় কাটে সারাবেলা --তাই বারবার ফিরে আসি তোমার দুয়ার থেকে।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-5839454665126198570?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/5839454665126198570/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=5839454665126198570&amp;isPopup=true' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/5839454665126198570'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/5839454665126198570'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2008/06/blog-post.html' title='বিষণ্ণতায় কাটে সারাবেলা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-8709956678857849051</id><published>2008-01-17T18:45:00.003+04:00</published><updated>2010-03-16T10:53:10.662+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>চাই পরাধীনতা</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;তুমি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত&lt;br /&gt;স্বাধীন ইচ্ছে বলতে আমার কিছু ছিলো না!&lt;br /&gt;সংসার মানেই পরাধীনতা?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিজেকে এখন বলি,মুক্ত আমি, বিহঙ্গের মতো উড়ে&lt;br /&gt;চলে যেতে পারি যেদিকে খুশি,&lt;br /&gt;ঘরে ফেরার ব্যস্ততা এখন আর আমাকে তাড়া করে না।&lt;br /&gt;নিজের মতো করেই যাপন করতে পারছি জীবনটা!&lt;br /&gt;তবুও কেন কৃতজ্ঞ হতে পারি না তোমার প্রতি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুমি চলে গেছো, কিন্তু তোমার স্মৃতির তরবারিটা&lt;br /&gt;তুমি কি ভুল করে ফেলে গেলে?&lt;br /&gt;যা আমাকে প্রতি নিয়ত কাটে,&lt;br /&gt;রক্তাক্ত করে,&lt;br /&gt;ফালাফালা করে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্ধুরা আমাকে আগের চেয়ে হাসিখুশি দেখতে পায়&lt;br /&gt;ভেতরের ক্ষরণটুকু তাদের নজরে আসে না;&lt;br /&gt;তারা বোঝে না অভিমানী কবিরা পারে না নিজেকে খুলতে!&lt;br /&gt;এতো তীব্র আহত আমি তাই বলতে পারি না-&lt;br /&gt;'কেউ আমাকে সারিয়ে তোলো!'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেষ পর্যন্ত তাই তোমার দরোজাতেই ফিরতে চাই,&lt;br /&gt;চিৎকার করে বলতে চাই-&lt;br /&gt;'আমাকে পরাধীন করো,স্বাধীনতার এই ভার&lt;br /&gt;আমি বইতে পারছি না!'&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-8709956678857849051?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/8709956678857849051/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=8709956678857849051&amp;isPopup=true' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8709956678857849051'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8709956678857849051'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2010/01/blog-post.html' title='চাই পরাধীনতা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-397022961934145736</id><published>2007-09-16T04:30:00.007+04:00</published><updated>2010-03-09T03:39:00.473+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>ঠাট্টা</title><content type='html'>&lt;span style="font-family: SolaimanLipi; font-size: 15.5px;"&gt;আর এগিয়ো না!&lt;br /&gt;এখানেই থমকে দাঁড়াও।&lt;br /&gt;জেনে নাও--&lt;br /&gt;এজীবন যেপে কোনো লাভ নেই:&lt;br /&gt;ফলাফল শূন্য!&lt;br /&gt;পথের শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখবে&lt;br /&gt;যাপিত জীবনের পুরোটাই ছিলো ঠাট্টা!&lt;br /&gt;তারচে'এই ভালো&lt;br /&gt;এখানেই দু'জন থমকে দাঁড়াই&lt;br /&gt;এখানেই যাই মরে;&lt;br /&gt;মরে গিয়ে বেঁচে যাই&lt;br /&gt;প্রগলভ এক ঠাট্টার হাত থেকে! &lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-397022961934145736?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/397022961934145736/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=397022961934145736&amp;isPopup=true' title='4 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/397022961934145736'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/397022961934145736'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/09/blog-post_3774.html' title='ঠাট্টা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>4</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-7603560800533291123</id><published>2007-09-16T04:29:00.006+04:00</published><updated>2010-03-15T04:00:02.468+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>অন্যরকম কষ্ট</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;বেদনায় ছেয়ে গেছে মন&lt;br /&gt;বিবর্ণ হয়েছে চারিদিক&lt;br /&gt;বুকের ভেতর অন্যরকম অদ্ভুত এক কষ্ট!&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;সুন্দরের স্বপ্ন দেখি না আর&lt;br /&gt;শুধু দু'চোখে এখন নগ্নতা&lt;br /&gt;শব্দের জোড়া মেলে না তাই&lt;br /&gt;নির্বাসনে গেছে কবিতা।&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;মৃত্যু আজ সম্মুখদ্বারে&lt;br /&gt;ভালোবাসা আজ গুলিবিদ্ধ&lt;br /&gt;বুকের খাঁচায় অন্যরকম অদ্ভুত এক কষ্ট!&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;অনেক কিছু আজো রয়ে গেছে বাকি&lt;br /&gt;অনেক কথা আজো হয় নি বলা&lt;br /&gt;প্রণোদিনীর হাতটা ধরে&lt;br /&gt;কিছুটা পথ হয় নি চলা।&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;স্বর্ণচাঁপায় আজ রক্তের ছোপ&lt;br /&gt;চিঠিটাও রক্তাক্ত&lt;br /&gt;বুকের ভেতর অন্যরকম অদ্ভুত এক কষ্ট! &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-7603560800533291123?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/7603560800533291123/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=7603560800533291123&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7603560800533291123'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7603560800533291123'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/09/blog-post_8238.html' title='অন্যরকম কষ্ট'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-1088651435090334990</id><published>2007-09-16T04:26:00.005+04:00</published><updated>2010-03-15T04:01:17.776+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>তুমি আছো বলে</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;তোমাকে ছাড়া এজীবনের কোনো মানে হয় না;&lt;br /&gt;সবকিছু নিরর্থক মনে হয় তুমি না থাকলে!&lt;br /&gt;তোমার একটুখানি শূন্যতায়&lt;br /&gt;ভরা জ্যোৎস্না পানসে হয়ে যায়,&lt;br /&gt;সৌন্দর্য হারায় শীতের সকাল;&lt;br /&gt;নিদারুণ দৈন্যতায় ভরে ওঠে এই কবির গৃহখানি!&lt;br /&gt;দুঃখ-কষ্টে ভরা এই জীবনে জড়িয়ে আছো বলেই&lt;br /&gt;পথের শেষটুকু দেখার দুঃসাহস করতে সাধ জাগে! &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-1088651435090334990?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/1088651435090334990/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=1088651435090334990&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1088651435090334990'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1088651435090334990'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/09/blog-post_15.html' title='তুমি আছো বলে'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-3363720303789663862</id><published>2007-06-20T12:19:00.004+04:00</published><updated>2010-01-23T17:01:42.631+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>বেচাকেনা</title><content type='html'>&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;b&gt;মূল: গি দ্য মোপাসাঁ&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;রূপান্তর: মোসতাকিম রাহী&lt;br /&gt;......................................................................................................................&lt;br /&gt;&lt;b&gt;লেখক পরিচিতিঃ&lt;/b&gt; কবি ঔপন্যাসিক গল্পকার মপাসাঁ ১৮৫০ সালের ৫ অগাস্ট ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৬৯ সালে প্যারিসে তিনি আইন বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন, কিন্তু শীঘ্রি তাঁকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয় ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের কারণে। এরপর ১৮৭২ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত তিনি সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে প্রথমে মিনিস্ট্রি অভ ম্যারিটাইম অ্যাফেয়ার্স এবং পরে মিনিস্ট্রি অভ এডুকেশন-এ কাজ করেন। ১৮৮০ সালে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মধ্যে দিয়ে তাঁর সাহিত্যজগতে পদার্পন। মাত্র একদশক সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান মপাসাঁ, এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি তিনশো ছোটো গল্প, ছয়টি উপন্যাস, বেশকিছু কবিতা এবং তিনটি ভ্রমণকাহিনী লেখেন। দুর্ভাগ্যবশত তারুণ্যের শুরুতেই তিনি সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হন, যা তাঁকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। শেষে মারাত্মক মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়ে ১৮৯২ সালের ২ জানুয়ারি কন্ঠনালি কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্যারিসের একটি প্রাইভেট অ্যাসাইলামে ভরতি করা হয়, এবং সেখানেই পরের বছর অর্থাত্ ১৮৯৩ সালের ৬ জুলাই মাত্র ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই প্রতিভাবান সাহিত্যিক।&lt;br /&gt;.....................................................................................................................&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিসেস ব্রুমেঁকে পানিতে চুবিয়ে মারতে চাওয়ার অপরাধে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি -সিসেয়ার ইজাডোর ব্রুমেঁ এবং প্রসপার নেপোলিয়ন কর্নুকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হয়েছে বিচারের উদ্দেশে। মিসেস ব্রুমেঁ অভিযুক্ত সিসেয়ার ব্রুমেঁর স্ত্রী।&lt;br /&gt;ব্রুমেঁ এবং কর্নু - দরিদ্র দুই গ্রাম্য কৃষক -পাশাপাশি বসে অপেক্ষা করছে আদালতের পুরনো বেঞ্চে। প্রথমজন বেটেখাটো,মোটা, হাত-পাগুলো ছোটো-ছোটো আর ফুটবল সদৃশ গোল মাথাটি মনে হয় কেউ চেপে বসিয়ে দিয়েছে তার চর্বিবহুল ধড়ের ওপর, ঘাড় বলতে কিছু নজরে আসে না। টকটকে লালমুখে অসংখ্য ব্রণ। ছোটো একটা শুয়োরের খামার ছিলো তার একমাত্র আয়ের উৎস । বাস করতো ক্রিকেতো জেলার ক্যাশিভিল-লা-গোপিল গ্রামে ।&lt;br /&gt;কর্নু হালকা-পাতলা মাঝারি উচ্চতার মানুষ, হাতজোড়া লিকলিকে লম্বা। মাথা সামান্য ঝুঁকে থাকে, বাঁকা চোয়াল, ট্যারা চোখ। হাঁটু পর্যন্ত লম্বা, নীল রঙের একটা জামা পরে আছে সে। মাথার হলুদ রঙের কয়েকগাছি চুল খুলির সাথে লেপ্টে আছে, যা তার চেহারায় ভীতিকর বুড়োটে ভাব এনে দিয়েছে। লোকজনের কাছে সে ‘হরবোলা’ হিসেবে পরিচিত, কারণ গির্জার উপাসনা সংগীত থেকে শুরু করে সাপের আওয়াজ পর্যন্ত হুবহু নকল করতে পারতো সে। আর এ কারণে লোকজন চার্চের ধর্মীয়সভায় যোগ দেওয়ার চেয়ে কর্নুর মদের দোকানে হাজিরা দিতে বেশি পছন্দ করতো।&lt;br /&gt;মিসেস ব্রুমেঁ সাক্ষীর জন্যে রাখা বেঞ্চে বসে ছিলো। হালকা-পাতলা শরীর, সাধারণ চেহারা, একজন কৃষকের বউয়ের যেরকম হওয়ার কথা। তাকে দেখে মনে হয় সারাক্ষণ ঝিমুচ্ছে । হাঁটুর ওপর হাত রেখে,নির্বাকদৃষ্টিতে শূন্যে তাকিয়ে ছিলো সে।&lt;br /&gt;জজ তার জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ‘তারপর, মিসেস ব্রুমেঁ, তারা আপনার বাড়িতে এলো এবং আপনাকে পানিভর্তি একটা পিপের মধ্যে ফেলে দিলো···, এরপর কী ঘটলো, দাঁড়িয়ে বলুন।’&lt;br /&gt;মহিলা উঠে দাঁড়ালো। বাঁশের মতো লম্বা সে ,শাদা একটা গোল টুপি পরে আছে মাথায়, যা দেখে পতাকা টাঙানো বাঁশের কথা মনে পড়ে। কম্পিত স্বরে, মনে করার চেষ্টা করতে করতে বলতে শুরু করলো সেঃ ‘আমি শিম কুটছিলাম, এমন সময় তারা বাড়িতে ঢোকে। তাদের দেখে আমার সন্দেহ হলো, কারণ তাদের মোটেও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিলো না। মনেমেনে ভাবলাম, নিশ্চয়ই কোনো শয়তানি বুদ্ধি পাকিয়েছে দুটোতে মিলে। ‘তারা আমাকে আপাদমস্তক দেখছিলো,বিশেষ করে কর্নু, ট্যারা চোখে হাঁ করে দেখছিলো আমাকে। এই দুই কুঁড়ের বাদশার একসাথে চলাফেরা পছন্দ করতাম না আমি। জিজ্ঞেস করলাম,‘কী চাও এখানে?’তারা কোনো উত্তর দিলো না। আমার সন্দেহ ঘনীভূত হলো।’&lt;br /&gt;এমন সময় বউয়ের কথার মাঝখানে বাধা দিয়ে ব্রুমেঁ বললো,‘আমি তখন মাতাল ছিলাম !’&lt;br /&gt;তখন কর্নু ব্রুমেঁর দিকে ফিরে ফিসফিস করে বললো,‘বলো না,দোস্ত,আমরা তখন পুরোপুরি টাল ছিলাম,আমাদের হুঁশ ছিলো না তখন। আর এ কথা মিথ্যেও নয় !’&lt;br /&gt;তখন জজ জিজ্ঞেস করলেন,‘তোমরা তখন মাতাল ছিলে ?’&lt;br /&gt;ব্রুমেঁ: জি, ধর্মাবতার, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।&lt;br /&gt;কর্নুঃ মদ খেলে কে না মাতাল হয়!&lt;br /&gt;জজ মিসেস ব্রমেঁর দিকে দিকে ফিরে বললেন,‘ আপনি আপনার বক্তব্য শেষ করুন, মিসেস ব্রুমেঁ।’&lt;br /&gt;মিসেস ব্রুমে আবার বলতে শুরু করলো,‘ব্রুমেঁ আমাকে জিজ্ঞেস করলো,‘তুমি কি একশো সৌস কামাতে চাও?’&lt;br /&gt;আমি বললাম,‘হ্যাঁ,চাই।’ কেননা একশো সৌস উপার্জন করা চাট্টিখানি কথা নয়। তখন সে আবার বললো,‘তাহলে ভালো করে দেখো,আমি কী করি ! আর আমি যা বলি ঠিক তাই তোমাকে করতে হবে।’ তখন সে বৃষ্টির পানি ধরার জন্যে ঘরের এককোণে রাখা একটা পিপে টেনে এনে রান্নাঘরের গালিচার ওপর রাখলো। আমাকে বললো,‘পানি এনে এটা ভর্তি করো!’ আমি দুটো বালতি নিয়ে কুয়ো থেকে পানি এনে পিপেটা ভরতে শুরু করলাম। প্রায় একঘন্টা লাগলো পিপেটা ভরতি করতে,কারণ পিপেটা একটা চৌবাচ্চার মতোই বড়ো ছিলো। এই একঘন্টা ওরা লাগাতার মদ গিলে যাচ্ছিলো। যখন আমি বললাম,‘তোমরা দেখি গলা পর্যন্ত গিলে বসে আছো।’&lt;br /&gt;তখন ব্রুমেঁ বললো,‘চিন্তা কোরো না,আমরা ভালো আছি,তুমি নিজের কাজ শেষ করো। তোমাকেও সুযোগ দেওয়া হবে।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘যখন পিপেটা কানায়-কানায় ভরতি হয়ে গেল,তখন ওদের বললাম,‘কাজ শেষ।’&lt;br /&gt;কর্নু আমাকে একশো সৌস বের করে দিলো। ব্রুমেঁ বললো,‘তুমি কি আরো একশো সৌস কামাতে চাও ?’&lt;br /&gt;আমি বিস্ময় চেপে বললাম,‘হ্যাঁ, চাই।’&lt;br /&gt;আমার জবাব শুনে ব্রুমেঁ বললো, ‘তাহলে তোমার কাপড় খুলে ফেলো !’&lt;br /&gt;‘কী ! কাপড় খুলে ফেলবো ?’&lt;br /&gt;‘হ্যাঁ।’&lt;br /&gt;‘সব?’&lt;br /&gt;‘বেশি লজ্জা লাগলে ভেতরের শেমিজটা রাখতে পারো। আমরা রাগকরবো না।’&lt;br /&gt;একশো সৌস কম টাকা নয় যে পথেঘাটে কুড়িয়ে পাওয়া যাবে! তাছাড়া এই দুই অপদার্থের সামনে নগ্ন হতে আমার মোটেও লজ্জা করছিলো না। আমি একেএকে আমার টুপি,জ্যাকেট,স্কার্ট এবং জুতা খুলে ফেললাম। মোজা খুলতে চাইলে ব্রুমেঁ বললো,‘মোজা খোলার দরকার নেই,তুমি ওটা রাখতে পারো, আমরা ভদ্রলোক।’&lt;br /&gt;সায় দিয়ে কর্নুও বললো,‘হ্যাঁ হ্যাঁ,আমরা ভদ্রলোক।’&lt;br /&gt;আর এভাবে প্রায় নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ওরা চেয়ার থেকে ওঠে দাঁড়ালো, কিন্তু নেশার প্রভাবে ঠিকমতো খাড়া হতে পারছিলো না।&lt;br /&gt;আমি মনেমনে ভাবলাম,‘ব্যাপারটা কী?’&lt;br /&gt;তখন ব্রুমেঁ কর্নুকে বলল ‘তুমি তৈরি?’&lt;br /&gt;কর্নু বলল ‘হ্যাঁ।’&lt;br /&gt;তারপর তারা দু’জন আচমকা আমাকে ধরে উঠিয়ে নিলো। ব্রুমেঁ আমার মাথা ধরলো,আর কর্নু ধরলো পা। আমি চিৎকার করতে শুরু করলাম। তখন ধমক দিয়ে ব্রুমেঁ বলল,‘চুপ থাক, বেয়াদ্দপ মেয়েছেলে!’&lt;br /&gt;তাপরপর তারা আমাকে পিপের ভেতর ফেলে দিলো। রক্ত হিম হয়ে গেল আমার। ভয়ে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো।ব্রুমেঁ বললো,‘খেল খতম?’&lt;br /&gt;কর্নু বললো,‘হ্যাঁ।’&lt;br /&gt;ব্রুমেঁ বললো,‘মাথা তো এখনো বাইরে রয়ে গেছে,মাপতে সমস্যা হবে।’&lt;br /&gt;‘পানিতে চেপে ধরলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়,’ সমাধান বাতলে দিলো কর্নু।&lt;br /&gt;ব্রুমে আমার মাথাটা চেপে ধরলো, যেন সে আমাকে চুবিয়ে মারতে চায়। নাকেমুখে পানি ঢুকে বিষম খেলাম আমি,নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মনে হলো মারা যাচ্ছি। মাথা তুলতে চাইলাম,কিন্তু সে আবার চেপে ধরলো আমার মাথা। প্রাণভয়ে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু করলাম ছাড়া পাওয়ার জন্যে। এবার বোধহয় সে ভয় পেয়ে গেল। তাড়াতাড়ি আমাকে বাইরে বের করে আনলো, বললো,‘যা, হারামজাদি, কাপড় পরে আয়!’&lt;br /&gt;ভয়ে-আতঙ্কে তখন আমি দিশেহারা। সুযোগ পেয়ে পড়িমরি করে দৌড় দিলাম। একছুটে একেবারে গাঁয়ের ডাক্তারের বাড়িতে। ডাক্তার আমাকে তাড়াতাড়ি তাদের চাকরানির একটা স্কার্ট এনে দিলেন; কারণ প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে আমি কাপড়চোপড় ছাড়াই পালিয়ে এসেছিলাম। এরপর ডাক্তার গাঁয়ের চৌকিদার মাইত্রে শিকোকে খবর দিতে গেলেন। তারপর শিকো পুলিশ নিয়ে আসলো ক্রিকেতো গিয়ে ।&lt;br /&gt;বাড়ি ফিরে আমরা দেখলাম,দুজনে তখন ঝগড়া করছে। ব্রুমেঁ চিত্কার করছিলোঃ‘এটা ঠিক নয়! এতে কম করেও আরো এক ঘনমিটার পানি ধরবে, আমার কথা শোন,তোর হিসেবে ভুল আছে।&lt;br /&gt;উল্টো কর্নু চেচিয়ে বললো,‘চার বালতি পানিতে আধা ঘনমিটারের বেশি হবে না, তুই চোপা বন্ধ কর,মাথামোটা,আমার হিসেবই ঠিক!’&lt;br /&gt;‘এরপর পুলিশের দারোগা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করলো। ব্যস,এটুকুই আমার বলার ছিলো।’&lt;br /&gt;এই বলে সে বসে পড়লো। আদালতে উপস্থিত লোকজন হাসছিলো ওর বক্তব্য শুনে। জুরিরা হতাশ দৃষ্টিতে একে-অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন।&lt;br /&gt;জজ বললেন,‘বিবাদী কর্নু, মনে হচ্ছে এসব তোমারই শয়তানি! তোমার কিছু বলার আছে এ ব্যাপারে?’&lt;br /&gt;কর্নু উঠে দাঁড়ালো। বললোঃ ‘ধর্মাবতার, আমি তখন নেশায় বুঁদ ছিলাম!’&lt;br /&gt;গম্ভীর হয়ে জজ বললেন,‘তাতো দেখতেই পাচ্ছি,তারপর কী হলো বলো।’&lt;br /&gt;‘জি,বলছি। প্রায় ন’টার দিকে ব্রুমেঁ আমার কাছে আসে। দুই পেগ মদের অর্ডার দিয়ে বলে,‘একটা তোমার জন্যে।’ আমি অবাক হলাম না - কারণ মদ্যপানের ব্যাপারে লোকজন সাধারণত দিলদরিয়া হয় -ওর সাথে বসে টানতে শুরু করলাম। এরপর আমিও তাকে এক পেগ খাওয়ালাম আমার পক্ষ থেকে। সে আবার আমাকে খাওয়ালো। এভাবে চললো প্রায় দুপুর পর্যন্ত, আকন্ঠ মদ গিলে আমরা তখন পুরোপুরি মাতাল।’&lt;br /&gt;‘এরপর ব্রুমেঁ হঠাৎ কাঁদতে শুরু করলো। ওর কান্না দেখে আমার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কী হয়েছে জানতে চাইলে সে বললোঃ ‘বৃহস্পতিবারের মধ্যে যেভাবেই হোক আমাকে এক হাজার ফ্রাঁ জোগাড় করতে হবে।’ ওর কথা শুনে আমি কিছুটা ঠান্ডা মেরে গেলাম। বুঝতে পারছেন তো,ধর্মাবতার ? এরপর ও হড়বড় করে বললো,‘আমি আমার বউকে বেচে দেবো, কিনবে তুমি?’&lt;br /&gt;‘আমি তখন নেশার ঘোরে,আর আমার বউ মারা গেছে বহুদিন আগে। বুঝতেই পারছেন, ধর্মাবতার, কথাটা শুনে আমি কিছুটা অস্থির হয়ে পড়লাম। আমি তার বউকে কখনো দেখিনি,কিন্তু এটাতো ঠিক যে তার বউ একজন মহিলা,ঠিক কিনা? আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম,‘কতো হলে তুমি তোমার বউকে বেচবে?’&lt;br /&gt;একথা শুনে সে চমকে উঠলো,অথবা চমকে ওঠার ভান করলো। উত্তরে সে যা বললো তা একজন মাতালই শুধু বলতে পারেঃ‘আমি তাকে ঘনমিটারের হিসেবে বেচবো!’ একথা শুনে আমি মোটেও অবাক হলাম না,কারণ আমি নিজেও তখন বদ্ধ মাতাল,আর একজন মাতালের কাছে কোনোকিছুই অসম্ভব নয়। ঘনমিটারের হিসেব আমি ভালোই বুঝতাম, আমার ব্যবসায় একহাজার লিটার মানে এক ঘনমিটার। তখনো দরদাম হয়নি।&lt;br /&gt;আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম,‘এক ঘনমিটারের জন্যে কতো চাও তুমি?’&lt;br /&gt;সে বললো,‘ দুই হাজার ফ্রাঁ। খরগোশের মতো খুশিতে লাফিয়ে উঠলাম আমি। ভাবলাম এই মহিলা কিছুতেই তিনশো লিটারের বেশি হবে না।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;কিন্তু মুখে বললাম,‘দামটা বেশি হয়ে যাচ্ছে না?’ &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;ব্রুমে বললো,‘এর কমে দিতে পারবো না,ভাই, লোকসান হয়ে যাবে!’&lt;br /&gt;‘বুঝতেই পারছেন, ধর্মাবতার,নিজের স্বার্থ একটা মাতালও বুঝতে পারে। কিন্তু সে যদি শুয়োরের মাংস বিক্রিতে সিদ্ধহস্ত হয়, আমি তাকে সুদ্ধু বিক্রি করে দেওয়ার বুদ্ধি রাখি। হা হা হা! তো, আমি তাকে বললাম,‘যদি তোমার বউ নতুন হতো,তাহলে আমার আপত্তি ছিলো না। কিন্তু সে অনেকদিন তোমার বউ ছিলো,অর্থাৎ সে এখন আর আগের মতো খুব একটা তাজা নয়। আমি তোমাকে প্রতি ঘনমিটার পনেরো শ’ ফ্রাঁ করে দেবো, এরবেশি একটাকাও না। রাজি থাকলে বলো।’&lt;br /&gt;সে বললো,‘ঠিক আছে,তা-ই সই!’&lt;br /&gt;এরপর দু’জনে হাত ধরাধরি করে আমরা দোকান থেকে খুশিমনে বেরিয়ে পড়লাম। কিন্তু একটা শঙ্কা জাগলো আমার মনে,তাই ব্রুমেকে জিজ্ঞেস করলাম,‘তরল কিছুতে না ঢেলে কিভাবে তাকে তুমি মাপবে?’&lt;br /&gt;‘সে তার পরিকল্পনা জানালো। বললোঃ ‘প্রথমে একটা পিপে নেবো,তারপর পানি দিয়ে সেটাকে কানায়কানায় ভরতি করবো। এরপর তাকে ওটার ভেতর ফেলে দেবো। যেটুকু পানি বাইরে পড়বে,সেটা মেপে নেবো। ব্যস,এভাবে আমরা নিঁখুত মাপ পেয়ে যাবো।’&lt;br /&gt;আমি বললাম,‘বুঝেছি! কিন্তু যে-পানি বাইরে পড়ে যাবে সেটা তুমি মাপবে কিভাবে?’&lt;br /&gt;‘তখন সে আমাকে বোঝাতে শুরু করলোঃ ওর বউকে পিপেতে ফেলার পর যে-পানিটুকু বাইরে পড়বে,পুনরায় সেটা ভরতি করা হবে। যেটুকু পানি ভরা হবে সেটাকে মেপে নেওয়া হবে। অর্থাৎ দশ বালতি পানি ভরলে হবে এক ঘনমিটার। দেখলেন, ব্রুমেঁ আসলে মোটেও বোকা নয় - মদ খেলেই শুধু বুড়ো ঘোড়া হয়ে যায় সে।’তো আমরা তার বাড়িতে পৌঁছলাম। একনজর তার বউকে দেখে বুঝলাম,খুশিতে বগল বাজানোর মতো রূপবতী সে নয়। দেখুন,এখানেই সে আছে। তো,তাকে দেখে মেজাজটা খিঁচড়ে গেলেও,নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে মনেমনে বললাম, সুন্দরী হোক আর বান্দরী,তাতে কী আসে যায়? কাজে তো আসবে! ভালো করে আরেকবার তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, চেহারার মতো শরীরটাও খুব একটা সুবিধের না, একেবারে রোগা-পাতলা। মনেমনে ভাবলামঃ যাক, চারশো লিটারের বেশি হবে না সে মোটেও! মদের ব্যবসা করতে করতে তরল জাতীয় দ্রব্যের হিসাব ভালোই বুঝতাম আমি। এরপর কী ঘটেছে সেটা জানিয়েছে সে আপনাকে। লোকসান হবে জেনেও শেমিজ আর মোজা জোড়া তাকে খুলতে দিইনি,কারণ আমি ভদ্রলোক। একফাঁকে সে পালিয়ে গেল।&lt;br /&gt;আমি ব্রুমেঁকে বললাম,‘ব্রুমেঁ, দেখো সে পালাচ্ছে!’&lt;br /&gt;‘চিন্তা কোরো না,’ বলল সে। ‘আমি তাকে ধরে নিয়ে আসবো। তাছাড়া রাতের বেলা তো তাকে ফিরতেই হবো। এসো আমরা পানিটা মেপে নিই।’এরপর আমরা পানি মেপে নিলাম। চার বালতিও হয় নি। হা হা হা! ’&lt;br /&gt;হাসতে শুরু করলো কর্নু পাগলের মতো । শেষ পর্যন্ত পেছনে দাঁড়ানো সিপাহিরা বাধা দিয়ে তাকে শান্ত করলো। কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আবার সে বলতে শুরু করলোঃ ‘তখন ব্রুমেঁ চিত্কার শুরু করলো,‘কিছুই হচ্ছে না, তোমার হিসেবে ভুল আছে!’&lt;br /&gt;আমিও ক্রমাগত চেঁচাতে শুরু করলাম। এরপর সে আমাকে ঘুসি মারলো, আমিও তাকে মারলাম,সে আবার আমাকে মারলো। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত হয়তো আমাদের ঝগড়া চলতে থাকতো, কারণ আমরা দুজনেই ছিলাম বদ্ধ মাতাল। পরে পুলিশ এসে গ্রেফতার করে আমাদের জেলে নিয়ে গেল।’&lt;br /&gt;কর্নু বসে পড়লো। ব্রুমেঁ তার অপকর্মের সহচর কর্নুর সব কথায় সায় দিলো। জুরিরা ফাঁপরে পড়ে গেলেন এই অদ্ভুত মামলার সমাধান করতে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যে তারা আদালতের ভেতরের কক্ষে চলে গেলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক পর তারা ফিরে এসে তাদের রায় শোনালেন।&lt;br /&gt;দাম্পত্যজীবনের মাহাত্ম্য, দায়-দায়িত্ব আর ব্যবসায়িক আদান-প্রদানের ন্যূনতম সীমারেখা সম্পর্কে সাবধান করে দিয়ে ব্রুমেঁ আর কর্নুকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হলো।&lt;br /&gt;ব্রুমেঁ তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজগৃহে ফিরে গেল।&lt;br /&gt;আর কর্নু ফিরে গেল তার নিজের ব্যবসায়।&lt;br /&gt;..................... &lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-3363720303789663862?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/3363720303789663862/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=3363720303789663862&amp;isPopup=true' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/3363720303789663862'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/3363720303789663862'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/06/blog-post_20.html' title='বেচাকেনা'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-1968082579744349773</id><published>2007-06-17T00:52:00.011+04:00</published><updated>2010-01-23T17:02:11.645+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>লটারি</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="color: black; font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;b&gt;মূল: মুনশি প্রেমচাঁদ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রূপান্তর: মোসতাকিম রাহী&lt;br /&gt;.......................................................................................................&lt;br /&gt;আধুনিক হিন্দি সাহিত্যের জনক মুনশি প্রেমচাঁদের 'লটারি' গল্পটি বাংলায় রূপান্তর করেছিলাম মূল হিন্দি থেকে। প্রকাশিত হয় 'আজকের কাগজ'এর সাহিত্যসাময়িকী 'সুবর্ণরেখা'তে।&lt;br /&gt;......................................................................................................&lt;br /&gt;&lt;b&gt;সংক্ষেপে প্রেমচাঁদ&lt;/b&gt;: প্রেমচাঁদের আসল নাম ধনপত রায় শ্রীবাস্তব। আধুনিক হিন্দি সাহিত্যের অন্যতম এই কথাশিল্পী জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালের ৩১ জুলাই অবিভক্ত ভারতের বারাণসী জেলার লমহী গ্রামে। উর্দু ভাষায় তাঁর সাহিত্যের হাতে খড়ি, তখন তিনি ‘নবাব রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন। ১৯০৭ সালে যখন বৃটিশ সরকার কতৃক তাঁর ‘সজ-এ-বতন’ গল্প সংকলনটি নিষিদ্ধ করা হয়, এবং এর সবকগুলো কপি জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়, তখন থেকে তিনি ‘মুনশি প্রেমচাঁদ’ ছদ্মনামে লিখতে শুরু করেন এবং এই নামেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অতি অল্প বয়সে প্রেমচাঁদের মা-বাবা মারা যান, ফলে শৈশব কাটে তাঁর দারুণ দারিদ্র্যের মাঝে। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন কৃতিত্বের সাথে। তারপর গ্রামের সরকারি স্কুলে মাসে ১৮ রুপি বেতনে চাকরি নেন। পরে সাব-ডেপুটি ইন্সপেক্টর হিসেবে শিক্ষা বিভাগে কাজ করেন। ১৯২১ সালে গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দেন। এরপর একটি ছাপাখানা খোলেন, এবং নিজের সম্পাদনায় প্রকাশ করেন ‘হংস’ নামক সাহিত্য পত্রিকা।সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতে তাঁর দৃপ্ত পদচারণা ছিলো- গল্প, উপন্যাস, নাটক, অনুবাদ, চিত্রনাট্য কোনো কিছুই বাদ যায় নি। দুইযুগের সাহিত্যিক জীবনে লেখা প্রায় তিনশো ছোটো গল্প আট খন্ডে ‘মানসরোবর’ নামে প্রকাশিত হয়। তাঁর তেরোটি উপন্যাসের মধ্যে ‘গো-দান’, ‘রঙ্গভূমি’, ‘সেবাসদন’, ‘কর্মভূমি’, ইত্যাদি বিখ্যাত। প্রেমচাঁদ তাঁর গল্পে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত ভাষা ব্যবহার করতেন। যে-কারণে চরিত্র অনুযায়ী উর্দু এবং ইংরেজি শব্দের ব্যবহার দেখা যায় তাঁর গল্পে। গি দ্য মপাসাঁ’র গল্পের মতোই সমাজের সবশ্রেণির, সব পেশার মানুষের কথা উঠে এসেছে তাঁর গল্পে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায় তাঁর গল্প এবং উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ১৯৩৬ সালের ১৮ অক্টোবর পরলোক গমন করেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক।&lt;br /&gt;........................................................................................................&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাড়াতাড়ি বড়োলোক হতে কে না চায়? আমাদের এখানে যখন প্রথম লটারির টিকেট বিক্রি শুরু হয় তখন আমার বন্ধু বিক্রমের বাবা-মা,চাচা এবং বড়ো ভাই প্রত্যেকে একটা করে টিকেট কেনে। কে জানে কার ভাগ্য খুলে যায়! কারো নামে যদি লটারি লাগে তো টাকাটা ঘরেই রইলো, এই ভেবে একাধিক টিকেট কেনা।&lt;br /&gt;কিন্তু ব্যাপারটা বিক্রমের সহ্য হলো না। অন্যদের নামে লটারি উঠলে তার কী লাভ? খুব বেশি হলে পাঁচ-দশ হাজার টাকা তার হাতে ধরিয়ে দেবে, এই-ই তো! কিন্তু এতো অল্প টাকায় তার কী হবে! তার চায় অঢেল টাকা! জীবনের রঙ-রস উপভোগ করার অনেক স্বপ্ন তার, অনেক পরিকল্পনা আছে। সে সারা পৃথিবীত ঘুরে বেড়াতে চায়,একেবারে একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত। পেরু, ব্রাজিল, টিম্বাকটু, হনলুলু এসব জায়গায় যাওয়ার খুব শখ তার। তাও কোথাও গিয়ে দু-একমাস থেকে ফিরে আসা নয়, যেখানেই যাবে লম্বা সময় সেখানে থেকে সেখানকার সংস্কৃতি, রীতি-নীতি পর্যবেক্ষণ করবে। কারণ, বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনযাপনের ওপর বৃহদাকার একটা বই লেখার ইচ্ছে আছে তার। বড়ো একটা লাইব্রেরি খোলার ইচ্ছেও তার আছে, যেখানে থাকবে পৃথিবীর বিখ্যাত সব লেখকের বই। প্রয়োজনে দু’লাখ টাকা খরচ করবে সে লাইব্রেরির জন্যে। বাংলো, গাড়ি আর ফার্নিচারের কথাতো বলাই বাহুল্য!&lt;br /&gt;বাপ-চাচা কারো নামে লটারি লাগলে পাঁচ হাজারের বেশি পাওয়া যাবে না। মায়ের নামে যদি ওঠে হয়তো বিশ হাজার টাকা তিনি দেবেন। কিন্তু বড়ো ভায়ের নামে উঠলে যে এক কানা কড়িও পাওয়া যাবে না, এটা হলফ করে বলা যায়। খুব অভিমান হলো বিক্রমের। নিজের বাপ-ভায়ের কাছ থেকেও সাহায্য কিংবা দান-খয়রাত হিসেবে কিছু নেওয়া তার কাছে অপমানজনক মনে হলো। কথায় আছে, কারো কাছে হাত পাতার চেয়ে কুয়োর পানিতে ডুবে মরা অনেক ভালো। কেউ যদি সংসারে নিজের স্থান তৈরি করতে না পারে, তো সংসার ত্যাগ করা-ই তার উচিৎ।&lt;br /&gt;বিক্রম বেকার মানুষ, লটারির টিকেট কেনার জন্যে কে ওকে টাকা দেবে! অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সে আমাকে বললো, ‘আচ্ছা আমরা দু’জনে মিলে লটারির টিকেট কিনলে কেমন হয়?’&lt;br /&gt;ওর প্রস্তাব আমার পছন্দ হলো। আমি তখন একটা স্কুলে মাস্টারি করি। মাসে বিশ টাকা মাইনে পাই। কোনোমতে খেয়েপরে দিন যাপন করি। আমার মতো মানুষের দশটাকা খরচ করে লটারির টিকেট কেনা আর হাতি কেনা একই কথা। হ্যাঁ, লটারি পেয়ে গেলে সেই টাকা কোথাও খাটিয়ে কিংবা ব্যাংকে রেখে নিশ্চিন্তে খাওয়া-পরা চলতে পারে। মাসে চার হাজার টাকা যদি আসে, জনের ভাগে দুই হাজার করে মন্দ নয়।&lt;br /&gt;বিক্রমকে বললাম, ‘আমারতো মনে হয় দু’হাজার টাকায় তুমি আরামসে চলতে পারবে।&lt;br /&gt;উত্তেজিত হয়ে বিক্রম বললো,‘ ভিখারির মতো আমি থাকতে পারবো না, আমি রাজার হালে থাকতে চাই।’&lt;br /&gt;‘দু’হাজার টাকায় সেটা তুমি সহজেই পারো।’&lt;br /&gt;‘কিন্তু তুমি তোমার হিস্যা থেকে আমাকে দু’লাখ টাকা না দিলে আমি তো লাইব্রেরি বানাতে পারবো না।’&lt;br /&gt;‘এটাতো অপরিহার্য নয় যে, তোমাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে লাইব্রেরি বানাতে হবে।’&lt;br /&gt;‘আমার লাইব্রেরিকে অবশ্যই অন্যদের চেয়ে আলাদা হতে হবে।’&lt;br /&gt;‘এটা তুমি দাবি করতে পারো। কিন্তু আমার ভাগের টাকা থেকে তোমাকে আমি কিছুই দিতে পারবো না। আমার প্রয়োজনটা দেখো, তোমাদের অনেক সয়-সম্পত্তি আছে। তোমার ওপর তেমন কোনো দায়িত্বও নেই। কিন্তু আমার ওপর পুরো সংসারের বোঝা। দুই বোনের বিয়ে দিতে হবে, ভাইদের লেখাপড়া করাতে হবে। একটা বাড়ি তৈরি করতে হবে। আমিতো টাকাগুলো সোজা ব্যাংকে রেখে দেবো। তা থেকে যা সুদ আসবে সেটা দিয়ে কাজ চালিয়ে নেবো। এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেবো, যাতে আমার অবর্তমানে কেউ অই টাকায় হাত লাগাতে না পারে।’&lt;br /&gt;বিক্রম সহানুভুতির সুরে বললো,‘ ঠিক বলেছো, এই অবস্থায় তোমার কাছ থেকে কিছু চাওয়াটা অন্যায়। যাক, আমিই কোনো একটা ব্যবস্থা করে নেবো। কিন্তু একটা ব্যাপার কি খেয়াল করেছো, ব্যাংকের সুদের হার তো আজকাল অনেক কমে গেছে।’&lt;br /&gt;আমরা বেশ কয়েকটা ব্যাংকে গিয়ে তালাশ করলাম। আসলেই সুদের হার খুব কম দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। শতকরা দু’-আড়াই টাকা সুদে টাকা ফেলে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তারচেয়ে সুদে টাকা ঋণ দেওয়া শুরু করলে কেমন হয়? বিক্রমও সফরে যাবে না, দু’জন মিলে কারবার দাঁড় করে ফেলতে পারবো। কিছু অর্থ হাতে এসে গেলেই বিক্রম সফরে যাবে। লেনদেনের ব্যবসায় সুদও পাওয়া যাবে প্রচুর। কিন্তু যতোক্ষণ পর্যন্ত কারো জন্যে বিশ্বস্ত জামানত পাওয়া না যাবে, তাকে ঋণ দেওয়া হবে না। সে যতো সম্মানী মানুষই হোক না কেন। অবশ্য এর চেয়ে সম্পত্তির দলিল দস্তাবেজ রেখে টাকা দিলে আরো ভালো হয়, কোনো খটকা থাকবে না।যাক, টাকা খাটানোর রাস্তা তো ঠিক হলো। এখন টিকেটে কার নাম থাকবে সেটা হলো কথা। বিক্রমের নাম থাকবে, নাকি আমার? বিক্রম তার নাম লেখানোর আগ্রহ দেখালো। যদি তার নাম না থাকে টিকেটই কিনবে না সে। কোনো উপায় না দেখে আমি মেনে নিলাম। কোনোরকম লেখাজোকা না করেই, যে-কারণে পরে আমার সমস্যা হয়েছিলো।&lt;br /&gt;শুরু হলো অপেক্ষার প্রহর গোনা, কবে টিকেট কিনবো! সকালে ঘুম ভাঙার সাথে সাথেই আমার চোখ চলে যেতো ক্যালেন্ডারের পাতায়। বিক্রমের বাড়ি আর আমার বাড়ি ছিলো পাশাপাশি। স্কুলে যাওয়ার সব খরচ বাঁচিয়ে পাঁচটাকা কোনোরকমে যোগাড় করা যায়। তারপরও ভাবতাম, যদি কিছু বাড়তি টাকা অন্য কোনোভাবে জোগাড় করা যেতো তাহলে খুবই ভালো হতো!&lt;br /&gt;বিক্রম বললো,‘আচ্ছা, আমার আঙটিটা বেচে দিলে কেমন হয়? বাড়িতে বলবো যে হারিয়ে গেছে!'&lt;br /&gt;আঙটিটা দশটাকার কম হবে না। অই টাকা দিয়ে সহজেই টিকেট কেনা যায়। যদি কোনোরকম খরচ ছাড়াই টিকেটের অর্ধেক ভাগ পাওয়া যায় তাহলে মন্দ কী! কিন্তু আমার মতলব বোধহয় টের পেয়ে গেলো বিক্রম। বললো,‘পাঁচটাকা তোমাকে টিকেট কেনার আগেই নগদ দিতে হবে। তা না হলে আমি কিন্তু নেই।’&lt;br /&gt;ওর কথা শুনে আমার ভেতর ন্যায়বোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। বললাম,‘ এটা কিন্তু ঠিক হবে না, কেউ যদি বুঝতে পারে যে তুমি আঙটি বেচে দিয়েছো, তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে! তোমার সাথে আমাকেও অপমানিত হতে হবে।’&lt;br /&gt;শেষ পর্যন্ত স্থির হলো আমাদের পুরোনো পাঠ্যবই বিক্রি করে সেই টাকায় টিকেট কেনা হবে। এই মুহূর্তে লটারি কেনার চেয়ে দরকারি কাজ আর কিছু নেই। আমি আর বিক্রম একসাথে মেট্রিক পাস করেছি। কিন্তু যখন দেখলাম কষ্ট করে যারা লেখাপড়া করে ডিগ্রি হাসিল করছে, তাদের চেয়ে গন্ডমূর্খরা বেশ ভালো আছে, তখন দু’জনে লেখাপড়া বন্ধ করে দিলাম। আমি যোগ দিলাম ইস্কুলের শিক্ষক হিসেবে আর বিক্রম গেরস্থালি করতে লাগলো। আমাদের বইগুলো এখন উইয়ের খাদ্য হওয়া ছাড়া আর কোন্ কাজেই বা আসবে! গোলাঘরের এককোণে বইগুলো ফেলে রেখেছিলাম, বের করে সেগুলো ঝাড়ামোছা করে একটা বড়ো গাঁটরি বাঁধলাম দু’জনের গুলো মিলিয়ে। ইস্কুলমাস্টার হিসেবে সবাই আমাকে চেনে। তাই কোনো দোকানে গিয়ে বইগুলো বেচতে লজ্জা লাগছিলো। বাধ্য হয়ে বিক্রমকেই এই মহৎ কর্মটি সাধনের ভার দেওয়া হলো। আর সে মাত্র আধঘন্টার ভেতর দশটাকার একটা নোট হাতে নাচতে নাচতে আমার কাছে ফিরে এলো। এতো খুশি তাকে আমি আগে কখনো দেখিনি। বইগুলো যদিও চল্লিশটাকার কম হবে না, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের কাছে মনে হচ্ছিলো দশটাকা আমরা কুড়িয়ে পেয়েছি। এই টাকায় অর্ধেক ভাগ পাওয়া যাবে টিকেটের। দশলাখ টাকার পুরস্কার। পাঁচলাখ আমার, পাঁচলাখ বিক্রমের। এই দিবাস্বপ্নে মগ্ন ছিলাম আমরা দু’জন।&lt;br /&gt;‘পাঁচলাখ কিন্তু কম টাকা নয়, বিক্রম,’ প্রসন্নচিত্তে ওকে বললাম। বিক্রম আমার মতো খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলো না। বললো, ‘পাঁচলাখ কেন, এই মুহূর্তে পাঁচশো টাকাও আমার জন্যে অনেক। কিন্তু বহুবছরের স্বপ্ন-পরিকল্পনা বাদ দেওয়া কি এতোই সোজা! তবুও প্রোগ্রাম বদলাতে হবে। লাইব্রেরি গড়ার পরিকল্পনা বাদ, কিন্তু বিশ্বভ্রমণ তো আমাকে করতেই হবে।’&lt;br /&gt;আমি আপত্তি করলাম,‘তুমি দু’লাখ টাকায় তো তোমার বিশ্বভ্রমণ শেষ করতে পারো!’&lt;br /&gt;‘জি না, ওটার জন্যে বাজেট হলো সাড়ে তিনলাখ টাকা। বছরে পঞ্চাশ হাজার করে সাত বছরের প্রোগ্রাম।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিদিন ইস্কুল থেকে ফেরার পর আমরা দু’জন একসাথে বসে এভাবে আমাদের স্বপ্ন রচনা করতাম। কথা বলতাম নিচুস্বরে, যাতে কেউ আমাদের কথা শুনতে না পায়। কারণ লটারির টিকেট কেনার রহস্য আমরা গোপন রাখতে চাইছিলাম। সত্যি সত্যি যদি লটারি লেগে যায় তাহলে লোকজন কী পরিমাণ অবাক হবে সেটা ভেবে ভীষণ আমোদ হতে লাগলো আমাদের। এখন সবাইকে টিকেট কেনার কথা বলে দিলে সেই মজাটা আর পাওয়া যাবে না।একদিন প্রসঙ্গক্রমে বিয়ের কথা উঠলো। বিক্রম দার্শনিকের মতো ভাব নিয়ে গম্ভীরগলায় বললো,‘ভাই, এসব বিয়ে-শাদির যন্ত্রণা সহ্য করা আমার কম্মো নয়! মেয়েছেলে মানেই ঝামেলা! বউয়ের খাই মেটাতে মেটাতে জীবন শেষ হয়ে যাবে।’&lt;br /&gt;আমি তার সাথে একমত হতে পারলাম না। বললাম,‘বিয়ের পর খরচ একটু বাড়বে তা ঠিক, কিন্তু যতোক্ষণ পর্যন্ত দুঃখ-কষ্টের ভাগ নেওয়ার জন্যে একজন সঙ্গিনী না আসে তাহলে জীবনের মজাইতো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমি বিয়ে-শাদির বিপক্ষে নই। হ্যাঁ, এটা অবশ্য ঠিক এমন একজন সাথি দরকার যে সারাজীবন সঙ্গে থাকবে। এমন সাথি একমাত্র স্ত্রী ছাড়া আর কেউ হতে পারে না।’&lt;br /&gt;বিক্রম খেপে গেলো আমার কথায়। ‘তুমি থাকো তোমার মতো! কুকুরের মতো বউয়ের পেছন-পেছন ঘোরো, আর বাচ্চাকাচ্চার ক্যাঁওম্যাঁও কে ঈশ্বরের আশীর্বাদ মনে করে খুশিমনে জীবন যাপন করো। তোমাকে অভিনন্দন! আমি থাকবো স্বাধীন, মুক্তবিহঙ্গের মতো। যখন যেখানে মন চায় চলে যাবো, যা মন চায় করবো। ইচ্ছে হলো বাড়ি ফিরবো, নয়তো ফিরবো না। পাহারাদারের মতো সারাক্ষণ একজন খবরদারি করবে এটা আমি সহ্য করতে পারবো না। বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হলেই জবাব চাইবে:‘কোন চুলোয় গিয়েছিলে এতোক্ষণ,অ্যাঁ?’ আর খুশিমনে হয়তো কোথাও যেতে বের হলাম তখন বাধা দিয়ে বলবে:‘কোথায় যাওয়া হচ্ছে মিনসের শুনি!’ দুর্ভাগ্যক্রমে যদি সেও সঙ্গী হয়, তাহলে তো কেল্লাফতে, পানিতে ডুবে মরা ছাড়া আর গত্যন্তর থাকবে না!‘ভাই, তোমার প্রতি আমি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখাতে পারছি না। বাচ্চার সামান্য সর্দি-কাশি হলে অস্থির হয়ে দৌড়ে যাও হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে। আর একটু বয়স হয়ে গেলে ছেলেরা মনেমনে চাইবে কখন তুমি পটল তুলছো, যাতে তারা ইচ্ছেমতো চলতে পারে। সুযোগ পেলে তোমাকে বিষ খাইয়ে মারবে, আর প্রচার করবে তোমার কলেরা হয়েছিলো। এই ঝামেলায় আমি নেই, ভাই।’&lt;br /&gt;এমন সময় কুন্তি এলো। বিক্রমের ছোটো বোন। বছর এগারো হবে বয়স, ষষ্ঠশ্রেণিতে পড়ে, আর পরীক্ষায় নিয়মিত ফেল মারে। ভীষণ দুরন্ত আর বেয়াড়া মেয়ে। এতো জোরে সে দরোজা খুললো যে, চমকে গিয়ে আমরা লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। বিক্রম রেগে গিয়ে বললো,‘অ্যাই বুড়ি শয়তান, কে বলেছে তোকে এখানে আসতে, অ্যাঁ?’&lt;br /&gt;গোয়েন্দা পুলিশের মতো কুন্তি ঘরের চারিদিকে চোখ বুলিয়ে বললো, ‘তোমরা সারাক্ষণ কেবাড় বন্ধ করে এই ঘরে করোটা কী? যখনই আসি দেখি এখানে বসে আছো। কোথাও ঘুরতে যাও না, আড্ডা দিতে যাও না। কী মন্ত্র জপতে থাকো সারাক্ষণ দু’জনে মিলে?’&lt;br /&gt;বিক্রম কুন্তির ঘাড় চেপে ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বললো,‘হ্যাঁ, একটা মন্ত্র জপছি, যাতে তাড়াতাড়ি তোর জন্যে একটা বর পাওয়া যায়, যে তোকে প্রতিদিন গুনে গুনে পাঁচটি চাবুক মারবে।’&lt;br /&gt;‘এমন স্বামীকে বিয়ে করতে আমার বয়েই গেছে,’ নাক ফুলিয়ে জবাব দিলো কুন্তি। ‘আমি এমন কাউকে বিয়ে করবো যে আমার সামনে সবসময় মাথা নিচু রাখবে। আমি যা বলবো তা-ই করবে,আমার কথার অবাধ্য হবে না। মা বলেছেন লটারির পুরস্কার থেকে তিনি আমাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেবেন। ব্যস, ঐ টাকায় ফূর্তি করবো। আমি তো দুই বেলা ঠাকুরের কাছে মায়ের জন্যে প্রার্থনা করি। মা বলেছেন, কুমারী মেয়েদের প্রার্থনা কখনো নিষ্ফল হয় না। আমার মন বলছে মা অবশ্যই লটারির পুরস্কারটা পাবেন।’&lt;br /&gt;কুন্তির কথা মিছে নয়। আমার মনে পড়লো একবার নানাবাড়ি গিয়েছিলাম গ্রামে। তীব্র দাবদাহে চারিদিক শুকিয়ে মরুভূমি প্রায়। সামান্য বৃষ্টির জন্যে হাহাকার করছে সবাই। তখন গ্রামের সবাই চাঁদা তুলে একটা ভোজের আয়োজন করে যতো কুমারী মেয়ে আছে সবাইকে নিমন্ত্রণ করলো। আর ঠিক তিনদিনের মাথায় নামলো মুষলধারে বৃষ্টি। কুমারী মেয়েদের আশীর্বাদে যে কাজ হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই।আমি বিক্রমের দিকে তাকিয়ে চোখে ইশারা করলাম। সে আমার ইশারা বুঝতে পারলো। চোখেচোখে দু’জনে পরামর্শ করে নিলাম। বিক্রম কুন্তিকে বললো,‘আচ্ছা তোকে একটা কথা বললে কাউকে বলবি নাতো? না না, তুই খুব লক্ষ্মী মেয়ে, আমি জানি তুই কাউকে বলবি না। এখন থেকে আমি তোকে ভালো মতো পড়াবো, এবার তুই ঠিকই পাশ করতে পারবি। আসলে হয়েছে কী, আমরা দু’জনেও একটা লটারি কিনেছি। তুই ঈশ্বরের কাছে আমাদের জন্যেও একটু প্রার্থনা করিস, বোন। যদি লটারি পেয়ে যাই তাহলে তোকে সুন্দর সুন্দর গয়না গড়িয়ে দেবো। সত্যি বলছি!’&lt;br /&gt;কিন্তু কুন্তি বিশ্বাস করলো না বিক্রমের কথা। আমরা দু’জনে শপথ করলাম। তারপরও সে শয়তানি করতে লাগলো। শেষমেশ কসম খেয়ে যখন বললাম তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সোনা আর হিরে দিয়ে মুড়ে দেবো, তখন সে রাজি হলো আমাদের জন্যে প্রার্থনা করতে। কিন্তু তার পেটে যে এই সামান্য কথা হজম হবে না সেটা আমরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারি নি। সে সোজা ভেতরে গিয়ে কথাটা মুহূর্তের মধ্যে রাষ্ট্র করে দিলো। শুরু হলো বকাবকি। মা-বাবা-চাচি যে-ই সামনে পাচ্ছে সে-ই দিচ্ছে বকুনি: কী দরকার ছিলো টাকা খরচ করার? নিশ্চয়ই মাস্টার এই বুদ্ধি দিয়েছে! এতোগুলো টাকা পানিতে ফেলে দিলি! বাড়িতে কতোজনে টিকেট কিনেছে, তোর কী প্রয়োজন ছিলো কেনার! ওরা পুরস্কার পেলে সেখান থেকে কি তোকে ভাগ দিতো না! এরপর শুরু হলো আমাকে ধোলাই:‘আর তুমিও মাস্টার, একটা অপদার্থ! ছেলেমেয়েদের ভালো কিছু শেখাবে কি, উল্টো তাদের কুমন্ত্রনা দিচ্ছো!’&lt;br /&gt;বিক্রম আদরের ছেলে, তাকে বেশি আর কী বলবে! রাগ করে দু’-এক বেলা খাওয়া বন্ধ করে দিলেই সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে, উল্টো তাকে সাধাসাধি করতে করতে সবার জান বেরিয়ে যাবে। সবার রাগ এসে পড়লো আমার ওপর। ‘এই মাস্টারের সহচর্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ছেলেটা!’ সবাই রায় ঘোষণা করলো।ছোটোবেলার একটা ঘটনা মনে পড়লো আমার। আমিও বিক্রমের মতো কৌশল অবলম্বন করে একবার বেঁচে গেছিলাম মারের হাত থেকে। সেবার দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে একটা মদের বোতল আনা হয়েছিলো বাড়িতে। মামু অই সময় বেড়াতে এসেছিলেন আমাদের ওখানে। আমি করলাম কী, চুপিচুপি ভাঁড়াড়ে ঢুকে একটা গেলাসে করে কিছুটা শরাব নিয়ে খেয়ে ফেললাম। গলা জ্বলতে শুরু করলো, আর চোখ হয়ে গেলো টকটকে লাল। এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে মামু এসে হাজির হলেন। ধরে ফেললেন হাতেনাতে। আর এতোটা রেগে গেলেন তিনি যে, ভয়ে আমার কলজে শুকিয়ে গেলো। মা-বাবা সবাই মিলে বকাবকি শুরু করলেন। ভয়ে যখন আমি কাঁদতে শুরু করলাম, তারা শান্ত হলেন। আর সেদিন দুপুরে মামু বেহেড মাতাল হয়ে গান গাইতে লাগলেন। এরপর শুরু হলো হলো মড়াকান্না, তারপর মাকে গালাগালি করলেন, আর দৌড়ে দাদুকে গেলেন মারতে । শেষে বমি করতে করতে একসময় মাটিতে পড়ে গেলেন অজ্ঞান হয়ে।&lt;br /&gt;বিক্রমের বাবা বড়ো ঠাকুর সাহেব এবং চাচা ছোটো ঠাকুর সাহেব দু’জনেই ছিলেন জড়বাদী। পূজা-অর্চনায় তাঁদের কোনো আগ্রহ ছিলো না, বরং হাসি তামাশা করতেন তা নিয়ে: পুরোপুরি নাস্তিক। কিন্তু এখন দেখলাম দু’জনেই খুব ঈশ্বর ভক্ত হয়ে উঠেছেন। বড়ো ঠাকুর সাহেব তো সকালে উঠেই চলে যান গঙ্গাস্নান করতে। আর পুরোটা সকাল মন্দিরে কাটিয়ে দুপুরবেলা সারা শরীরে চন্দন ঘষে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। আর ছোটো ঠাকুর তো গরমজলে স্নান করার সময়ও রামনাম জপতে থাকেন। এরপর চলে যান পার্কে, সেখানে গিয়ে চড়ুই-কবুতরদের দানা খাওয়ান পরম আদরে।সন্ধ্যার সময় দু’ভাই বাড়ি ফিরে চলে যান ঠাকুরঘরে। তারপর প্রায় অর্ধেক রাত পর্যন্ত শোনেন ভগবত গীতার শ্লোক।&lt;br /&gt;বিক্রমের বড়ো ভাই প্রকাশ সাধু-সন্ন্যাসীদের ওপর অগাধ আস্থা রাখে। প্রায়ই চলে যায় সে তাদের আস্তানায়, মঠে। সেখানকার ধুলোময়লা সাফ করে, আর দেবি মায়ের সেবায় লেগে থাকে সবসময়। লোকে বলে লোভ-লালসা ভালো নয়,পাপ; কিন্তু আমার মনে হয় এই যে আমরা ধর্মকর্ম করছি, দেবদেবির পূজা করছি, ব্রত পালন করছি, সবকিছুই কিছু না কিছু পাওয়ার লোভে। আমাদের ধর্ম, আমাদের বিশ্বাস টিকে আছে স্বার্থসিদ্ধির গোপন আকাঙ্ক্ষার ওপর। লোভ যে মানুষের চরিত্র, মন-মানসিকতা আমূল বদলে দিতে পারে, এটা আমার জন্যে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।আস্তে-আস্তে যতোই লটারির ফলাফল ঘোষণার দিন ঘনিয়ে আসতো লাগলো ততোই আমাদের মানসিক শান্তি উবে যেতে লাগলো। সারাক্ষণ ঐ চিন্তায় শুধু মাথায় ঘোরে। মাঝেমাঝে নিজের ওপর আমার অকারণে রাগ হতে থাকলো যে, বিক্রম যদি আমাকে লটারির ভাগের টাকা না দেয় তাহলে আমি কী করবো! যদি সে অস্বীকার করে যে লটারিতে আমার কোনো ভাগ নেই, তাহলে? আমার কাছে তো কোনো সাক্ষীসাবুদ, প্রমাণপত্র কিছু নেই। সবকিছু নির্ভর করছে বিক্রমের মর্জির ওপর। ওর মনে যদি বদ মতলব থাকে তাহলেই সেরেছে! কিছুতেই আমি দাবি করতে পারবো না যে, লটারিতে আমারও ভাগ আছে। টুঁ শব্দও করতে পারবো না, করলেও কোনো লাভ হবে না। যদি তার মনে কুমতলব থাকে তাহলে সেটা এখনই বোঝা যাবে, আর যদি তা না থাকে তবে আমার সংকীর্ণতার কথা জানতে পেরে খুব আঘাত পাবে।&lt;br /&gt;আমি জানি, বিক্রম মোটেও এরকম নয়; কিন্তু ধনদৌলত হাতে এলে ক’জনাই বা ঈমান ঠিক রাখতে পারে! এখনো তো টাকা হাতে আসে নি, ঈমানদার সাজতে অসুবিধে কী! পরীক্ষার সময় তো আসবে তখন,যখন দশলাখ টাকা হাতে আসবে। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি টিকেট আমার নামে হতো, তাহলে আমি কি বিক্রম কে এতো সহজে পাঁচলাখ টাকা দিয়ে দিতাম? হয়তো বলতাম, ‘তুমি আমাকে পাঁচটাকা ধার দিয়েছিলে, তার বদলে দশটাকা নাও, একশো টাকা নাও, আর কী করবে!’ কিন্তু না, এরকম অমানুষ আমি হতে পারবো না।পরদিন আমরা পত্রিকা দেখছিলাম। এমন সময় হঠাৎ বিক্রম বললো, ‘যদি সত্যি সত্যি এখন লটারির পুরস্কারটা আমাদের নামে ওঠে, তাহলে আমার আফসোস হবে এই ভেবে যে, কেন শুধু শধু তোমার সাথে মিলে টিকেট কিনলাম!’ মুচকি হেসে সরল ভাবে কথাটা সে বললো। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম, এটা তার মনের প্রকৃত ছবি, যা দুষ্টুমির আড়ালে লুকোতে চাইছে সে।&lt;br /&gt;আমি চমকে উঠে বললাম, ‘সত্যি! কিন্তু এই একই রকম অনুভূতি তো আমারও হতে পারে!’&lt;br /&gt;‘কিন্তু টিকেট তো আমার নামে নেওয়া হয়েছে।’&lt;br /&gt;‘তাতে কী?’&lt;br /&gt;‘মনে করো, তুমিও যে টিকেটর ভাগিদার সেটা আমি অস্বীকার করলাম!’&lt;br /&gt;মেরুদন্ড বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেলো আমার। দু’চোখে আঁধার দেখলাম।‘কিন্তু আমি তোমাকে বদলোক মনে করি না,’ ফ্যাকাসে হেসে বললাম।&lt;br /&gt;‘ঠিক, কিন্তু শয়তান সওয়ার হতে কতোক্ষণ! ভেবে দেখো, পাঁচলাখ! খুব কম টাকা নয় কিন্তু! মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট।’&lt;br /&gt;‘তো ঠিক আছে, এখনো সময় আছে, লেখাজোকা করে নিলেই হয়! আর কোনো সংশয় থাকবে না।’&lt;br /&gt;বিক্রম হেসে বললো,‘তুমি বড়ো সন্দেহ বাতিক লোক,দোস্ত। আমি তোমার পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। আমি কি কখনো তোমাকে ধোঁকা দিতে পারি! পাঁচলাখ কেন, পাঁচকোটি টাকাও যদি হয়্, আমার মনে কখনো খারাপি আসবে না, এ ব্যাপারে তুমি নিশ্চিত থাকো।’&lt;br /&gt;কিন্তু তার এই আশ্বাস বাণী আমি মোটেও বিশ্বাস করতে পারলাম না। সন্দেহের যে-পোকা মনে ঢুকেছে, সেটা শুধু কেটেই চলেছে। আমি আবার বললাম, ‘এটা আমি খুব ভালো করেই জানি যে, তোমার মনে কোনো কলুষতা নেই, কিন্তু লেখাজোকা করে নিলে ক্ষতি কী!’&lt;br /&gt;‘কী দরকার অযথা!’&lt;br /&gt;‘অযথাই না হয় করলাম।’&lt;br /&gt;‘করলে পাকা দলিলই করতে হবে। আর তাতে দশলাখ টাকার হিসেবে কোর্টের ফিস আসবে প্রায় সাড়ে সাত হাজার। কোনো প্রয়োজন আছে এতোগুলো টাকা জলে ফেলার!’&lt;br /&gt;আমি মনে মনে ভাবলাম, শাদা কাগজে লিখে নিলে কেমন হয়? এটা হয়তো ঠিক যে, শাদা কাগজের লেখা দিয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে পারবো না। কিন্তু সমাজের সামনে, লোকজনের সামনে তাকে ধোঁকাবাজ প্রমাণ করতে,তাকে লজ্জিত করতে তো পারবো। আর লোকনিন্দার ভয় কার নেই! লোকজনের সামনে অপমানিত হওয়ার ভয়, আইনের সাজার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।&lt;br /&gt;‘শাদা কাগজে করলেও আমার কোনো আপত্তি নেই, ’বললাম আমি।&lt;br /&gt;বিক্রম হাত নেড়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বললো, ‘যে-কাগজের কোনো আইনি মূল্য নেই, সেটা করে কী লাভ?’&lt;br /&gt;আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, বিক্রমের মনে শয়তানি আছে। নয়তো একটা শাদা কাগজে লিখতে অসুবিধে কী? রেগে গিয়ে বললাম, ‘তোমার মাথায় এখন থেকেই বদ মতলব ঘুরপাক খাচ্ছে।’&lt;br /&gt;নির্লজ্জের মতো সে বললো,‘ তুমি বলতে চাইছো, এই অবস্থায় তোমার খেয়াল খারাপ হতো না?’&lt;br /&gt;‘মোটেও না, আমি এতো নীচ নয়।’&lt;br /&gt;‘আরে রাখো, কী আমার সজ্জন লোক রে! কতো দেখলাম তোমার মতো ভালো মানুষ!’&lt;br /&gt;‘ এক্ষুনি তোমাকে কাগজে লিখে দিতে হবে। তোমার ওপর আমার আর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।’&lt;br /&gt;‘আমার প্রতি যদি তোমার আস্থা না থাকে তাহলে আমিও কোনো লিখিত কাগজ দেবো না।’&lt;br /&gt;‘আচ্ছা! তো তুমি মনে করেছো আমার টাকা খেয়ে হজম করতে পারবে?’&lt;br /&gt;‘কিসের টাকা তোমার, কেমন টাকা?’&lt;br /&gt;‘দেখো বিক্রম, শুধু বন্ধুত্বই নষ্ট হবে না, তারচেয়েও ভয়ংকর কিছু ঘটে যাবে বলে দিচ্ছি!’ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠলো আমার ভেতরে।এমন সময় হঠাৎ করে বৈঠকখানা থেকে ঝগড়ার আওয়াজ ভেসে আসায় আমার মনোযোগ সেদিকে চলে গেলো। সেখানে দুই ঠাকুর সব সময় বসে আড্ডা দেন। তাদের মধ্যে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো, যেটা শুধু দুই আদর্শ ভাইয়ের মধ্যে হতে পারে। একেবারে মানিকজোড়, ঠিক যেন রাম-লক্ষ্মণ! ঝগড়া দূরে থাকুক তাদের মধ্যে কখনো সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে বলেও আমি শুনিনি। বড়ো ঠাকুর যা বলবেন ছোটো ঠাকুর তা মাথা পেতে নেবেন, আর ছোটো ঠাকুরের ইচ্ছে অনিচ্ছের প্রতি সম্মান দেখিয়েই বড়ো ঠাকুর কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন। আমরা দুজন খুব অবাক হয়ে গেলাম এই বন্ধুপ্রতিম দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে বুঝতে পেরে। চুপিচুপি বৈঠকখানার দরোজায় গিয়ে দাঁড়ালাম দু’জন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুই ভাই ইতোমধ্যে নিজেদের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন। চোখ লাল, হাতজোড়া মুঠি পাকানো, দাঁতমুখ খিঁচিয়ে একজন আরেকজনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। বোঝা যায় শুধু হাতাহাতিটাই বাকি আছে।ছোটো ঠাকুর বিক্রমকে দেখতে পেয়ে বললো, ‘যৌথ পরিবারে যা কিছু আসুক, যেখান থেকে আসুক, যার নামেই আসুক না কেন, সেটা সবার নামে সমান ভাগে হিসাব হবে।’&lt;br /&gt;বিক্রমের বাবাও বিক্রমকে দেখতে পেয়েছে। এক কদম সামনে এগিয়ে এসে বিক্রমের বাবা, অর্থাৎ বড়ো ঠাকুর বললেন, ‘মোটেও না, আমি যদি কোনো অপরাধ করি তাহলে পুলিশ আমাকে এসে ধরবে, যৌথ পরিবারকে নয়। শাস্তি আমি পাবো যৌথ পরিবারের কেউ পাবে না। এটা ব্যক্তিগত হিসাব।’&lt;br /&gt;‘ঠিক আছে, এর ফয়সালা আদালতেই হবে।’&lt;br /&gt;‘যাও, খুশিমনে আদালতে যাও। যদি আমার বউ ছেলে কিংবা আমার নামে লটারি ওঠে তাহলে তাতে তোমার কোনো অংশ থাকবে না। ঠিক তেমনি যদি তোমার নামে লটারি ওঠে তাহলে তাতে আমাদের কারো দাবি থাকবে না।’&lt;br /&gt;‘যদি জানতাম, আপনার মনে কুমতলব আছে তাহলে আমিও আমার বউ-বাচ্চার নামের টিকেট কিনতে পারতাম।’&lt;br /&gt;‘ওটা তোমার বোকামি!’&lt;br /&gt;‘হ্যাঁ, কারণ আপনি আমার বড়ো ভাই, বিশ্বাস করেছিলাম আপনাকে।'&lt;br /&gt;‘এটা হচ্ছে একধরনের জুয়াখেলা, তোমার বোঝা উচিৎ। জুয়ার হারজিতের সাথে পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই, থাকতে পারে না। তুমি যদি কাল রেসের বাজিতে পাঁচ-দশ হাজার টাকা হেরে যাও তোমার পরিবার তো তার জন্যে দায়ী হতে পারে না।’&lt;br /&gt;‘ভাইয়ের হক খেয়ে আপনি সুখী হতে পারবেন না।’&lt;br /&gt;‘শকুনের প্রার্থনায় কি আর গরু মরে ভাই!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিক্রমের মা ভেতর থেকে দৌড়ে এলেন দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া লেগেছে শুনে। এসে দু’জনকে বোঝাতে লাগলেন। ছোটো ঠাকুর রেগেমেগে বললেন,‘আমাকে নয়, তুমি তাঁকে বোঝাও। আমি তো একটা মাত্র টিকেট কিনেছি, তার কোনো ভরসা নেই। উনি চার চারটি টিকেট কিনে বসে আছেন। আমার চেয়ে লটারি পাওয়ার চান্স তাঁর চারগুন বেশি। এরপরও যদি তার খেয়াল খারাপ হয়ে যায়, এরচেয়ে লজ্জার, দুঃখের কথা আর কী হতে পারে!’&lt;br /&gt;ঠাকরুন দেবরকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, ‘ আচ্ছা ঠিক আছে, আমার টাকা থেকে আমি তোমাকে অর্ধেক দিয়ে দেবো। খুশি তো?’&lt;br /&gt;বড়ো ঠাকুর বউয়ের কথা শুনে ধমক দিয়ে উঠলেন, ‘কেন অর্ধেক দেবো, কোন হিসেবে দেবো? আমরা যদি ভালো মানুষি দেখিয়ে দেইও, সে পাবে পাঁচভাগের এক ভাগ। কোন যুক্তিতে তাকে অর্ধেক দেবো শুনি? ধর্মমতে বলো আর আইনমতে বলো।’&lt;br /&gt;ছোটো ঠাকুর মুখ ভেংচে বললেন, ‘হ্যাঁ, দুনিয়ার যাবতীয় আইনতো সব আপনিই জানেন!’&lt;br /&gt;‘নয়তো কী, ত্রিশবছর ধরে ওকালতি করছি!’&lt;br /&gt;‘ওকালতি সব বেরিয়ে যাবে যখন কলকাতার ব্যারিস্টার এনে সামনে দাঁড় করিয়ে দেবো।’&lt;br /&gt;‘কলকাতার হোক আর লন্ডনের, আমি থোড়াই কেয়ার করি।’&lt;br /&gt;‘অর্ধেক ভাগ আমি নেবোই। সম্পত্তিতে যেমন আমার অর্ধেক অংশ আছে লটারিতেও আমার অর্ধেক চায়।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমন সময় বিক্রমের বড়ো ভাই প্রকাশ হাতে মাথায় ব্যান্ডেজ, আর দোমড়ানো মোচড়ানো কাপড়চোপড়ে তাজা রক্তের দাগ নিয়ে একেবারে হাসিমুখে এসে আরামকেদারায় ধপাস করে বসে পড়লো। বড়ো ঠাকুর ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, ‘এ কী হয়েছে তোর? চোট পেলি কী করে? কারো সাথে মারপিট করে আসছিস না তো?’&lt;br /&gt;প্রকাশ আরামকেদারায় শোয়া অবস্থায় সামান্য আড়মোড়া ভেঙে বললো,‘জি না, ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই, আমার কিছু হয় নি, আমি ভালো আছি।’&lt;br /&gt;‘কী বলছিস কিছু হয় নি! মাথা আর হাতে চোট লেগে রক্ত বেরুচ্ছে! ব্যাপারটা কী, রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা হয়নি তো!’&lt;br /&gt;‘একেবারে মামুলি আঘাত, বাবা, দু’-একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। ভয়ের কিছু নেই।’প্রকাশের ঠোঁটে মুচকি হাসি। আশ্চর্য শান্ত তার হাবভাব। রাগ কিংবা অপমানের কোনো চিহ্ন তার চেহারায় নেই। প্রতিশোধ নেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তার মধ্যে দেখা যাচ্ছিলো না। বড়ো ঠাকুর অস্থির হয়ে গেলেন তার আচরণে। বললেন,‘কিন্তু কী হয়েছে সেটা বলছিস না কেন? কেউ মারধোর করে থাকলে বল, থানায় গিয়ে রিপোর্ট করে আসি।’&lt;br /&gt;প্রকাশ হালকা মেজাজে বললো, ‘মারপিট কারো সাথে হয় নি, বাবা। তুফান বাবার আস্তানায় গিয়েছিলাম একটু। আপনি তো জানেন, উনি লোকজন দেখলেই পাথর নিয়ে তাড়া করেন। আর ভয় পেয়ে যদি কেউ দৌড় দেয়, তাহলে ঐ বেচারা মরেছে! আর যে ইট-পাটকেল খেয়েও বাবার পিছে লেগে থাকবে, তার কপাল খুলে যাবে। পরশপাথর যে সে পাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আসলে উনি এভাবে লোকজনকে পরীক্ষা করেন। আজ আমি ওখানে গিয়েছিলাম। প্রায় পঞ্চাশজন লোক আজ উপস্থিত ছিলো। কেউ মিষ্টি, কেউ কাপড়, কেউ দামি উপহার নিয়ে গেছে বাবার কৃপাদৃষ্টিলাভের আশায়। তুফান বাবা তখন ধ্যান করছিলেন। চোখ খুলে যখন সমবেত লোকদের দেখতে পেলেন, ব্যস, পাথর নিয়ে দৌড়ে এলেন আমাদের দিকে। শুরু হয়ে গেলো দৌড়ঝাঁপ। যে যেদিকে পারে ছুটে পালালো। মুহূর্তের মধ্যে খালি হয়ে গেলো বাবার আস্তানা। একা আমি দাঁড়িয়ে রইলাম ঝিম মেরে। উনি আমাকে পাথর ছুঁড়ে মারলেন। প্রথমটা এসে লাগলো মাথায়। ওনার নিশানা একেবারে অব্যর্থ। মাথা ফেটে রক্ত পড়তে শুরু করলো। কিন্তু আমি নড়বার পাত্র নই। এরপর উনি দ্বিতীয় পাথরটা মারলেন, হাতে এসে লাগলো ওটা। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলাম। যখন হুঁশ ফিরে এলো, দেখলাম বাবার আস্তানায় কেউ নেই, একেবারে নীরব হয়ে আছে চারিদিক। তুফান বাবাকেও কোথাও দেখতে পেলাম না। মনে হয় গায়েব হয়ে গেছেন। কাকে ডাকবো? কার কাছে সাহায্য চাইবো? মাথার ক্ষত থেকে তখনো রক্ত গড়াচ্ছে, অসহ্য ব্যথায় মনে হচ্ছে হাত ছিঁড়ে পড়ে যাবে। কোনোমতে হাঁচড়েপাচড়ে উঠে দাঁড়ালাম, সোজা চলে গেলাম ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার দেখে বললেন হাড় ভেঙে গেছে। ব্যান্ডেজ বেঁধে দিয়ে বললেন, গরম সেঁক দিতে। হাড় ভেঙেছে এটা এমন বড়ো কিছু নয়, লটারির টিকেট যে আমার নামে উঠবে এটা এখন নিশ্চিত। তুফান বাবার মার খেয়েছে কেউ, কিন্তু মনোবাসনা পূরণ হয় নি, এমনটা কখনো হয় নি। আমি লটারি পেয়েই বাবার আস্তানা পাকা করে দেবো।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বড়ো ঠাকুরের চেহারায় খুশির ছায়া খেলে গেলো। ত্বরিত বিছানা তৈরি হয়ে গেলো বিক্রমের জন্যে। প্রকাশ শুয়ে পড়লো সেই বিছানায়। ঠাকরুন তাড়াতাড়ি বিক্রমকে পাখা করতে লাগলেন। ছেলের সফলতার আশায় তার চেহারায়ও খেলা করছিলো এক অদ্ভুত প্রসন্নতা। সামান্য আঘাত সয়ে দশলাখ টাকা পেয়ে যাওয়া মোটেও সহজ কথা নয়! খিদের ঠ্যালায় ছোটো ঠাকুরের নাড়িভুঁড়ি হজম হয়ে যাচ্ছিলো। তবু এক পা-ও নড়ছিলেন না তিনি সেখান থেকে। যেই বড়ো ঠাকুর খাওয়ার জন্যে ভেতরে গেলেন আর ঠাকরুন প্রকাশের জন্যে খাবারের ব্যবস্থা করতে গেলেন, অমনি ছোটো ঠাকুর ছুটে এসে প্রকাশকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, তুফান বাবা কি খুব জোরে পাথর মারেন?’&lt;br /&gt;প্রকাশ ছোটো ঠাকুরের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললো,‘আরে কাকা, পাথর তো নয়, মনে হয় যেন গোলা ছুঁড়ে মারছে! পালোয়ানের মতো শরীর, এক ঘুষিতে বাঘকে পর্যন্ত পরাস্ত করতে পারেন। কতো লোক যে একটা মাত্র পাথরের আঘাতে পটল তুলেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো মোকদ্দমাই হয় নি তুফান বাবার বিরুদ্ধে। আর বাবাও দু’-চারটে পাথর মেরেই ক্ষান্ত হন না, যতোক্ষণ না আপনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাচ্ছেন, ততোক্ষণ মারতেই থাকবেন। আর রহস্য এই, জখম যতো বেশি হবে, লক্ষ্য হাসিলের সম্ভাবনা ততোই বাড়বে।’&lt;br /&gt;প্রকাশ এমন গল্প ফেঁদে বসলো যে, ছোটো ঠাকুর কুঁকড়ে গেলেন ভেতরে ভেতরে। তুফান বাবার আস্তানায় গিয়ে মার খাওয়ার সাহস হলো না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ণয়ের দিন এসেই গেলো জুলাইয়ের বিশ তারিখ। কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। আশা আর ভয়ের দোলাচলে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি নি রাতভর। বড়ো-ছোটো দুই ঠাকুর গঙ্গাস্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিতে গেলেন। আজ আমার মনেও ভক্তি জেগে উঠলো। ভাবলাম মন্দিরে গিয়ে পূজা দিয়ে আসি।&lt;br /&gt;‘হে প্রভু! তুমি অনাথের সহায়, আশ্রয়হীনের আশ্রয়, তুমি অন্তর্যামী, আমরা কতো কষ্ট করে টিকেট কিনেছি সেটা তুমি জানো প্রভু। তোমার কৃপাদৃষ্টি কি আমাদের ওপর পড়বে না প্রভু? আমাদের চেয়ে তোমার কৃপা পাওয়ার যোগ্য আর কে আছে?’&lt;br /&gt;বিক্রম একেবারে সুটবুট পরে মন্দিরে হাজির। আমাকে ইশারা করে বললো,‘আমি ডাকঘরে যাচ্ছি!’ তারপর হাওয়া হয়ে গেলো। একটু পরে প্রকাশ মিষ্টির থালা হাতে নিয়ে মন্দিরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে গরিবদের মাঝে বিলি করতে শুরুকরলো। দুই ঠাকুর তখনো ভগবানের চরণ ছুঁয়ে পড়ে আছেন। মাথা নিচু করে, চোখ বুজে একমনে প্রার্থনা করে চলেছেন।হঠাৎ বড়ো ঠাকুর মাথা তুলে পুরোহিতের দিকে চেয়ে বললেন, ‘ভগবান বড়োই ভক্তবৎসল, তাই না, পুরোহিত মশাই?’&lt;br /&gt;পুরোহিত সমর্থন করলেন তাঁর কথা। বললেন,‘হ্যাঁ, বড়ো ঠাকুর, ভক্তের সুরক্ষার জন্যেই ভগবান ক্ষীরসাগর পাড়ি দিযেছেন, আর গজকে বাঁচিয়েছেন কুমিরের কবল থেকে।’&lt;br /&gt;একটু পরে মাথা তুললেন ছোটো ঠাকুর। পুরোহিতের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ভগবান তো সর্বশক্তিমান, অন্তর্যামী, সবার মনের খবর জানেন, তাই না পুরোহিত মশাই?’পুরোহিত তাঁর কথাও সমর্থন করলেন। বললেন,‘অন্তর্যামী না হলে সবার মনের কথা কী ভাবে বুঝতে পারেন? শবরীর প্রেমের গভীরতা দেখেইতো তার মনোকামনা পূর্ণ করলেন।’&lt;br /&gt;পূজা সমাপ্ত হলো। যখন ভজন শুরু হলো দুই ভাই মিলে জোরে জোরে ভজন গাইতে লাগলেন। বড়ো ঠাকুর দুই টাকা দান করলেন পুরোহিতের সামনে রাখা থালায়। তা দেখে ছোটো ঠাকুর দান করলেন চার টাকা। বড়ো ঠাকুর কোপনজরে কিছুক্ষণ চেয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তারপর পুরোহিতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,‘আপনার মন কী বলছে পুরোহিত মশাই?’&lt;br /&gt;‘আপনার জয় সুনিশ্চিত, বড়ো ঠাকুর!’&lt;br /&gt;ছোটো ঠাকুর জিজ্ঞেস করলেন,‘আর আমার?’&lt;br /&gt;‘আপনারও জয় হবে, ছোটো ঠাকুর!’&lt;br /&gt;বড়ো ঠাকুর সশ্রদ্ধ চিত্তে ভজন গাইতে গাইতে মন্দির থেকে বেরিয়ে পড়লেন। আর তার পিছে পিছে ছোটো ঠাকুরও চললেন প্রভুর গুনগান গাইতে গাইতে।আমিও বেরিয়ে এলাম তাদের পিছুপিছু। বাইরে এসে প্রকাশ বাবুকে সাহায্য করতে চাইলাম মিঠাই বিতরণে। কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করে বললেন, ‘আমি একাই করতে পারবো, মাস্টার বাবু। আর বেশি তো বাকি নেই, ধন্যবাদ!’ আমি লজ্জা পেয়ে ডাকঘর অভিমুখে রওনা দিলাম। এমন সময় দেখলাম বিক্রম হাসিমুখে সাইকেল চালিয়ে এদিকেই আসছে। তাকে দেখার সাথে সাথে সবাই যেন পাগল হয়ে গেলো। দুই ঠাকুর হামলে পড়লো তার ওপর বাজপাখির মতো। প্রকাশের থালায় তখনো অল্প মিঠাই পড়ে ছিলো, সেগুলো সহ থালাটা সে মাটিতে ফেলে দৌড়ে এলো বিক্রমের কাছে। আর আমি একফাঁকে বিক্রমকে কাঁধে তুলে নিয়ে নাচতে শুরু করলাম। সবাই মিলে জয়ধ্বনি দিচ্ছে। কিন্তু কেউ জানতে চাইছে না লটারির ফলাফল কী ! বড়ো ঠাকুর আকাশের দিকে মুখ তুলে চিৎকার করে বললেন, ‘জয়, রাজা রামচন্দ্রের জয়!’&lt;br /&gt;ছোটো ঠাকুর আরো জোরে বললেন, ‘জয়, হনুমানের জয়!’প্রকাশও তার ভক্তি জাহির করলো: ‘তুফান বাবার জয় হোক!’&lt;br /&gt;বিক্রম সবার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘আলাদা আলাদা দাঁড়িয়ে বলো দেখি সবাই, যার নামে লটারি উঠবে সে আমাকে একলাখ টাকা দেবে। বলো, রাজি?’&lt;br /&gt;বড়ো ঠাকুর বিক্রমের হাত ধরে বললেন, ‘আগে বল্ কার নাম উঠেছে!’&lt;br /&gt;‘জি না,’ বিক্রম জবাব দিলো। ‘আগে বলুন, আমার শর্তে সবাই রাজি?’ছোটো ঠাকুর রেগে গিয়ে বললেন,‘শুধু নাম বলার জন্যে একলাখ? শাবাশ!’&lt;br /&gt;প্রকাশও গলা চড়িয়ে বললো, ‘আমরা কি ডাকঘর চিনি না?’&lt;br /&gt;‘আচ্ছা ঠিক আছে, যার যার নাম শোনার জন্যে তৈরি হয়ে যাও তবে!’&lt;br /&gt;সবাই অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।‘হুঁশ-জ্ঞান ঠিক রেখো সবাই।’সবাই পূর্ণ সচেতন হয়ে, কান সজাগ করে দাঁড়ালো।‘আচ্ছা, তো মন দিয়ে শুনুন সবাই। এই শহরের মানুষের বড়ো দুর্ভাগ্য, শুধু এই শহরের নয়, সমগ্র ভারতবাসীর দুর্ভাগ্য! লটারি জিতেছে আমেরিকার এক হাবশি লোক।’&lt;br /&gt;‘মিথ্যে কথা!’ হুংকার দিয়ে উঠলেন বড়ো ঠাকুর।&lt;br /&gt;‘ডাঁহা মিথ্যে কথা!’ছোটো ঠাকুরও যোগ দিলেন তার সাথে, ‘এটা কিছুতেই সত্যি হতে পারে না। তিনমাসের একনিষ্ঠ প্রার্থনা কিছুতেই বিফল হতে পারে না।’&lt;br /&gt;‘হাত-মাথা ফাটিয়েছি কি এমনি এমনি, মশকরা করছিস, অ্যাঁ?’ প্রকাশের ক্ষিপ্ত উক্তি।এরকম আরো জনা পঁচিশেক লোক উদয় হলো কাঁদো-কাঁদো চেহারা নিয়ে। তারাও আসছে ডাকঘর থেকে, নিজেদের স্বপ্নের সমাধি রচনা করে।‘নিয়ে গেছে সব লুট করে, হারামজাদা হাবশি! বদমাশ, শয়তান!’ প্রলাপ বকছে সব ক্লান্ত শ্রান্ত হতাশ মানুষ ।বিশ্বাস না করার আর কোনো উপায় নেই। বড়ো ঠাকুর হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটে গেলেন মন্দিরের দিকে। পুরোহিতকে ডিসমিস করে দিয়ে বললেন, ‘এজন্যে এতোদিন ধরে পালছি আপনাকে? হারাম খেয়ে খেয়ে চর্বি বাড়ানোর জন্যে?’&lt;br /&gt;ছোটো ঠাকুরকে দেখে মনে হচ্ছে কেউ তার কোমর ভেঙে দিয়েছে। দু’-তিনবার কপাল চাপড়ে রাস্তার মাঝখানেই বসে পড়লেন। কিন্তু প্রকাশের অবস্থা আরো ভয়ংকর। ক্রোধে অন্ধ হয়ে সে লাঠি হাতে ছূটে গেলো তুফান বাবার আস্তানার দিকে। আজ তুফান বাবাকেই মেরামত করা হবে।ঠাকরুন বললেন, ‘আমি কিছুতেই মানতে পারছি না। নিশ্চয়ই সবাই বেঈমানী করেছে। দেব-দেবতার আর কী দোষ! তাঁরা কি অন্যদের হাত থেকে ছিনিয়ে আনবেন?’রাতে কেউ খাবার মুখে দিলো না। আমি উদাস হয়ে বসে ছিলাম। বিক্রম এসে বললো, ‘চলো হোটেল থেকে কিছু খেয়ে আসি। আজ তো চুলা-ই জ্বলে নি ঘরে।’&lt;br /&gt;আমি বিক্রমকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা তুমি যখন ডাকঘর থেকে ফিরে এলে তখন তোমাকে খুব খুশিখুশি লাগছিলো। ব্যাপারটা কী?’&lt;br /&gt;‘আমি যখন ডাকঘরের সামনে হাজার হাজার লোকের ভিড় দেখতে পেলাম, তখন আমাদের পরিবারের লোকদের বোকামির কথা ভেবে ভীষণ হাসি পেলো। একটা শহরে যেখানে এতো লোক টিকেট কিনেছে, সারা হিন্দুস্তানে তো এর চেয়ে হাজারগুন বেশি হবে। আর সারা দুনিয়ার কথা ভাবো, লাখোগুন বেশি হবে না! আর আমি কিনা পর্বতপ্রমাণ আশা নিয়ে দৌড়ে গেলাম ডাকঘরে! যেই ফলাফল ঘোষণা করলো, আমার বিষম হাসি পেলো। এ যেন কোনো দানশীল ব্যক্তির তামাশা: একমুঠো ভাত নিয়ে যে ছড়িয়ে দিয়েছে লাখো লোকের মাঝে। আর আমাদের এখানে লোকজন কতো কিছু যে....'&lt;br /&gt;আমিও হেসে ফেললাম ওর কথায়। বললাম, ‘ঠিকই বলেছো, আমরা দু’জনও লেখাজোকা করে নেওয়ার জন্যে কতো না বাড়াবাড়ি করেছি! আচ্ছা, একটা কথা সত্যি করে বলো তো, তোমার নিয়ত কি আসলেই খারাপ ছিলো?’&lt;br /&gt;‘কী করবে এখন আর জেনে,’ মুচকি হেসে বললো বিক্রম। ‘রহস্যটা পরদার আড়ালেই না হয় ঢাকা থাক!'&lt;br /&gt;.................&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-1968082579744349773?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/1968082579744349773/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=1968082579744349773&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1968082579744349773'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/1968082579744349773'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/06/blog-post_17.html' title='লটারি'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-8762321984946130692</id><published>2007-06-17T00:01:00.002+04:00</published><updated>2010-03-15T04:02:34.774+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>নিরাপদ দেশলাই</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;পোড়াবো! একদিন ঠিকই পোড়াবো!&lt;br /&gt;আরও কিছুকাল যাক।&lt;br /&gt;বুকের বামপাশে রেখেছি নিরাপদ দেশলাই&lt;br /&gt;আপাতত আরও কিছুদিন ওখানেই সেটা থাক! &lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-8762321984946130692?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/8762321984946130692/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=8762321984946130692&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8762321984946130692'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8762321984946130692'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2008/06/blog-post_17.html' title='নিরাপদ দেশলাই'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-7355912889884969733</id><published>2007-06-16T11:54:00.002+04:00</published><updated>2010-03-15T04:03:20.653+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কবিতা'/><title type='text'>পরস্পর</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;পুরুষ:&lt;br /&gt;তোমার ছিলাম,তোমারই আছি,আদি থেকে অন্ত&lt;br /&gt;গ্রীষ্ম–বর্ষা–শরত–হেমন্ত্–শীত আর বসন্ত!&lt;br /&gt;গোলাপ–বেলি–স্বর্ণচাঁপা,তুমি রজনীগন্ধা&lt;br /&gt;তোমার ঘ্রাণে পাগল আমি,সকাল–দুপুর–সন্ধ্যা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নারী:&lt;br /&gt;এতো বেশি ভালোবেসো না আমায়&lt;br /&gt;এতো বেশি টেনো না কাছে:&lt;br /&gt;ভয় জাগে মনে, তোমার প্রেমের বানে&lt;br /&gt;খড়ের মতো আমি ভেসে যাই পাছে!&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-7355912889884969733?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/7355912889884969733/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=7355912889884969733&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7355912889884969733'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7355912889884969733'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/06/blog-post.html' title='পরস্পর'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-7442356117415217376</id><published>2007-05-19T01:12:00.007+04:00</published><updated>2010-03-16T14:40:33.833+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>নেকড়ে</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;b&gt;মূল: ভুবনেশ্বর&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রূপান্তর: মোসতাকিম রাহী&lt;br /&gt;........&lt;br /&gt;‘'নেকড়ে আর এমন কী,’ খারু বেদে বললো। &lt;br /&gt;‘চাইলে আমি একাই ভোজালি দিয়ে একটা নেকড়ে মারতে পারি।’'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমি তার কথা বিশ্বাস করলাম। খারু কোনো কিছুকে ভয় করে না। যদিও দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত, সত্তরের কাছাকাছি বয়সের এই বৃদ্ধ দেখতে তেমন আহামরি কিছু নয়,তারপরও তার যে-কোনো কথা কেন যেন বিশ্বাস না করে উপায় থাকে না।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;তার আসল নাম হয়তো ইফতিখার বা এরকম কিছু ছিলো,কিন্তু তার লঘুকরণ ‘খারু’ তার চরিত্রের সাথে মানিয়ে গেছে ভীষণ। তাকে সবসময় ঘিরে থাকে দুর্ভেদ্য কাঠিন্য। তার বরফ-শীতল চোখ এবং শাদা গোঁফের নিচে বেঁকে থাকা ঠোঁটজোড়া জানান দেয় নির্দয়তার!&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span class="Apple-style-span" style="font-family: SolaimanLipi; font-size: 15.8333px;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span class="Apple-style-span" style="font-family: SolaimanLipi; font-size: 15.8333px;"&gt;জীবনের উপর অতিষ্ঠ, বিরক্ত-বিপর্যস্ত খারু বেঁচে থাকার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললেও মৃত্যু যেন তাকে স্পর্শ না করার কসম খেয়েছে! রোগ-বালাই তার কাছে ঘেঁষতেও যেন ভয় পায় ! মিথ্যে বলার অভ্যেস খারুর নেই, কারো ভালো লাগুক বা না লাগুক মুখের উপর সত্য কথাটাই বলে সে;এবং সত্য বলে এটাই সে প্রমাণ করতে চায় যে, তা কতোটা ভয়ানক এবং অসুন্দর হতে পারে।&amp;nbsp;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span class="Apple-style-span" style="font-family: SolaimanLipi; font-size: 15.8333px;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span class="Apple-style-span" style="font-family: SolaimanLipi; font-size: 15.8333px;"&gt;এই অবিশ্বাস্য কাহিনী -যা আমি এখন বলতে যাচ্ছি- খারু আমাকে একদিন শুনিয়েছিলো, তার স্বভাবজাত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। অন্য কেউ হলে হয়তো ওর এই গল্প বিশ্বাস করতো না, কিন্তু আমি খারুর বলা সেই কাহিনির প্রতিটি শব্দ সত্য বলে বিশ্বাস করি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘'আমি কোনো কিছুকে ভয় করিনা,হ্যাঁ, শুধু একটা জিনিস ছাড়া - যার নাম নেকড়ে !’ দম নিয়ে বলতে শুরু করলো খারু, ‘একটা নয় ,দু’-চারটে নয়, পুরো নেকড়ের পাল- দু’-তিনশো । যারা শীতের রাতে শিকারের খোঁজে বেরোয়, আর দুনিয়ার তাবৎ জিনিস যাদের খিদে মেটাতে পারে না; এবং এমন কেউ নেই, যে এই শয়তানের দলের মোকাবেলা করতে পারে। লোকে বলে নিঃসঙ্গ নেকড়ে কাপুরুষ হয় - ভুল,একেবারে ভুল! নেকড়ে ভীতু নয়- নিঃসঙ্গ নেকড়ে একটু বেশি সাবধানী হয়, এই যা ।'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;'তোমরা বলো শিয়াল খুব চতুর-চালাক হয়,নেকড়ে সম্পর্কে তোমাদের কোনো ধারণা নেই বলেই এরকম ভাবো । নেকড়ের মতো চালাক আর কোনো প্রাণী পৃথিবীতে আছে বলে আমি মনে করিনা। তুমি কি কখনো নেকড়েকে হরিণ শিকার করতে দেখেছো? নেকড়ে বাঘের মতো নাটক করেনা,ভালুকের মতো রাজকীয় ভাবও দেখায় না। একবার,শুধু একবার বিদ্যুৎগতিতে লাফ দিয়ে হরিণের ঊরুতে গভীর জখম করে দেয়-ব্যস্, তারপর বহুদূর পিছু হটে হরিণের ঊরু থেকে মাটিতে গড়িয়ে পড়া রক্তের ধারা অনুসরণ করতে থাকে। পলায়নরত আহত হরিণ রক্তক্ষরণে একসময় দুর্বল হয়ে পড়ে। আর অমনি নেকড়ে বাবাজি ঝাঁপিয়ে পড়ে সাবাড় করতে লেগে যায় নিজের চেয়ে তিনগুণ বড়ো হরিণকে !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘'নেকড়ে ভীষণ বুদ্ধিমান এবং চালাক প্রাণী, ক্লান্তি এক জিনিস তার নেই। অবলা প্রাণিকুল নেকড়েকে যমের মতো ভয় করে। আমাদের গরুগাড়ির গরুগুলো তাগড়া-জোয়ান, প্রায় ঘোড়ার মতোই ছুটতে পারে তারা; কিন্তু নেকড়ের গন্ধ যখন তারা পায়-ঘোড়দৌড় আর এমন কি-পঙ্খিরাজও যেন তখন তাদের কাছে হার মানবে, একেবারে হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে চলে আমাদের গাড়িটাকে !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘'আমরা গোয়ালিয়রের রাজ থেকে আঈনে আসছিলাম। প্রচন্ড শীত পড়ছিলো, নেকড়ের দল যে শিকারে বেড়িয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের গাড়ি ছিলো কানায়-কানায় ভরা : আমি,আমার বাবা,গৃহস্থালি জিনিসপত্র এবং তিনটা কিশোরি বাঈজি। আমরা তাদের পশ্চিমে নিয়ে যাচ্ছিলাম।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘'কেন ?'’ আমি জিজ্ঞেস করলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘'কেন আবার, বিক্রি করার জন্যে। তুমি কি ভেবেছো হাওয়া খেতে নিয়ে যাচ্ছিলাম ! গোয়ালিয়রের মেয়েগুলো খুব রূপবতী হয়, আর পাঞ্জাবে তাদের খুব চাহিদা-একেবারে কাড়াকাড়ি পড়ে যায় সবার মধ্যে। মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় চড়া দামে।সুন্দরী হলে কী হবে, মেয়েগুলো ওজনে কিন্তু খুব ভারী ।'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘'আমাদের মজবুত একটা গরুগাড়ি আর তিনটে গরু ছিলো ঘোড়ার মতো তেজি । কাকডাকা ভোরে উঠে রওনা দিয়েছিলাম আমরা, দিনের আলো থাকতে থাকতে এগিয়ে যাওয়া সঙ্গীদের সাথে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিলো আমাদের। বিপদের কথা ভেবে আমরা দুটো তীর-ধনুক এবং একটা বন্দুক নিয়েছিলাম সাথে।গরুগুলো এগিয়ে যাচ্ছিলো নির্ভয়ে। ইতোমধ্যে আমরা দশ মাইল পেরিয়ে এসেছি।'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমন সময় বাবা বললেন, ‘'খারু, নেকড়ে দেখতে পাচ্ছিস ?’’'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গলায় ঝাঁঝ এনে বললাম,‘‘ 'কী বললে ? নেকড়ের গন্ধ পেলে তোমার গরুগুলো কি এমন নির্ভয়ে চলতো ? ’’'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাথা নেড়ে বুড়ো বললেন, ‘‘'নারে বাপ,বুঝতে পারছিস না। নেকড়ে ঠিকই পিছু নিয়েছে, যদিও এখনও আমাদের চেয়ে অনেক মাইল পিছনে আছে। আমাদের গরুগুলো ক্লান্ত হয়ে না পড়লে চিন্তার কিছু ছিলো না, কিন্তু এখনও আমাদের আরও পঞ্চাশ মাইল যেতে হবে।’’'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দম নিয়ে বুড়ো আবার বললেন,‘‘ 'এই শয়তান নেকড়েগুলোকে আমি খুব ভালো করে চিনি। গতবছর এই নেকড়ের দল আক্রমণ করেছিলো কয়েদিদের একটা কাফেলাকে। উদ্ধারকারী দল এসে শেষপর্যন্ত পেয়েছিল শুধু সিপাহিদের বন্দুক আর কয়েদিদের বেড়ি। শয়তানের দল খেয়ে শেষ করেছিলো সিপাহি আর কয়েদিদের।’’ একটু পর বাবা আবার বললেন,‘‘বন্দুক ভরে নে !’’'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্দুক আর তীর-ধনুক নেড়েচেড়ে দেখলাম, সব ঠিক আছে। বাবা আবার বললেন, ‘‘'বারুদের নতুন চোঙাটাও বের করে নে !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘নতুন বারুদ !’’ চমকে উঠলাম আমি।‘‘ আমিতো পুরনোটাই এনেছি !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন বাবা রেগেমেগে গালাগালি শুরু করে দিলেন: তুই একটা অপদার্থ,অলস,হ্যানত্যান আরো কতো কী! পুরো গাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখলাম,কিন্তু কোথাও নতুন বারুদ পাওয়া গেল না। বাবা নিজেও সমস্ত জিনিসপত্র উল্টেপাল্টে দেখলেন।‘‘হারামজাদা নেকড়ের বাচ্চা,তোকে আমি নতুন বারুদ দিয়েছিলাম; কোথায় রেখেছিস বল্ ?’’ কনুই দিয়ে আমার পিঠে ক্রমাগত মারতে-মারতে গর্জন করছিলেন বাবা। গাড়ির কোথাও বারুদ পাওয়া গেল না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘শহরে পৌঁছে নিই,তারপর তোর পিঠের চামড়া যদি আমি তুলে না নিই..!’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবার কথা তখনো শেষ হযনি,এমন সময় হঠাৎ গরুগুলো ভয়ার্ত ভঙ্গিতে বিদ্যুৎবেগে দৌঁড়ুতে শুরু করলো। বহুদূর পেছন থেকে একধরণের কর্কশ আওয়াজ ভেসে আসছিলো ,ধীরলয়ের একরকম অমানুষিক গর্জন। পেছন ফিরে দেখলাম ধুলো উড়ছে বাতাসের সাথে। মনে হলো ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়েছে। বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,‘‘ঝড় আসছে...’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘ঝড় নয় হারামজাদা, নেকড়ে !’’ তীব্র ঘৃণা আর আতঙ্কে চেহারা বদলে গেছে তার। চাবুক দিয়ে পিটিয়ে গরুগুলোকে নির্দিষ্ট পথে রেখে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেন বাবা। যদিও তার কোনো প্রয়োজন ছিলো না, নেকড়ের গন্ধ ইতোমধ্যে তারা পেয়ে গেছে ! জান বাচানোর তাগিদে নিজেরাই ছুটছিলো পড়িমরি করে। রেগিস্তানের খোলা সমভূমিতে সবকিছু অনায়াসে নজরে আসে । পেছনে বেশ কয়েক মাইল দূরে তাকিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম কালো মেঘের মতো একটা ছায়া ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে আসছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গরু সামলাতে সামলাতে বাবা আমার উদ্দেশে বললেন,‘‘ তৈরি হ’, কাছে আসার সাথে-সাথে তীর ছুঁড়ে মারবি ! একটা তীরও যদি নষ্ট করিস, কলজে বের করে নেবো !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়ে তিনটি একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘চুপ করো !’’ মেয়েগুলোকে ধমক দিয়ে বললাম। ‘‘চিৎকার করলে ঘাড় ধরে নিচে ফেলে দেবো।’’নেকড়ের দল দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে আসছিলো। আমাদের গাড়িও প্রায় হাওয়ায় উড়ে চলেছে। বাবা শেষ পর্যন্ত লাগাম ছেড়ে দিয়ে বন্দুক হাতে তুলে নিলেন।আর তীর ধনুক হাতে প্রস্তুত হয়ে রইলাম আমি। আমরা বাপবেটা দুজনেই শিকারে অভিজ্ঞ ছিলাম: অন্ধকারেও আমি তীর ছুঁড়ে উড়ন্ত মুরগি মারতে পারি, আর বাবার কথা কী বলবো-তিনি যদি কোনো কিছুতে নিশানা করেন আল্লাহও বোধহয় তার আশা ছেড়ে দেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নেকড়ে ইতোমধ্যে আরো কাছে চলে এসেছে। যখন আর চারশো গজের মতো দূরে তখন বাবা হঠাৎ গুলি করে একটা নেকড়েকে ফেলে দিলেন ! অব্যর্থ লক্ষ্য ! গরুগুলো পাগলের মতো ছুটছে, তাদের মুখের ফেনা বাতাসের সাথে উড়ে এসে আমাদের চোখেমুখে পড়ছে। নেকড়ের দল আরো দ্রুত কাছে চলে আসছে। গুলি কিংবা তীরের আঘাতে লুটিয়ে পড়া নেকড়েগুলোকে বিনা দ্বিধায় খেয়ে নিচ্ছে বাকিগুলো, তাতে অবশ্য তাদের এগিয়ে আসার গতিতে ছেদ পড়ছেনা মোটেও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা আমার কাঁধে বন্দুকের নল রেখে গুলি চালাতে শুরু করলেন: দুম ! দুম ! আওয়াজের চোটে কানে তালা লেগে যাচ্ছিলো, গরমের আঁচে পুড়ে যাচ্ছিলো গলা (এখনও আমার গলায় সেই পোড়া দাগ আছে !)। কিন্তু সেদিকে নজর দেওয়ার মতো অবস্থা ছিলো না তখন। একটা তীরও নষ্ট না করে আমি ষোলোটা নেকড়ে মেরেছি ,আর বাবা মেরেছেন দশটা। কিন্তু তারপরও যেন নেকড়ের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘নে,বন্দুক নে,’’ আমার দিকে বন্দুক বাড়িয়ে দিয়ে বললেন বাবা। ‘‘আমি গরু সামলাচ্ছি।’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা ভেবেছিলেন গরুগুলো বোধহয় এরচে’ও বেশি জোরে ছোটার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু তার ধারণা ভুল ছিলো। পৃথিবীর কোনো গরু এরচে’ বেশি জোরে ছুটতে পারবেনা, এটা আমি হলফ করে বলতে পারি। গুলি করে একটার পর একটা নেকড়ে আমি মেরেই যাচ্ছিলাম। মেয়েগুলো খুব দ্রুত বন্দুক ভরে দিচ্ছিলো, আর আমি পটাপট মেরে যাচ্ছিলাম: দুম!দুম! মেয়েগুলো বড়ো লক্ষ্মী ছিলো। এরমধ্যে আরো দশটা নেকড়ে আমি ফেলে দিয়েছি। যখন বারুদ শেষ হয়ে এলো ততোক্ষণে মনে হলো নেকড়ের দলও হার মেনে নিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবাকে বললাম,‘‘নেকড়ে পিছিয়ে গেছে, বাবা !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জবাববে বুড়ো হাসলেন,‘‘ওরা এতো সহজে ক্ষান্ত দেবে না রে, বাপ, তারপরও ভয় নেই, তোর মতো লক্ষ্যভেদী ছেলে যখন আমার আছে,ভয়ের কী? আমিতো বলবো সাত মুলুকের বেদেদের মধ্যে তোর মতো শিকারি একজনও নেই।’’&lt;br /&gt;প্রশংসা শুনে বুকের ছাতি বড়ো হয়ে গেল আমার। যাক, যা বলছিলাম, নেকড়ের দল কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। কারণ তারা সঙ্গীদের লাশগুলো পেয়ে গিয়েছিলো খাবার হিসেবে। হঠাৎ করে গরুগুলোর গতি বেড়ে যাওয়ায় বুঝতে পারলাম নেকড়েগুলো আবার কাছে এসে পড়েছে। দুশো গজের মতো আসার পর বাবা বললেন,‘‘ জিনিসপত্র বের করে ফেলে দে,গাড়ি হালকা কর।’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বেদেদের মধ্যে আমাদের গাড়িটি ছিলো সবচে’ সেরা। গৃহস্থালি জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে গাড়িটি হালকা করার পর আরো দ্রুত ছুটতে শুরু করলো। কিছুক্ষণের মধ্যে মনে হলো নেকড়ের দল পিছু ফেলে আমরা অনেকদূর চলে এসেছি। কিন্তু একটু পরই সেই ভুল ধারণার অবসান হলো।বাবা বললেন,‘‘এবারতো মনে হয় একটা গরুই ছেড়ে দিতে হবে,খারু !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘কী বলছো, বাবা ?’’ চমকে উঠলাম আমি।‘‘দু’টা গরু কি গাড়িটাকে জোরে টেনে নিয়ে যেতে পারবে ?’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘তাহলে একটা বাঈজিকে ফেলে দে,’’ নির্বিকার গলায় বললেন বাবা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চাচা আপন প্রাণ বাঁচা! আমি তিনজনের মধ্যে সবচে’ মোটা মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলাম। মেয়েটা প্রথমে গাড়ির পিছুপিছু দৌড়ে আসার চেষ্টা করলো কিছুক্ষণ, কিন্তু যখন বুঝতে পারলো দৌড়ে কোনো লাভ নেই,তখন মেয়েটা ঘুরে দাঁড়ালো নেকড়েগুলোকে মোকাবেলা করতে। সামনের একটা নেকড়ের পা ধরে, মাথার উপর উঠিয়ে ছুঁড়ে মারার চেষ্টা করলো, কিন্তু পেছনের নেকড়েগুলো একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার যুদ্ধংদেহী ভাবের অবসান ঘটিয়ে দিলো মুহূর্তে।ওজন কমে যাওয়ার ফলে গাড়ি আরো জোরে ছুটছে। তবে তাতেও কোনো ফললাভ হচ্ছিলোনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘আরেকটা ফ্যাল,’’ বললেন বাবা। এবার আমার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো, বললাম,‘‘মানুষের চেয়ে গরু কি বেশি দামি হয়ে গেল ? একটা গরুই না হয় এবার ছেড়ে দাও।’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেড়ে দিলাম একটা গরু“। লেজ উঁচিয়ে,হাম্বা-হাম্বা চিৎকার করতে করতে গরুটা মোড় ঘুরে আরেকদিকে ছুটতে শুরু করলো। নেকড়ের দলও ছুটলো গরুটির পিছুপিছু। বাবা কেঁদে ফেললেন গরু হারানোর দুঃখে। কাঁদতে-কাঁদতে বললেন,‘‘বড়ো প্রিয় গরু ছিলো রে,খারু !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘জীবনের চেয়ে তো আর বেশি প্রিয় নয়,’’ বললাম আমি। ‘‘আমরা তো বেঁচে গেছি।’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার শোনা গেল সেই ভয়ংকর গর্জন। ‘‘কেয়ামত মনে হয় আজই হয়ে যাবে !’’ বিড়বিড় করে বললাম। সর্বশক্তি প্রয়োগ করে গরুগুলো আরো জোরে ছোটানোর চেষ্টা করলাম। লাভ হলো এটুকু, হাতের চামড়া ছিলে গিয়ে রক্ত গড়াতে শুরু করলো। বেনোজলের মতো নেকড়ের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘আরেকটা মেয়ে ফেলে দে, খারু,’’ চিৎকার করে বললেন বাবা।‘‘আর কোনো রাস্তা নাই রে ,বাপ!’’ আমি কিছু বলার আগেই, দুজনের মধ্যে মোটা মেয়েটা কাঁপাকাঁপা হাতে রূপার নোলকটা খুলতে শুরু করলো। তোমাকে হয়তো বলিনি,মেয়েটা আমার বড়ো পছন্দের ছিলো। তাই তাকে বাদ দিয়ে অন্য মেয়েটাকে বললাম,‘‘তুই বেরো !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু মেয়েটা যেন বেহুঁশ হয়ে গেছে। ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পরও যেভাবে পড়েছিলো সেভাবেই পড়ে রইলো। গাড়ি আরো হালকা হয়ে যাওয়ায় গতি আরো বেড়ে গেল। কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যে নেকড়ে আবার আমাদের নাগাল পেয়ে গেল। বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,‘‘আল্লাহ, এ তোর কেমন বিচার ! অভাব-অনটনের বেদেজীবন শেষ করে ধনী হতে যাচ্ছিলাম,সব শেষ করে দিলি !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যে-মেয়েটাকে আমি ফেলি নি, তার দিকে তাকিয়ে বললাম,‘‘ তুই নিজে লাফ দিবি, না আমি ধাক্কা দেবো ?’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়েটা নাকের নোলকটা খুলে আমার হাতে দিলো, তারপর দু’হাতে চোখ চেপে ধরে লাফ দিলো গাড়ি থেকে। গাড়ি এখন হাওয়ায় উড়ছে। গরুগুলো ক্লান্তির শেষ পর্যায়ে, কিন্তু তারপরও ছুটছে মরিয়া হয়ে। এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে,বস্তি আরো ত্রিশ মাইল দূরে। আর কোনো উপায় না দেখে বন্দুকের কুঁদো দিয়ে নেকড়েগুলোর মাথায় মারতে শুরু করলাম। কিন্তু তাতে কোনো হেরফের হচ্ছিলো না । বাবাকে দেখলাম ঘেমেনেয়ে একেবারে একাকার হয়ে গেছেন। শেষমেষ বাবা বললেন,‘‘ গরু আরো একটা খুলে দে,খারু !’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘পাগল হয়েছো, বাবা ? সেধে মৃত্যু ডেকে আনার কোনো মানে আছে !’’ চিৎকার করে বললাম আমি। ‘‘ আমাদের একজনকে তো অন্তত বেঁচে থাকতে হবে। একটা গরু কি গাড়িটাকে টেনে নিয়ে যেতে পারবে ?’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘ঠিক বলেছিস,’’ বাবা বললেন।‘‘ আমি বুড়ো হয়ে গেছি, ক’দিন আর বাঁচবো, তোর বেঁচে থাকা জরুরি। আমি লাফিয়ে পড়ে কিছুক্ষণ নেকড়েগুলোকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।’’ চমকে উঠলাম আমি ! কিন্তু নির্মম সত্যটাকে না মেনে উপায় নেই বলে কথা বাড়িয়ে আর সময় নষ্ট করলাম না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘মন খারাপ কোরো না ,বাবা,’’ বললাম আমি। ‘‘আমি বেঁচে থাকলে একটা নেকড়েকেও রেহাই দেবো না।’’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘‘তুই আমার বড়ো আদরের ধন রে, খারু,’’ কান্নাভেজা গলায় আমার দু’গালে চুমু খেতে খেতে বললেন বাবা। তারপর দু’হাতে দুটো বড়ো ছুরি তুলে নিলেন, এবং গলায় ভালো করে কাপড় পেঁচিয়ে নিলেন। লাফ দিতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বাবা বললেন,‘‘দাঁড়া, আমার পায়ের জুতাগুলো একেবারে নতুন, ভেবেছিলাম কমসেকম দশবছর পরবো,’’ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললেন,‘‘দেখিস তুই এগুলো আবার পরিস না যেন, মরা মানুষের জুতা পরতে নেই। তুই জুতাজোড়া বেচে দিস কারো কাছে।’’ জুতাজোড়া খুলে গাড়ির ভেতরে ছুঁড়ে মারলেন বাবা। তারপর লাফ দিয়ে পড়লেন গাড়ির পেছন পেছন দৌড়ুতে থাকা নেকড়েগুলোর একেবারে মাঝখানে।পিছু ফিরে চাইতে মন সায় দিলো না। বাবা লাফ দিয়ে পড়ার সাথে সাথে শুধু তার চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম : আয় ! আয়, হারামজাদা নেকড়ের বাচ্চারা ,আয় !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;'বাবার সাহসিকতায় সেদিন বেঁচে গেলাম। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে, অনেকগুলো নেকড়ে মেরে আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন বাবা।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইটুকু বলে খারু আমার দিকে তাকালো। ভয়ে রক্তশূন্য হয়ে যাওয়া আমার মুখের তাকিয়ে হঠাৎ হো-হো করে হেসে উঠলো সে। খকখক করে কেশে মাটিতে থুথু ফেললো একদলা। তারপর বললো,'এর পরের বছর অইপথে যাওয়ার সময় আরো ষাটটা নেকড়ে মেরেছি আমি।'&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বলতে বলতে শীতল চোখজোড়া ধক করে জ্বলে উঠলো তার। তারপর হাসতে হাসতে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত,ক্ষুধার্ত,জোড়াতালি দেওয়া কাপড় পরা খারু।&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt; &amp;lt;&amp;gt;&amp;lt;&amp;gt;&amp;lt;&amp;gt;&amp;lt;&amp;gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;span style="font-size: 15.5px;"&gt; &lt;b&gt;লেখক পরিচিতিঃ&lt;/b&gt; পুরো নাম ভুবনেশ্বর প্রসাদ। ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন ভারতের উত্তর প্রদেশের শাহ্জাহানপুরে। হিন্দি একাঙ্কিকা নাটকের জনক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিভাবান সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও অনুবাদক ছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যে তাঁর ছিলো অগাধ জ্ঞান। জীবিত অবস্থায় খ্যাতি অর্জন করলেও, পুরো জীবনটা তিনি কাটিয়েছেন ভীষণ অর্থকষ্টে। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি, ১৯৫৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যদি তা সত্য হয়, তাহলে বলতে হয়, প্রকৃতি সাহিত্যপ্রেমীদের প্রতি অবিচার করেছেন। অকালে তাঁর মৃত্যু না হলে হিন্দি তথা বিশ্বসাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করে যেতে পারতেন এই সব্যসাচী লেখক। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বহুল আলোচিত ‘ভেড়িয়ে’ গল্পের বাংলা রূপান্তর এটি। প্রথম প্রকাশিত হয় সমকালের সাহিত্য সাময়িকী 'কালের খেয়া'তে।&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-7442356117415217376?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/7442356117415217376/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=7442356117415217376&amp;isPopup=true' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7442356117415217376'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/7442356117415217376'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/05/blog-post.html' title='নেকড়ে'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-8599541082595618581</id><published>2007-05-18T15:26:00.005+04:00</published><updated>2010-01-23T17:03:09.968+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অনুবাদ গল্প'/><title type='text'>বড়োদিনের চিঠি</title><content type='html'>&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;b&gt;মূল: আন্তন চেখভ&lt;br /&gt;&lt;/b&gt;রূপান্তর: মোসতাকিম রাহী&lt;br /&gt;...................................................................................................&lt;br /&gt;'বড়োদিনের চিঠি' আন্তন চেখভের Vanka গল্পের ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে। প্রথম প্রকাশিত হয় 'দৈনিক সমকালে'র সাহিত্যসাময়িকী 'কালের খেয়া'তে।&lt;br /&gt;......................................................................................................&lt;br /&gt;&lt;b&gt;সংক্ষেপে চেখভ&lt;/b&gt;:ভূমিদাস দাদুর নাতি,মুদি-দোকানি পিতার পুত্র আন্তন পাভলোভিচ চেখভ পেশায় ছিলেন ডাক্তার। জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬০ সালের ২৯ জানুয়ারি দক্ষিণ রাশিয়ার ‘আজভ’ সাগর তীরবর্তী শহর তাগানরগে। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে চেখভ ছিলেন তৃতীয়। সাত বছর বয়সে ১৮৬৭ সালে চেখভ ‘গ্রীক বালক বিদ্যালয়ে’ ভর্তি হন, একবছর সেখানে লেখাপড়ার পর চলে আসেন ‘তাগানরগ গ্রামার স্কুলে’। এই ইস্কুল থেকেই চেখভ সাফল্যের সাথে মাধ্যমিক পাশ করেন ১৮৭৯ সালে। দারিদ্র পীড়িত পরিবারের করুণ অবস্থা কিশোর চেখভের মনে দারুণভাবে ছাপ ফেলে। পড়াশোনার পাশাপাশি চেখভ বাবার ব্যবসায় সাহায্য করতেন। চেখভের যখন চোদ্দবছর (মতান্তরে ষোলোবছর) বয়স তখন তার পিতা ব্যবসায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে, ঋণের দায় এড়াতে মস্কো চলে আসেন সপরিবারে। চেখভ তাগানরগে রয়ে যান নিজের পড়াশোনা শেষ করার জন্যে। এই সময় গৃহশিক্ষতা করে নিজের পড়াশোনার খরচ যোগান চেখভ। ১৮৭৯ সালে মাধ্যমিক পাশ করে চেখভ মস্কোয় চলে আসেন পরিবারের কাছে। ভর্তি হন ‘মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল স্কুলে’। ডাক্তারি অধ্যয়নরত অবস্থায় চেখভ গল্প লেখা শুরু করেন,তা থেকে প্রাপ্ত সম্মানী দিয়ে মা এবং ভাইবোনদের সাহায্য করার জন্যে। প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে। কয়েকশো গল্প তাঁর প্রকাশিত হয় পত্রপত্রিকায়। এইসময়ে লেখা তাঁর গল্পগুলো হাস্যরসাত্মক হলেও,সামাজিক-পারিবারিক সমস্যাই ছিলো তাঁর গল্পের মূল বিষয়। ১৮৮২ সালে চেখভ প্রথম উপন্যাস -‘নেনুনঝায়ে পোবেদা’- লেখেন হাঙ্গেরীয় লেখক ‘মোর জোকাই’র উপন্যাসের অনুপ্রেরণায়। ১৮৮৪ সালে চেখভ যখন ডাক্তারি পাশ করে বের হন ততোদিনে তিনি প্রতিষ্ঠিত লেখক। ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য উপন্যাস ‘দ্য শূটিঙ পার্টি’(১৯২৬ সালে উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর জনপ্রিয় রহস্যসাহিত্যিক ‘অগাথা ক্রিস্টি’ এই উপন্যাসের চরিত্র এবং পটভূমি নিয়ে লেখেন ‘দ্য মার্ডার অভ রজার অ্যাক্রয়েড’)।সফলতা আসতে শুরু করে স্রোতের মতো। ১৮৮৭ সালে তাঁর প্রথম গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়, এবং আশাতীত সাফল্য লাভ করে। এবছরেই প্রকাশিত হয় তাঁর আরো একটি গল্প সংকলন, যেটার অনেকগুলো সংস্করণ মুদ্রিত হয় অল্প সময়েই। ১৮৮৮ সালে চেখভ ‘পুশকিন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। ১৮৮৯ সালে তাঁর মঞ্চস্থ প্রথম নাটক ‘দ্য উড ডেমন’ ব্যর্থ হয়। নাট্যকার হিসেবে তিনি সফলতা লাভ করেন অনেকবছর পর। ১৮৯৮ সালে ‘দ্য সি-গাল’ মঞ্চস্থ হওয়ার পর তিনি খ্যাতি লাভ করেন। এরপর ‘আঙ্কল ভানিয়া’, ‘দ্য থ্রি সিস্টারস’ এবং জীবনের শেষ নাটক ‘দ্য চেরি অরচার্ড’ ভীষণ জনপ্রিয় হয়।১৯০৪ সালের ১৪ জুলাই মাত্র চুয়াল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই প্রতিভাবান লেখক-নাট্যকার।&lt;br /&gt;.....................................................................................................................&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নয় বছর বয়সি ভাঙ্কা জুকভ তিনমাস ধরে কাজ শিখছে নামকরা জুতো নির্মাতা আলিয়াহিন এর কাছে। বড়োদিনের আগের রাতে বাড়ির কথা মনে করে ঘুম আসছিলো না তার। দাদুর কাছে চিঠি লেখার জন্যে সুযোগ খুঁজছিলো সে। মালিক, মালিকের বউ এবং কর্মচারীরা গির্জায় চলে যেতেই ভাঙকা মালিকের আলমারি থেকে কালির দোয়াত, মরচে ধরা নিবঅলা কলম আর দোমড়ানো মোচড়ানো একটা কাগজ নিয়ে লিখতে বসলো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;লেখা শুরু করার আগে বেশ কয়েকবার ভীত-চকিত দৃষ্টিতে জানালা, দরোজা এবং নিজের চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো সে। ছোটো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামনে রাখা বেঞ্চটার ওপর কাগজটা বিছিয়ে হাঁটু গেড়ে বেঞ্চের ওপর ঝুঁকে লিখতে শুরু করলো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘প্রিয় দাদু,বড়োদিনের শুভেচ্ছা জানবেন। প্রভু যিশুর জন্মদিনে মহান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনাকে দীর্ঘায়ু করেন। আপনি ছাড়াতো আমার আর কেউ নেই, ঈশ্বর আমার মা-বাবা দুজনকেই কেড়ে নিয়েছেন, আমার সবকিছুইতো আপনি।”&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;এ পর্যন্ত লিখে ভাঙকা থেমে পড়লো। দাদুর কথা বড়ো বেশি মনে পড়ে যাচ্ছে। জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বুকটা হু হু করে উঠলো তার। মানসপটে স্পষ্ট সে দেখতে পেল তার দাদুর কর্মকান্ড। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;ভাঙকার দাদু কন্সতান্তিন মেকারিচ নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করেন এক বাড়িতে। পঁয়ষট্টি বছর বয়সি নেশালু চোখের অধিকারী মেকারিচ হালকা-পাতলা শরীরের একজন শক্তসমর্থ, সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;দিনের বেলা মেকারিচ চাকরদের রান্নাঘরে ঘুমান অথবা বাবুর্চির সাথে গল্পগুজব করে সময় কাটান। রাতের বেলা ভেড়ার চামড়ার তৈরি একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে বাড়ির চারপাশে টহল দিয়ে বেড়ান, আর ছোটো কাঠের হাতুড়ি ‘ম্যালেট’ দিয়ে হাতের তেলোতে বাড়ি মেরে মৃদু কিন্তু স্পষ্ট শব্দ করেন, যাতে বাড়ির মালিক বুঝতে পারেন যে, তিনি কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন না এবং চোর-ছ্যাঁচোড়েরা কেউ একজন পাহারায় আছে এই ভেবে কাছে ঘেঁষার সাহস না পায়।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;এইসময় তার পোষা দুই কুকুর কাশতাঙকা আর ঈল তাকে অনুসরণ করে। ঈলের গায়ের রঙ কালো, বেজির মতো শরীর। অতিশয় বিনয়ী এবং আদুরে স্বভাবের ঈল কাউকে খারাপ চোখে দেখে না, নিজের মুনিবের মতোই ভদ্র ব্যবহার করে সে আগন্তুকদের সাথেও। কিন্তু তার এই আপাত ভদ্রতার আড়ালে যে একটা বদমাশ লুকিয়ে আছে সেটা আশপাশের লোকজনই শুধু জানে। কারো ভাঁড়ারে ঢুকে খাবার চুরি করা কিংবা গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে মুরগি চুরি করাতে তার জুড়ি নেই। আর এ কারণে তাকে কতোবার যে পিটিয়ে আধমরা করা হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কিন্তু তারপরও তার স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;এই মুহূর্তে কোনো সন্দেহ নেই তার দাদু গেটের সামনে দাঁড়িয়ে গির্জার লাল জানালাগুলোর ওপর চোখ বোলাচ্ছেন। ভারী বুটের খটখট আওয়াজ তুলে চাকর চাকরানিদের সাথে মজা করছেন। ছোট্ট ম্যালেটটা তার কোমরে বেল্টে ঝোলানো। হাতে হাত ঘষে মেকারিচ ঠান্ডা তাড়াবার চেষ্টা করছেন, আর ফাঁকে ফাঁকে বাবুর্চি কিংবা কোনো চাকরানির পেটে গুঁতো মারছেন দুষ্টুমি করে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘নস্যি চলবে?’ চাকরানির উদ্দেশে জিজ্ঞাসা তাঁর। মহিলা হাত বাড়িয়ে একচিমটি তামাকের গুঁড়ো নিয়ে নাকে দিয়ে চিৎকার করে উঠলো। খুশিতে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন মেকারিচ। বললেন, ‘সর্দির জন্যে খাসা জিনিস কিন্তু!’&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;তারা মজা করার জন্যে কাশতাঙকার নাকেও শুঁকালেন, শ্বাস টেনেই চমকে উঠলো কাশতাঙকা। অস্থিরভাবে মাথা দোলাতে দোলাতে বাইরে চলে গেল কুকুরটা। সঙ্গিনীর করুণ অবস্থা দেখে নস্যি নেওয়ায় অসম্মতি জানালো ঈল, কিন্তু তার লোকদেখানো বিনয়ী স্বভাবের কারণে লেজ নাড়াতে শুরু করলো মাথা নিচু করে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;চমৎকার আবহাওয়া। পরিষ্কার তাজা বাতাস বইছে চারিদিকে। দৃষ্টিগ্রাহ্য অন্ধকারে ছেয়ে আছে পুরো গ্রাম। তুষারে ঢাকা গ্রামের বাড়িগুলোর শাদা ছাদ জ্বলজ্বল করছে অন্ধকারেও; আর চিমনি থেকে বেরিয়ে আসা কুন্ডলি পাকানো ধোঁয়া সহজেই নজর কাড়ে। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;গাছগুলো ঢেকে আছে শ্বেত-শুভ্র তুষারে। আকাশে ঝিলমিল করছে তারকারাজি। সারা আকাশ যেন কিসের আগমনী বার্তা ঘোষণা করছে। পুরো ব্রহ্মান্ড মনে হয় স্নান করে নিজেকে পুত-পবিত্র করে নিয়েছে বড়োদিনের খুশিতে।বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো ভাঙকার। দোয়াতে কলম ডুবিয়ে নিয়ে লিখতে শুরু করলো সে আবার।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;“ গতকাল মালিক আমাকে খুব গালাগালি আর মারধোর করেছে। আমার চুলের মুঠি ধরে উঠোনে বের করে দিয়েছে। ভীষণ মেরেছে জুতো রাখার স্ট্রেচার দিয়ে, কারণ আমি তাদের বাচ্চাটাকে দোলনায় দোল দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। গত সপ্তাহে মালিকের বউ আমাকে হেরিং মাছ পরিষ্কার করতে বলেছিলো, আমি মাছের লেজের দিক থেকে কাটা শুরু করেছিলাম বলে বেগম সাহেবা এসে মাছগুলো আমার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারে। অন্য কর্মচারিগুলো সবসময় তামাশা করে আমাকে নিয়ে। প্রায়ই তারা আমাকে ভদকা আনতে পাঠায় শুঁড়িখানায়। কখনো বাধ্য করে মালিকের ঘর থেকে শশা চুরি করে আনার জন্যে, আর মালিক একথা জানতে পেরে হাতের কাছে যা পায় তা-ই দিয়ে মারতে শুরু করে। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;বেশি কষ্ট পাই খাবার নিয়ে, একদিনও পেট ভরে খেতে পারি নি এখানে,দাদু। সকালে সামান্য রুটি, দুপুরে খিচুড়ি আর রাতে আবার সেই রুটি। চা কিংবা স্যুপ কখনো কপালে জোটে না, মালিক আর তার বউই সব খেয়ে শেষ করে। রাতের বেলা শুতে দেয় বারান্দায় চলার পথে। তাদের বাচ্চাটা যখন কেঁদে ওঠে তখন আমার ঘুম হারাম হয়ে যায়। কারণ, বাচ্চাটাকে দোলনা দিয়ে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে অনেক সময় লেগে যায়।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;প্রিয় দাদু, প্রভু যিশুর দোহাই লাগে, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। নতমস্তকে আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি দাদু, আমাকে নিয়ে যান, নইলে আমি মরে যাবো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;বিড়বিড় করে কথা বলছে ভাঙকা। দুচোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে। শীর্ণকায় দুই হাত দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে লিখে যাচ্ছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘আমি আপনার তামাক সাজিয়ে দেবো, দাদু। ঈশ্বরের কাছে আপনার জন্যে প্রার্থনা করবো। যদি কোনো ভুল করি আপনার যেভাবে খুশি আমাকে শাস্তি দেবেন দাদু। রোজগারের জন্যে আপনি কোনো চিন্তা করবেন না, দরকার হলে আমি নায়েবের জুতো পরিষ্কার করবো। নয়তো মেষপালকের চাকরি নেবো।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt; প্রিয় দাদু, আমি আর সহ্য করতে পারছি না, এরা আমাকে মেরে ফেলবে। আপনি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমি অনেকবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার জুতো নেই বলে পারি নি। বাইরে এতো বেশি বরফ যে, খালি পায়ে কিছুদূর গেলেই পা জমে যাবে। সেই ভয়ে যেতে পারি নি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘প্রিয় দাদু, আমি যখন বড়ো হবো তখন আপনার দেখাশোনা করবো। আপনার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবো। আর আপনি যদি কখনো মারা যান আমি আপনার আত্মার শান্তির উদ্দেশে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবো, যেভাবে আমি আমার মায়ের জন্যে সবসময় করি।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘মস্কো খুব বড়ো শহর। শিক্ষিত, ভদ্রশ্রেণির লোকদের বসবাস এখানে। প্রচুর ঘোড়া আছে এই শহরে, কিন্তু কোনো ভেড়া নেই। আর এই শহরের কুকুরগুলো কিন্তু মোটেও হিংস্র নয়। এখানকার তরুণরা বড়োদিনে কখনো তারকা হাতে দুয়ারে দুয়ারে গান করতে যায় না। একদিন একটা দোকানে দেখলাম মাছ ধরার ছিপ-বড়শি রাখা হয়েছে বিক্রি করার উদ্দেশে। প্রায় সবধরণের মাছ ধরার জন্যে তৈরি করে সুতো-বড়শি সমেত। সবচেয়ে মজবুত ছিপ যেটা ছিলো সেটা দিয়ে অনায়াসে চল্লিশ পাউন্ড ওজনের যে-কোনো মাছ তুলে আনা যাবে। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;আমি অনেক দোকান দেখেছি এই শহরে যেখানে প্রায় সবধরণের বন্দুক কিনতে পাওয়া যায়। যদিও সেটা আমাকে খুব বেশি বিস্মিত করতে পারেনি মালিকের বন্দুকটা আগে দেখেছিলাম বলে। কসাইয়ের দোকানগুলোতে পাখি, বনমোরগ, মাছ আর খরগোশও কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু দোকানিরা ভুলেও কখনো বলে না কোত্থেকে তারা সেগুলো ধরেছে।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘প্রিয় দাদু, আপনার মালিকের বাড়িতে যখন ক্রিসমাস ট্রি নিয়ে আসবে, আমার জন্যে সোনালি কাগজে মোড়ানো একটা বাদাম আলাদা করে সবুজ ট্রাঙ্কে রেখে দেবেন। তরুণী ওলগা নাতিয়েভনাকে আমার কথা বললেই তিনি দেবেন।'&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো ভাঙ্কা। জানালা পথে আবারো তার দৃষ্টি চলে গেলো বাইরে। তার মনে পড়ছে কী ভাবে তার দাদু তাকে নিয়ে জঙ্গলে যেতেন ক্রিসমাস ট্রি সংগ্রহ করার জন্যে। কতো মজার দিন ছিলো সেইসব! জঙ্গলে ঢুকে দাদু জোরে গলা খাঁকারি দেন, আর অমনি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গাছের ওপরের হালকা বরফের স্তর। সেটা দেখে খুশিতে হেসে ওঠে ভাঙ্কা। ক্রিসমাস ট্রি কাটার আগে দাদু আয়েস করে পাইপ টানেন, অল্প একটু নস্যি নেন, আর ঠান্ডায় জমে যাওয়া ভাঙ্কার দিকে তাকিয়ে হাসেন।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;কচি ফার গাছগুলো তুষারের বোঝা নিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে থাকে, কার আগে কে কাটা পড়ে সেটা দেখার ইচ্ছেতেই বোধহয়। এমন সময় হঠাৎ করে একটা খরগোশ জ্যা-মুক্ত তীরের মতো লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসে গাছের ভেতর থেকে। কর্কশ চিৎকার দিয়ে ওঠেন দাদু, ‘ধর! ধর! লেজকাটা শয়তানটা পালিয়ে গেলো।‘&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;যখন সে গাছটা কেটে নামায়, দাদু সেটা টেনে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে তোলেন। তারপর লেগে যান সাজানোর কাজে। ভাঙ্কা যাকে সবচে বেশি পছন্দ করে, যুবতী ওলগা ইগনাতিয়েভনা হচ্ছে সবচে’ ব্যস্ত মহিলা। যখন ভাঙ্কার মা বেঁচে ছিলেন তিনিও কাজ করতেন সেই বাড়িতে। আর ওলগা তাকে আদর করতো ভীষণ। তাকে লিখতে পড়তে শিখিয়েছে। একশো পর্যন্ত গুনতে শিখিয়েছে। এমনকি তাকে নাচতে পর্যন্ত শিখিয়েছে। কিন্তু ভাঙ্কার মা যখন মারা গেলেন, ভাঙ্কার স্থান হলো তার দাদুর সাথে চাকরদের রান্নাঘরে। আর সেই রান্নাঘর থেকে এখন মস্কোতে জুতো কারখানায়।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;‘আপনি দয়া করে আসুন, দাদু,’ ভাঙকা আবার লিখতে শুরু করলো। ‘প্রভু যিশুর দোহাই, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। এই অমানুষগুলোর আচরণ আমাকে প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় আমি অনাথ-অসহায়। আমাকে ওরা ঠিকমতো খেতে দেয় না, দাদু। ক্ষুধার কষ্ট কী সেটা আমি আপনাকে বোঝাতে পারবো না। আরেকদিন মালিক আমাকে জুতো বানানোর ভারী ছাঁচ দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে, যার ফলে আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম। কুকুরের চেয়েও অধম এখানে আমার জীবন,দাদু। আলিওনা, গাড়োয়ান আর কানা ইয়েগোর্কাকে আমার শুভেচ্ছা দেবেন। আর আমার কনসার্টিনাটি কাউকে দেবেন না।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;ইতি,&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;আপনার আদরের নাতি&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;ইভান জুকভ&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;চিঠি শেষ করে ভাঙকা কাগজটা ভাঁজ করে খামের ভেতর ঢোকালো। গতকাল এক কোপেক দিয়ে খামটা সে কিনে এনেছিলো বাজার থেকে। সামান্য একটু ভেবে নিয়ে খামের ওপর ঠিকানা লিখলো সে:&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;b&gt;প্রাপক,&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;b&gt;দাদু&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;দু’হাতে মাথা আঁকড়ে ধরে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইলো ভাঙকা। তারপর আরো যোগ করলো: &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;b&gt;‘কন্সতান্তিন মেকারিচ।’&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;কাজ শেষ করে উল্লসিত হয়ে উঠলো ভাঙকা, কারণ চিঠি লেখার সময় কেউ তাকে দেখতে পায় নি। তাড়াতাড়ি ক্যাপটা পরে নিয়ে কোট ছাড়াই দৌড়ে বাইরে চলে এলো সে। কসাইখানার লোকটাকে একদিন জিজ্ঞেস করায় সে বলেছিলো, কোথাও চিঠি পাঠাতে হলে সেটা ডাকবাক্সে ফেলতে হয়। আর সেখান থেকে তা সারা দুনিয়ায় পাঠানো হয়। &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;ভাঙকা দৌড়ে কাছের ডাকবাক্সটির কাছে গেলো। ছোটো ফোকর দিয়ে চিঠিটা বাক্সের ভেতর ফেললো। ঘন্টাখানেক পরে খুশিমনে ভাঙকা ঘুমিয়ে পড়লো এই ভেবে যে, খুব শীঘ্রি দাদু তাকে নিয়ে যাবে এই নরক থেকে। ঘুমের ভেতর ভাঙকা স্বপ্ন দেখলো তার দাদু রান্নাঘরে চুলোর পাশে বসে পা নাড়াতে নাড়াতে চিঠিটা পড়ে শোনাচ্ছেন বাবুর্চিকে। আর দাদুর পাশে লেজ নাড়াতে নাড়াতে চক্কর দিচ্ছে দাদুর পোষা কুকুর ঈল।&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;.................&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi;"&gt;&lt;/span&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-8599541082595618581?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/8599541082595618581/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=8599541082595618581&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8599541082595618581'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/8599541082595618581'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2007/05/blog-post_18.html' title='বড়োদিনের চিঠি'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2184074313165012537.post-6662718654408816041</id><published>2006-06-25T19:33:00.001+04:00</published><updated>2008-06-26T02:02:05.788+04:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='E-Book'/><title type='text'>E-Books of Dean Koontz</title><content type='html'>&lt;a style="font-family: verdana;" href="http://mustakim78.googlepages.com/DeanKoontz-Midnight.lit"&gt;1. Midnight&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a style="font-family: verdana;" href="http://mustakim78.googlepages.com/DeanKoontz-Lightning.lit"&gt;2. Lightning&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a style="font-family: verdana;" href="http://mustakim78.googlepages.com/KoontzDean-TheBadPlace.lit"&gt;3. The Bad Place&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a style="font-family: verdana;" href="http://mustakim78.googlepages.com/KoontzDean-Hideaway.lit"&gt;4. Hideaway&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a style="font-family: verdana;" href="http://mustakim78.googlepages.com/DeanKoontz-DancewiththeDevil.lit"&gt;5. Dance With The Devil&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2184074313165012537-6662718654408816041?l=www.mustakimrahi.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://www.mustakimrahi.com/feeds/6662718654408816041/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2184074313165012537&amp;postID=6662718654408816041&amp;isPopup=true' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/6662718654408816041'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2184074313165012537/posts/default/6662718654408816041'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://www.mustakimrahi.com/2008/06/e-books-of-dean-koontz.html' title='E-Books of Dean Koontz'/><author><name>Mustakim Rahi</name><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='32' src='//lh4.googleusercontent.com/-qyuyS97wuXI/AAAAAAAAAAI/AAAAAAAAAAA/en_aOVKN9co/s512-c/photo.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>
